Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ম্যাগাজিন

কোন কোন দিন নিরামিষ খেলে শরীর সুস্থ থাকবে?

মাছ-মাংস ত্যাগ করে নিরামিষাশী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? নিরামিষ খাবারের উপকারিতা অনেক, সন্দেহ নেই। তবে খাদ্যাভ্যাসের এই হঠাত্‍ বদলের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া জরুরি।

কোন কোন দিন নিরামিষ খেলে শরীর সুস্থ থাকবে?
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১৬:০৪
Prefer us on Google

মাছ-মাংস ত্যাগ করে নিরামিষাশী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? নিরামিষ খাবারের উপকারিতা অনেক, সন্দেহ নেই। তবে খাদ্যাভ্যাসের এই হঠাত্‍ বদলের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া জরুরি। নিরামিষ জাতীয় খাবার একধরনের সুষম খাদ্য। প্রকৃতির ক্রিয়া সব জীবের ওপর ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করে। আর এই প্রকৃতি ও গ্রহনক্ষত্রের প্রভাব প্রতিটি জীবের ওপর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতিগতভাবে সত্ত্বঃ, রজঃ তমঃ—এই তিন গুণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে অসামান্য গুরুত্ব। জ্যোতিষেও আছে দিন, বার অনুযায়ী খাদ্যগ্রহণে নানা সুফল। লিখেছেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

 

বার পালন, গ্রহশান্তি ও খাদ্যাভ্যাস

ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: সাধারণভাবে এটা তো সকলেরই জানা যে, খাদ্যের গুণাগুণ শরীরের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। প্রত্যেকেরই শরীরে খাবারের আলাদা আলাদা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সুস্থ মানুষ যা খায় অসুস্থ বা বিশেষ কোনও অসুখে ভোগা লোকের পক্ষে একই খাবার চলে না। তাই পথ্য ও অপথ্য এই দুটি বিভাজন আছে খাবারের তালিকায়। কারও কঠিন খাদ্য শরীরে যেমন সাযুজ্য রক্ষা করে একই খাবার অন্যের পক্ষে অসহনীয়। যেমন ফাস্টিং স্থূলতা হ্রাসে সহায়ক হলেও সুগার কিংবা পেটের সমস্যায় তা ক্ষতিকর।
বলা হয় প্রকৃতির ক্রিয়া সকল জীবের ওপর ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করে। আর এই প্রকৃতি ও গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব প্রতিটি জীবের ওপর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতিগতভাবে সত্ত্বঃ, রজঃ তমঃ—এই তিন গুণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে অসামান্য গুরুত্ব। জ্যোতিষেও আছে দিন, বার অনুযায়ী খাদ্যগ্রহণের নানা বিধান। মোটকথা শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ করাটাই আসল উদ্দেশ। 
এবার সরাসরি চলে যাই পুরাণকথায়। দেখা যাচ্ছে একে অন্নগত প্রাণ তার ওপরে কামনা-বাসনায় জর্জরিত সংসারী মানুষের কষ্টের শেষ নেই। ত্রিতাপ জ্বালায় হাড় ভাজা ভাজা হওয়ার উপক্রম। এই জটিল অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য তারা ঋষিদের শরণাপন্ন হলেন। করজোড়ে ঋষিদের বলল, ‘আপনারা আমাদের রক্ষা করুন। দীর্ঘজীবন দান করুন।’
ঋষিমুনিরা বললেন, ‘আমরা তো মুক্তির পথ দেখাতেই পারি। কিন্তু তোমাদের রক্ষা করতে পারব না। তোমাদের রক্ষা করতে পারেন দেবতা।
ঋষিবাক্যে বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ দেবতাদের স্তবস্তুতি করতে লাগল। দেবতারা তুষ্ট হয়ে তাদের ইচ্ছার কথা জানতে চাইলেন।
মানুষ তখন কাতর কণ্ঠে দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করল তাদের বহুকাঙ্ক্ষিত বাসনা—‘প্রভু, আপনারা স্বল্প আয়ু অল্প বুদ্ধি মানুষের প্রতি প্রসন্ন হন। আমাদের সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করুন। আমাদের দীর্ঘজীবন দান করুন।’
তখন দেবতারা বললেন, ‘আমরা কীভাবে তোমাদের রক্ষা করতে পারি তা বল। আমরাও তো তপস্যা করি চিরমুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে।’
মানুষ আবার কাতর প্রার্থনা জানাল, ‘আপনারা এভাবে বিমুখ করবেন না। দেবতা ও ঋষি সবাই যদি আমাদের প্রত্যাখ্যান করেন, তা হলে আমরা কোথায় যাব! কে আমাদের রক্ষা করবেন!’
