


সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল সহ বিভিন্ন আধিকারিকের নাম ব্যবহার করে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম তেলু মাঝি। দেওয়ানদিঘি থানার মাহিনগরে তার বাড়ি। বুধবার বিকেলে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিন বিভাগের কাছ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তদন্তে সহযোগিতা না করায় তাকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিশ।
ধৃতের কাছ থেকে প্রিন্সিপাল সহ কয়েকজন আধিকারিকের সই জাল করা নথিপত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। তার কাছ থেকে তিনটি টোকেনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে সরকারি চাকরি করে দেওয়ার টোপ দিয়ে বেশ কয়েকজনকে সে ঠকিয়েছে বলে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে পুলিশ। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজে এধরনের প্রতারণার ঘটনা এই প্রথম নয়, এর আগেও মেডিকেল ও হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ভিনরাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা প্রতারিত হয়েছেন। এমনকি, মেডিকেলে ভর্তির নামেও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের পাঁচদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন সিজেএম। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন বিভাগে চাকরি দেওয়ার নামে কয়েকজনকে ডেকে পাঠানো হয়। মেডিকেল কলেজের ভিতরেই চাকরি চক্র কাজকর্ম সারছিল। মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তারক্ষীরা বিষয়টি ধরে ফেলেন। তাঁরা ঘটনার কথা প্রিন্সিপালকে জানান। তেলু নিজেকে মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল সহ বিভিন্ন আধিকারিক এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে পরিচয় দেয়। মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন পদে চাকরি করে দেওয়ার টোপ দিয়ে কয়েকজনকে ডেকে পাঠায়। সে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়। বিষয়টি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আড়াল থেকে মোবাইলবন্দি করে। এরপরই কলেজের প্রিন্সিপাল বিষয়টি বর্ধমান থানায় জানান। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কেস রুজু করেছে থানা। মেডিকেল কলেজের এক কর্মী বলেন, অভিযুক্ত নিজেকে প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানায়। মেডিকেল কলেজের মধ্যেই সে জালিয়াতি চালাচ্ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মেডিকেল কলেজের ভিতরে এধরনের কাজকর্ম চলছে। এর শিকড় মনে হয় অনেক গভীরে।