নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: অবশেষে নাগাল মিলল দুষ্কৃতীর। জ্বলন্ত খড়ের গাদা থেকে দগ্ধদেহ উদ্ধারকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল হেমতাবাদ থানার পুলিস। ধৃতের নাম জাহেদুর রহমান (৩৩)। তিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য দোলেনা খাতুনের স্বামী তথা যুব তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি। তাই এই গ্রেপ্তারি নিয়ে এলাকায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
রায়গঞ্জ পুলিস জানিয়েছে, ঘটনায় জাহেদুর সহ আরও কয়েকজন জড়িত। লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই নৃশংস খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুন সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতকে সোমবার জেলা আদালতে হাজির করে পুলিস। আদালত ৬ দিনের জন্য পুলিস হেফাজতে পাঠিয়েছে।
এদিকে এখনও পুলিস নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না শুক্রবার রাতে হেমতাবাদের দক্ষিণ ধোঁয়ারইয়ের কার্যত নির্জন একটি খেতে বিট্টুকে কীভাবে খুন করা হয়। জ্যান্ত অবস্থায় নাকি অন্যত্র খুন করে ওই এলাকায় খড়ের গাদায় ফেলে জ্বালিয়ে মারা হয় তা নিয়ে ধন্দ কাটেনি। পুলিসের দাবি, ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। আপাতত মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। বেশকিছু তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জাহেদুরকে ধরা হয়েছে।
জাহেদুর জেরায় স্বীকার করেছে বিট্টু শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন। তাঁর কথাবার্তায় অসঙ্গতি মিলেছে। এছাড়াও ঘটনাস্থলের আশেপাশের এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখেই জাহেদুর ধরা হয় বলে জানিয়েছে পুলিস।
এক পুলিস আধিকারিকের কথায়, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, তার কয়েকশো মিটারের মধ্যে জাহেদুরের বাড়ি। ওই এলাকার নির্জনতার বিষয়ে জাহেদুর খুব ভালো করেই জানে। সেটাই বিট্টুকে খতম করার ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছে জাহেদুর।
বিট্টুর পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুধু বিট্টুর থেকে নয়, তাঁর স্ত্রী ও এক ভাইয়ের কাছেও মোটা টাকা ধার নিয়েছিল জাহেদুর। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা বিট্টু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের থেকে ধার নিয়েছিল সে। যা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে টালবাহানা করছিল। বিষয়টি নিয়ে বিট্টুর সঙ্গেও বিস্তর মনোমালিন্য হয়েছে আগে। কিন্তু টাকা ফেরাতে চাইছিল না জাহেদুর। এদিকে ঘটনায় জাহেদুর জড়িত নন বলে দাবি তাঁর স্ত্রী তথা বাঙ্গালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা দোলেনার। তাঁর কথায়, জাহেদুর অসুস্থ বলে বাড়িতেই ছিল। ওকে ফাঁসানো হয়েছে।
হেমতাবাদ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি আশরাফুল আলির কথায়, পুলিস তদন্ত করছে। আমরাও বিষয়টির দিকে নজর রাখছি।