তখন দেবতারা বললেন, ‘তোমরা অস্তিত্ব লোপের ভয়ে ভীত হয়ো না। তোমাদের অন্তরস্থিত ‘ধী’ শক্তি তোমাদের রক্ষা করবেন।’
প্রশ্ন জাগে এই ‘ধী’ কী?
এই ‘ধী’ হল সাধারণ সংসারী মানুষ, ঋষিমুনি, দেবতা সকলের ‘ধী’ শক্তি;—‘ধিয়ং পূষা...’ এই ‘ধী’ সবিতা সূর্যের দীপ্তিতে দীপ্যমান হয়ে সকলের হৃদয় আকাশে পরমতপ হয়ে বিরাজ করে। সবিতার মঙ্গলময় ও পরম কল্যাণময় তাপ শক্তির তপস্যাই হল ‘ধী’। মানুষের মনের গহন অন্ধকার অমৃতময় দিব্য জ্যোতিতে পূর্ণ হয় সবিতা বা সূর্যের দ্বারা। তিনি ‘ভূঃ ভুবঃ স্বঃ—ত্রিলোকের দেবতা। তাঁর তেজে জগৎ আলোকময়। তাঁর পূণ্যতপ তেজে দেবতা, ঋষি ও মানুষ পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়। তাই সূর্যকে বলা হয় ‘সূর্য নারায়ণ’।
শুদ্ধি দীপিকা গ্রন্থ মতে সৃষ্টি যখন হয়নি তখন এই বিশ্বসংসার ঘন অন্ধকারে ঢাকা ছিল। সেই সময় পরমপুরুষ শ্রীভগবান স্থাবর জঙ্গমাত্মক জগৎ সংসার, মেষসহ বারোটি রাশি, সাতটি গ্রহ ও অশ্বিনী প্রভৃতি নক্ষত্র সৃষ্টি করে নিজে সূর্য নামে প্রকাশিত হয়েছিলেন। তাই সব গ্রহ ও রাশির উৎপত্তি সূর্য থেকেই। ‘তমস্তোমাবৃতে বিশ্বে জগদেতচ্চরাচরম্‌। রাশি গ্রহোভু-সঙ্ঘাতং সৃজন্‌ সূর্য্যোহভবত্তদা।’ তবে এর বিরুদ্ধ মতও আছে।
মানুষের ‘সু’ বা ‘কু’ প্রবৃত্তিই ফল ভোগের কারণ:
মোটামুটিভাবে মানুষের ভালোমন্দ সময় নির্ণয়কারী শাস্ত্র হল জ্যোতিষ। সব গ্রহই মানুষকে সুফল দিতে পারে—সে রাহু, কেতু, শনি যে কেউই হন না কেন। আবার সব গ্রহই মানুষকে কুফল দিতে পারে। তিনি রবি, চন্দ্র, বৃহস্পতি, যেই হন। রাশিচক্রে গ্রহের স্থান বিচার এই ভালো বা মন্দ ফল আমরা ভোগ করে থাকি। মানুষের রাশিচক্রে এই গ্রহাবস্থান নির্ধারিত হয়। তার প্রাক্তন কর্মফলের ওপর ভিত্তি করে। মানুষের কর্মফল দুই প্রকার—দৃঢ় কর্মের ফল ও অদৃঢ় কর্মের ফল। দৃঢ় কর্মফলকে বলে বিধির বিধান বা বিধি নির্দেশিত ফল বা নিয়তি। আর অদৃঢ় কর্মফল হল বিধির অনির্দেশিত ফল। এই দুই প্রকার ফলকে ভোগ করতেই হয়, যতক্ষণ না তার ভোগকাল শেষ হচ্ছে, এক জন্মে না হলে জন্ম জন্মান্তরে।
এই জন্য শাস্ত্রীয় নিয়ম হল অশুভ ফল ভোগের সময় বিশেষ কর্ম থেকে বিরত থেকে সময় কাটাতে হয়। ঠান্ডা মাথায় অস্থিরতা দমন করে ঈশ্বরের স্মরণ মনন করাই শ্রেয়। এতে ঈশ্বরের প্রসন্নতায় কর্মফল হ্রাসও হতে পারে। মা সারদা দেবীর কথায়ও এই বাক্যের সমর্থন মেলে—যেখানে পা কেটে বাদ যাওয়ার কথা তাঁর নাম করলে সেখানে আলপিন ফুটবে। অর্থাৎ ঈশ্বরের নামে দৃঢ় কর্মফলও হ্রাস পায়।
