নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়ার নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক মদন রানাকে খুনের ঘটনায় এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে লিলুয়া থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে তার মামাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সে সেখানে গিয়ে বলেছিল, নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। ধৃতের নাম সানি মল্লিক। সে নানা ধরনের নেশায় আসক্ত। তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজেরও অভিযোগ রয়েছে। তবে মদন খুনে অভিযুক্ত স্বপন দাসকে পুলিশ রবিবার পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশের একাংশের অনুমান, পাকা অপরাধী স্বপনই খুনের ছক কষেছিল।
উত্তরপাড়ার থানার পুলিশ এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চায়নি। চন্দননগর কমিশনারেটের কর্তারা জানিয়েছেন, লিলুয়া থানার পুলিশের সাহায্যে গভীর রাতে সানিকে পাকড়াও করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক স্বপন দাসকেও খোঁজা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি বড়মাপের সমাজবিরোধী। পুলিশের একাংশের মতে, শুধুমাত্র পুজোর সময় নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে ছুটি না দেওয়া নিয়ে বিরোধের তত্ত্বটি সঠিক নয়। ওটা একটি কারণ হলেও, খুনের ঘটনার পিছনে অন্য বিষয় থাকতে পারে। কারণ, ঘটনার নৃশংসতা সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। ধৃত সানির কাছ থেকে অবশ্য একটি তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সানি জানিয়েছে, নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিক মদন রানা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। কথায় কথায় পরিবার তুলে অশ্রাব্য কথা বলতেন। সেখান থেকেই তাদের রাগ জমেছিল। সানির দাবি, সে ঘটনার সময় পাশে থাকলেও মূলত স্বপনই আঘাত করেছিল। খুনের পরিকল্পনা তারই ছিল। যদিও চন্দননগর কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, ওই যুবক সত্যি কথা বলছে, এমনটা আমরা মনে করছি না। সে ভয়ানক নেশাগ্রস্ত। হেরোইন, গাঁজার পাশাপাশি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক নিতে সে অভ্যস্ত। সানিকে আরও জেরা করা হবে। এই ঘটনায় নিজের দায় ঝেড়ে ফেলেছেন লিলুয়ার বাসিন্দা সানির মামা প্রবীণ লক্ষ্মণ মল্লিক। তিনি বলেন, ভাগ্নে ছুটিতে এসেছে বলে জানিয়েছিল। আমি ওর মা’কে বলেছিলাম, সানি আমার বাড়িতে এসেছে। ও সেখানে কী ঘটিয়ে এসেছে, তা জানতাম না। শনিবার রাতে যখন পুলিশ আসে, তখন আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে সব জানতে পারি।
শুক্রবার সকালে হুগলির উত্তরপাড়ার শান্তিনগরে নিজের নেশামুক্তি কেন্দ্রের ঘরেই খুন হন মালিক মদন রানা। অভিযোগ, দু’জন আবাসিক তাঁকে শিল-নোড়া দিয়ে থেঁতলে খুন করে। মূলত, বেলঘরিয়া ও বেলুড়ের বাসিন্দা সানি ও স্বপনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। ওই বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়েছিল অন্য দুই আবাসিক। পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের জখম করেছিল অভিযুক্ত দু’জন।