Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতি চারশোর মধ্যে অযোগ্য একজন, ফের যাচাই করে শুরু হবে টাকা ফেরত

রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রতি ৪০০ জনে ১ জন অযোগ্য চিহ্নিত হয়েছে। রাজ্য সরকার টাকা ফেরত নেবে। বিস্তারিত পড়ুন।

প্রতি চারশোর মধ্যে অযোগ্য একজন, ফের যাচাই করে শুরু হবে টাকা ফেরত
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে নতুন করে চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। এই প্রকল্পের উপভোক্তা বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। কিন্তু, পূর্বতন সরকারের আমলে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এই প্রকল্প। সেইসময় রাজ্যের কোষাগার থেকে সম্পূর্ণ খরচ করে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তাকে দেওয়া হয়েছিল বাড়ি তৈরির অনুদান। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলে দেওয়া এই ৩০ লক্ষের মধ্যে অযোগ্য প্রাপকদের চিহ্নিত করার নির্দেশও জারি করেছিল নবান্ন। তাঁদের চিহ্নিত করে টাকা ফেরত নেবে রাজ্য। সূত্রের খবর, প্রতি ৪০০ জনে একজন এমন প্রাপক পাওয়া গিয়েছে যাঁরা বাড়ি তৈরির অনুদান পাওয়ার যোগ্য নন। অর্থাৎ, পাকাবাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ঢুকে পড়েছিলেন বাড়ি তৈরির অনুদান পাওয়ার উপভোক্তা তালিকায়। পূর্বতন সরকারের আমলে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকাও ঢুকেছিল। 

Advertisement

প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, এই সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। হিসাব বলছে, ৩০ লক্ষের তুলনায় তালিকায় অযোগ্য উপভোক্তা ঢুকে পড়ার হার মাত্র ০.২৫ শতাংশ। এটাকে যেকোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রেই ‘হিউম্যান এরর’ বা ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু, সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম ভুল হওয়াটাও উচিত নয় বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। কারণ, সেইসময় জেলা প্রশাসন ছাড়পত্র দেওয়ার পরেই উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল। ফলে অযোগ্য হিসাবে চিহ্নিতদের তথ্য ফের যাচাই বা পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। ওই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই এমন উপভোক্তাদের থেকে অনুদানের অর্থ পুনরুদ্ধারের তৎপরতা শুরু হবে বলেই খবর। 
তবে অযোগ্য প্রমাণিতদের থেকে টাকা পুনরুদ্ধারের ঘটনা নতুন নয়। রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ ব্যক্তিকে অনুদান দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে থেকেও ১২০০ জন অযোগ্যকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তাঁদের থেকেও অনুদানের সম্পূর্ণ অর্থ সেইসময়ই ফেরত নিয়েছিল রাজ্য।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কাজ চলছে কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবহার করে। তবে পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্র টাকা না দেওয়ায়, রাজ্যকে নিজস্ব পোর্টাল চালু করে বাংলার বাড়ি প্রাপকদের যাচাই এবং অনুদান ছাড়ার কাজ করতে হয়েছিল। ফলত, রাজ্য স্তরে কোনো ফাঁক না-থাকলেও তৃণমূল স্তরে যাচাই চলাকালীন সামান্য হলেও ‘বেনোজল’ ঢুকে পড়েছিল। মত ওয়াকিবহাল মহলের। পূর্বতন সরকারের আমলের বাড়ি তৈরির অনুদান প্রাপক এমন ‘ভুয়ো উপভোক্তা’ চিহ্নিত করার জন্য যে বিশেষ সমীক্ষা শুরু হয়েছিল, তা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেক্ষেত্রে রাজ্য জোর দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পের নতুন উপভোক্তা বাছাই সংক্রান্ত সমীক্ষার কাজে। বেশ কয়েকদিন আগে এই সমীক্ষা শুরু হলেও মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার বাড়ি যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। এবার অনলাইনে সেলফ সার্ভের সুবিধা আছে। অনলাইন মাধ্যমেও আরো প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার আবেদন এসেছে। সেগুলিও যাচাইয়ের কাজ হবে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আবাস প্রকল্পের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নবান্ন। ফলে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে এই কাজে গতিবৃদ্ধির নির্দেশ গিয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। সমস্যা হল—কেন্দ্রীয় পোর্টালে কেবলমাত্র কাঁচা কিংবা পাকা বাড়ির উল্লেখ করা যায়। কিন্তু বহু লোকের বাড়ির দেওয়ালের সামান্য অংশ ইটে তৈরি, বাকিটা মাটির এবং মাথায় খড় কিংবা টিনের চালা। এমন ‘মধ্যবর্তী’ পরিস্থিতিতে কী করণীয়? বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছে নবান্ন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