আর যখন শুভ কর্মের ফলভোগ হয় তখন সৎকর্ম, সদানুষ্ঠানে অর্থ খরচ, দান-তপ-যজ্ঞাদির দ্বারা পুণ্য সঞ্চয় করতে হয়। যা তার ইহকাল পরকালের পাথেয়।
এবার জেনে নেওয়া যাক রাশি ও নক্ষত্রের চরিত্র
সমগ্র রাশিচক্রকে বারোটি ভাগে ভাগ করা হয়। এক একটি ভাগে হল এক একটি রাশি—মোট বারোটি পৃথক রাশি। মেষ রাশি, বৃষ রাশি, মিথুন রাশি, কর্কট রাশি, সিংহ রাশি, কন্যা রাশি, তুলা রাশি, বৃশ্চিক রাশি, ধনু রাশি, মকর রাশি, কুম্ভ রাশি ও মীন রাশি। এই দ্বাদশটি রাশির মধ্যে একমাত্র শ্রীভগবানের অধিষ্ঠান মকর রাশিতে। তাই মকর রাশি হল সর্বশ্রেষ্ঠ রাশি। গীতায় শ্রীভগবানই এ কথা বলেছেন, ‘ঋষাণং মকরশ্চাম্মি...।’
উক্ত বারোটি রাশির অধিপতি হলেন সাতটি গ্রহ। সূর্য বা রবি-সিংহ রাশি ও চন্দ্র কর্কট রাশির অধীশ্বর। বাকি পাঁচটি গ্রহ দুটি করে রাশির অধিপতি। মঙ্গল মেষ ও বৃশ্চিক, শুক্র বৃষ ও তুলা, বুধ, মিথুন ও কন্যা, বৃহস্পতি ধনু ও কুম্ভ আর শনি মকর ও কুম্ভরাশির অধীশ্বর। স্বরূপগতভাবেও রাশিগুলির বহু পৃথকত্ব আছে। যেমন কেউ চর, কেউ স্থির, কেউ অগ্নি...
নক্ষত্রাদি:
বারোটি রাশির সাতাশটি নক্ষত্র আছে। এদের প্রত্যেকের আলাদা দেবতা। এই সাতাশটি নক্ষত্র ও তাঁদের দেবতারা হলেন—অশ্বিনী নক্ষত্র, দেবতা অশ্বিনীকুমারদ্বয়। এভাবে যথাক্রমে ভরণীর যম, কৃত্তিকা—অগ্নি, রোহিণী—ব্রহ্মা মৃগশিরা— চন্দ্র, আদ্রা—রুদ্র বা মহাদেব, পুনর্ব্বসু—অদিতি, পূর্য্যা—বৃহস্পতি, অশ্লেষা—সর্প, মঘা—সপ্তর্ষি, পিতৃগণ, পূর্বফাল্গুনী—ভগ, দ্বাদশ সূর্যের অংশ উত্তরফাল্গুনী—অর্য্যমা, ইনিও দ্বাদশ সূর্য্যের অংশ, হস্তা—রবি, চিত্রা—বিশ্বকর্মা, স্বাতী—পবন, বিশাখা—ইন্দ্রাগ্নি, অনুরাধা—মিত্র, দ্বাদশ সূর্যেরই একটি অংশ, জ্যেষ্ঠা—ইন্দ্র, মূলা—নিঋতি বা রাক্ষস, পূর্ব্বাষাঢ়া—বরুণ বা জল, উত্তরাষাঢ়া—বিশ্বদেব, শ্রবণ। বিষ্ণু, ধনিষ্ঠা—অষ্টবসু, শতভিষা—বরুণ, পূর্বভাদ্রপদ—অজস্পাৎ, দ্বাদশ সূর্যের অংশ, উত্তরভাদ্রপদ—অহিব্রধ্ন, দ্বাদশ সূর্যের অংশ, রেবতী—পূষা-ইনিও দ্বাদশ সূর্যের অংশ।
নক্ষত্রগুলির তারার সংখ্যা, আকৃতি, উদিত লগ্ন পৃথক পৃথক। যেমন-
