Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শহর থেকে কম্বোডিয়ায় সিম পাচার, গ্রেপ্তার এক

শহর থেকে কম্বোডিয়ায় সিম পাচার,  গ্রেপ্তার এক
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকা থেকে প্রচুর সিম চলে গিয়েছে সোজা কম্বোডিয়ায় সাইবার জালিয়াত চক্রের হাতে। সেগুলি ব্যবহার করেই দেশজুড়ে চলছিল প্রতারণা। সমস্ত রাজ্য থেকে বেশ কিছু নম্বরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে। সেখান থেকে জানা যায়, সিমগুলি কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকা থেকে ইস্যু করা হয়েছে। বিষয়টি কলকাতা পুলিসকে জানানোর পরই আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকার পয়েন্ট অব সেলিংয়ের (পিওএস) দায়িত্বপ্রাপ্ত সাজ্জাদ আনসারি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা। 

Advertisement

পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, বিভিন্ন পিওএস থেকে সিম চলে যাচ্ছে সাইবার জালিয়াতদের হাতে। মোটা টাকায় পিওএসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু ম্যানেজার তা বিক্রি করে দিচ্ছে। ভুয়ো নথি দিয়ে ইস্যু করা হচ্ছে সিমগুলি। একাধিক হাত ঘুরে সেগুলি কম্বোডিয়ায় বসে থাকা জালিয়াতদের হাতে চলে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগ থেকে দেখা যাচ্ছে, সাইবার জালিয়াতিতে যেসব সিম ব্যবহৃত হয়েছে, তার সিংহভাগই কলকাতার বিভিন্ন পিওএস থেকে ইস্যু করা হয়েছে। সেই কারণে পিওএসগুলির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে লালবাজার। শহরের কোন কোন পিওএস থেকে সিমগুলি সাইবার জালিয়াতদের হাতে গিয়েছে, তার তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় আমহার্স্ট স্ট্রিটের ওই পিওএসটির নামও ছিল। জানা যায়, এখান থেকে ৪০টির মতো সিম নানা হাত ঘুরে গিয়েছে কম্বোডিয়ায়। এরপরই পুলিস ওই পিওএস সেন্টারে হানা দিয়ে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে সাজ্জাদকে।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, তার কাছে মোবাইলের সিম নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির নথি জমা পড়ত। পরে সাজ্জাদ সেগুলি জাল করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে একাধিক সিম তুলত। এরপর তা মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিত সাইবার জালিয়াতদের। ক্যুরিয়ার মারফত সেইসব সিম পৌঁছে যেত কলকাতা সহ বিভিন্ন রাজ্যে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত বিগত তিন-চার মাসে সিম বিক্রি করে ৯ লক্ষ টাকা রোজগার করেছে। জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, একদিকে ব্যবসায়িক চাপ, অন্যদিকে টাকার লোভে সে ভুয়ো নথি দিয়ে সিম তুলে সাইবার প্রতারকদের বিক্রি করত। তার হাত দিয়ে কোনও সিম জঙ্গি গোষ্ঠীর স্লিপার সেলের মেম্বারদের হাতে গিয়েছে কি না, সেটাও পুলিস তদন্ত করে দেখছে। পাশাপাশি অন্য পিওএসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