অশ্বিনী নক্ষত্র— তিনটি তারা-অশ্বমুখের মতো-উদয় লগ্ন কর্কট।
ভরণী নক্ষত্র— তিনটি তারা-সদৃশ-উদয় লগ্ন কর্কট।
কৃত্তিকা নক্ষত্র- ছয়টি তারা-ক্ষুরাকৃতি বা অগ্নিশিখা-উদয় লগ্ন সিংহ।
রোহিণী নক্ষত্র— ৫টি তারা-শকটাকৃতি-উদয় লগ্ন সিংহ।
মৃগশিরা নক্ষত্র— ৩টি তারা-মৃগমস্তক সদৃশ-উদয় লগ্ন কন্যা।
আদ্রা নক্ষত্র— একটি তারা-উজ্জ্বল মণির মতো-উদয় লগ্ন কন্যা।
পুনর্বসু নক্ষত্র— পাঁচটি তারা-গৃহাকৃতি বা শরাসনাকৃতি- উদয় লগ্ন তুলা।
পুষ্যা নক্ষত্র— একটি তারা-বাণ সদৃশ-উদয় লগ্ন তুলা।
অশ্লেষা নক্ষত্র— পাঁচটি তারা-চক্রের মতো বা কুকুরের লেজ সদৃশ-উদয় লগ্ন তুলা।
মঘা নক্ষত্র— পাঁচটি তারা-লাঙ্গল বা প্রাচীরবেষ্ঠিত গৃহের মতো-উদয় লগ্ন বৃশ্চিক।
পূর্বফাল্গুনী নক্ষত্র— দুইটি তারা-খট্টাকৃতি-উদয় লগ্ন বৃশ্চিক।
উত্তর ফাল্গুনী নক্ষত্র- দুইটি তারা-পালঙ্কের মতো-উদয় লগ্ন ধনু।
হস্তা নক্ষত্র— পাঁচটি তারা-হস্তাকৃতি-উদয় লগ্ন ধনু।
চিত্রা নক্ষত্র— একটি তারা-মুক্তোর মতো-উদয় লগ্ন মকর।
স্বাতী নক্ষত্র— একটি তারা-প্রবাল আকৃতির-উদয় লগ্ন মকর।
বিশাখা নক্ষত্র— পাঁচটি তারা-কাষ্ঠ সদৃশ-উদয় লগ্ন কুম্ভ।
অনুরাধা নক্ষত্র— সাতটি তারা-সর্পাকৃতি মতান্তর আছে- উদয় লগ্ন কুম্ভ।
জ্যেষ্ঠা নক্ষত্র— তিনটি তারা- শূকর দন্ত বা কর্ণভূষণ সদৃশ-উদয় লগ্ন কুম্ভ।
মূলা নক্ষত্র— নয়টি তারা- শঙ্খাকৃতি বা ক্রুদ্ধ সিংহের লেজ -উদয় লগ্ন মীন।
পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্র—চারটি তারা-খট্টাকৃতি বা সূর্পাকৃতি-উদয় লগ্ন মীন।
উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র— চারটি তারা-হাতির দাঁতের মতো- উদয় লগ্ন মীন।
অভিজিত নক্ষত্র— তিনটি তারা-পানিফল সদৃশ। 
শ্রবণা নক্ষত্র— তিনটি তারা-পাদত্রয় সদৃশ-উদয় লগ্ন মেষ।
ধনিষ্ঠা নক্ষত্র— পাঁচটি তারা-মৃদাঙ্গা সদৃশ-উদয় লগ্ন মেষ।
শতভিষা নক্ষত্র— একশোটি তারা-বৃত্তাকার-উদয় লগ্ন বৃষ।
পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্র— দুইটি তারা-মনুষ্যাকৃতি দ্বিমস্তক- উদয় লগ্ন বৃষ।
উত্তর ভাদ্রপদ নক্ষত্র— দুইটি তারা-পালঙ্ক সদৃশ-উদয় লগ্ন মিথুন।
রেবতী নক্ষত্র— বত্রিশটি তারা-মৎস্য বা মৃদঙ্গ সদৃশ-উদয় লগ্ন মিথুন।
নবগ্রহের পরিচয়
ভারতীয় ফলিত জ্যোতিষশাস্ত্রে নয়টি ও পাশ্চাত্য ফলিত জ্যোতিষে দশটি গ্রহের পরিচয় পাওয়া যায়। ভারতের জ্যোতিষশাস্ত্রের নয়টি গ্রহ হল— রবি, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু আর কেতু। পাশ্চাত্য জ্যোতিষে প্রথম সাতটি গ্রহের সঙ্গে হার্শেল, নেপচুন ও প্লুটোকে ধরে দশটি।
রবি: রবির তেজ ও শক্তি থেকে জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি পিতৃ কারক ও অফুরন্ত সৃজনী শক্তির আধার। আত্মার পরিপুষ্টি ও সবলতা প্রদানকারী গ্রহ। সাতটি রশ্মি দিয়ে রবি গ্রহদের পোষণ করে গ্রহসংসারকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছেন। তাঁর সাত রশ্মি হল— সুষুষ্মা, হরিকেশ, বিশ্বকর্মা, বিশ্বশ্রবা, সংযদ্‌বসু, অর্ব্বাবসু এবং স্বর। এই রশ্মি দ্বারা পোষণ হচ্ছে যথাক্রমে চন্দ্র, নক্ষত্র, বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শনি। তাঁর সহস্র রশ্মিকণা সব স্থানে সব জীবনের প্রাণ রক্ষা করছে।
রবি ক্ষত্রিয় পুরুষকারক ও সত্ত্বগুণী। প্রকাশধর্মী ও দৃষ্টিশক্তির কারক। রক্তাভ শ্যামবর্ণ, ওজঃ ধাতু, অগ্নি প্রকৃতি, আত্মা, জ্ঞানশ্রেষ্ঠ, পষ্টুমতি। প্রভাবশালী, রক্ত পিত্তপ্রকৃতি, সাহস রোগমুক্তি, রাজসদৃশ সম্মান অগ্নিতত্ত্ব, বেদান্তদর্শনে জ্ঞানের প্রতীক।
চন্দ্র: পৃথিবীর ওপর রবির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারকারী কার্যকর গ্রহটি হল চন্দ্র। চন্দ্রের পুষ্টিবর্ধন হয় রবির সুষম্মা রশ্মির দ্বারা এবং পৃথিবীর জীবজগৎ পুষ্টি লাভ করে চন্দ্র কিরণে। তাই চন্দ্রকে বলা হয় মাতৃকারক গ্রহ। মহর্ষি জৈমিনির মতে চন্দ্রদেব ষড়রিপু ও মনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। আত্মা ও মনের মধ্যে সেতু বন্ধন করেন অর্থাৎ পুরুষ ও প্রকৃতির মিলনজ্ঞানে মানুষের স্যাংখ্যযোগের উন্নতি সাধন করেন। ‘চন্দ্রেণ সাংখ্যযোগজ্ঞ সাহিত্যজ্ঞো গায়কশ্চ।’
চন্দ্র কল্পনা কারক গ্রহ। সঙ্গীতকলা, গীতবাদ্য, সাহিত্য, নৃত্য, পূর্ণ মধুর মাতৃত্বের বিকাশে আদর্শ মা, গৃহিণী হওয়া মনের ভাবুকতা, উদারতা— সবই চন্দ্রের দান। স্বরূপগতভাবে চন্দ্র গৌরবর্ণ শোভন দু’চোখ বিশিষ্ট শান্তমূর্তি; বাগ্মী ও মধুরভাষী, নির্মল বুদ্ধি মেধাবী। চন্দ্রের গতি মানুষের মনের গতি, আবেগ ও ভাবপ্রবণতা ও সাংসারিক ঘাতপ্রতিঘাতে সততক্রিয়া করে। চন্দ্র বৈশ্য ও সত্ত্বগুণী।
মঙ্গল: পৃথিবীর ওপর তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারকারী গ্রহটি হল মঙ্গল। ‘জ্যোতিষসংহিতা’ অনুসারে মঙ্গল গ্রহটির পাঁচ ধরনের গতি আছে— উষ্ণ, অশ্রুমুখ, ব্যাল, রুধিরানন, নিস্ত্রিংশমুশল। মঙ্গলের বিভিন্ন নামের মধ্যে একটি হল বক্র। সংসদবসু নামক রবিবশ্মিই মঙ্গলের পুষ্টি সাধন করে। ভারতীয় ফলিত জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গল দেবসেনাপতি। আর পাশ্চাত্য মতে রণদেবতা। মঙ্গল একদিকে বীরভাবের আর অন্যদিকে উত্তেজনাময় পশুভাবের কারক।
বর্তমানকালের নিরিখে মঙ্গলের দ্বারা নির্দেশিত ক্ষেত্রগুলি হল রাসায়নিক, শল্যচিকিৎসা, পুলিস- সামরিক বিভাগ, বিদ্যুৎ সংক্রান্তকর্মাদি। মহর্ষি জৈমিনির মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কিত উক্তি আজও প্রাসঙ্গিক— রসায়ন বিদ্যা, যুদ্ধ বিদ্যা, অগ্নিসংযোগকারী হল মঙ্গল।— ‘ধাতুবাদী কৌন্তায়ুধো বহ্নিজীবী চ ভৌমে’ মঙ্গল হলেন পুরুষ, ক্ষত্রিয় ভাবাপন্ন ও রজস্তমঃ গুণ সম্পন্ন। মঙ্গলের মধ্যে ক্ষমতার দম্ভ ও অহঙ্কার সদা প্রকৃতিগতভাবে থেকে যায়।
বুধ: ‘বুধ’ শব্দে বুদ্ধির প্রকাশ। রবির বিশ্বকর্মা রশ্মি দ্বারা বুধের পুষ্টি লাভ হয়ে থাকে। চন্দ্রসুত, জ্ঞেয়, বিবুধ, কুমার, রাজপুত্র, তারাপুত্র, বিবুধ প্রভৃতি বহু নামধারী বালক গ্রহ হলেন বুধ। লেখক, কবিত্বশক্তি, কলা-গণিত-জ্যোতিষ-আইন-ভৈষজ্য-অর্থবিজ্ঞান প্রভৃতি শাস্ত্রে বুধের জুড়ি মেলা ভার। বালক গ্রহ। তাই ক্রীড়াপ্রেমী ও ক্রীড়া পটু। অন্য গ্রহের সংযোগে নিজের ভাব প্রকাশ করে। স্বরূপগত পরিচয়ে বুধ হলেন রাজপুত্র, রাজদূত। তাঁর রক্তবর্ণের আয়তলোচন, মধ্যমাকৃতি শ্যামবর্ণ, ত্বকসার সাধারণ রূপের। তিনি রজোগুণী, স্পষ্টভাষী। বাক্যে শ্লেষ্মা জড়িয়ে থাকে। শরৎ ঋতুর কারক। বুধ জাতিতে বৈশ্য। রজোগুণী ও ক্লীব। পৃথ্বীতত্ত্বের অধিকারী, বায়ু প্রধান— এই বায়ু শরীরের নীচের দিকে প্রবহমান আপন বায়ু। সোনা ও মরকত তাঁর প্রীতি বর্ধন করে।
বৃহস্পতি: বেদের ভাষ্যকার সায়নাচার্য বৃহস্পতি শব্দের অর্থে বলেছেন— বেদে বৃহস্পতি যজমানের মঙ্গলকামী পুরোহিত আর দেবতাদের কাছে তিনিই আবার যজমানের প্রতিনিধি— তাই তিনি দেবগুরু। বৃহস্পতির বহু নাম—দেবগুরু, জীবন, বাচস্পতি, অঙ্গিরা, ঈজ্য প্রভৃতি। ঋগ্বেদে তিনি পুষ্টিবর্ধক, ওষধিসমূহের জনক। মহর্ষি পরাশর বৃহস্পতিকে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার মানসপুত্র বলেছেন। তিনি সর্বজ্ঞ, বেদবেদাঙ্গ ব্যাকরণ বিদ, সর্বশাস্ত্রেই প্রাজ্ঞ। তবুও তিনি আত্মার পরম জ্যোতিতে ধ্যানমগ্ন মৌন মহাসাধক। প্রাজ্ঞ চক্ষুদ্বারা সব বিষয় জানতে পারেন। সঠিক মার্গের হদিশ দিতে— অপরের জ্ঞানের চোখ খুলে দিতে পারেন। বৃহস্পতির প্রদত্ত জ্ঞানে মোক্ষের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
বৃহস্পতি মহাযোগী, তপস্বী, আত্মবাদী, আচার্যদেব। তিনি ব্রাহ্মণ, পুরুষ ও সত্ত্বগুণ সম্পন্ন। আকাশ তত্ত্ব। 
বায়ু: প্রাণবায়ু যা হৃদয়ে, নাভিমূলে ও নাসিকায় প্রবাহিত। তাঁর দুই চোখ পিঙ্গল বর্ণের, খর্বাকৃতি বৃহৎ দেহ, বিশাল ও উন্নত বক্ষ, গৌরবর্ণ। বিশ্বমানবতা ও ধনসৌভাগ্যের মূর্ত প্রতীক হলেন বৃহস্পতি।
শুক্র: শুক্র অর্থে শুচিতা, নির্মলতা, দীপ্তি। শুক্লবর্ণ ও নির্মল দীপ্তিপূর্ণ গ্রহ শুক্র পুরাণ মতে জলময়। অসুরাচার্য, স্ফুজিত, সুখী, ভার্গব, উশনা, কবি প্রভৃতি বহু তাঁর নাম। শুক্রাচার্যের প্রভাবে মানুষের হৃদয় রসময়, কামনাপূর্ণ— কারণ তিনি উশনা। বাইরের চর্মচক্ষু দ্বারা দৃষ্ট, বাহ্যিক সকল ভোগ বিলাসে সৌন্দর্যের অধীশ্বর হলেন তিনি। তাঁর কাছে নির্বাক জ্ঞানে আনন্দ নেই, তাই তা অর্থহীন রুক্ষ মরুভূমি তুল্য। সাহিত্য-সঙ্গীত-কাব্য-বাক্যের মাধুর্য, সুকণ্ঠ, ইন্দ্রিয় চেতনা জাগ্রত করা, রসবোধ, ঐশ্বর্যভোগ, সৌন্দর্যচেতনা, বিজ্ঞানে নতুন নতুন আবিষ্কার, জ্ঞানবিকাশ প্রভৃতি সবই শুক্রের দান।
দীর্ঘ সুন্দর বাহু, স্থূল ঊরু, গোলমুখ, বীর্যাধিক্য শরীর, নীলবর্ণ, সূক্ষ্ম ও গাঢ় কুঞ্চিত কেশাগ্র, অপরূপ শ্যামবর্ণের নিতম্ব, ক্ষমাপ্রিয় শোভন দুটি নয়ন, মন্থরগামী, অসীম বুদ্ধিমান, জ্ঞানী, কামাদি শিরোমণি, রজোগুণী, বাত শ্লেষ্মা প্রকৃতি জলতত্ত্ব। বসন্ত ঋতু ও শয়নকক্ষে তাঁর প্রভাব প্রবল। তিনি ব্রহ্মণ। অনিমাদি অষ্ট ঐশ্বর্যময়। তাঁর প্রসন্নতা ছাড়া অষ্টসিদ্ধি লাভ হয় না।
শনি: শনিদেবের অনেক নাম আছে—মন্দ, সৌরি, শৌরি, রবিসুত, ছায়াসুত, মন্দ, পঙ্গু, কাল, কৃষ্ণ প্রভৃতি। ব্যাসদেবের মতে শনির বর্ণ নীল। আবার ভোজরাজের মতে অসিতবর্ণ। শনি আত্মার ধ্বংসকারক, তাই তিনি ক্রুরাত্মা। ধ্বংসের কারক তমোগুণী। সূর্যের স্বর নামের রশ্মি থেকে শনির পুষ্টিলাভ। শনিদেব মহাতপস্বী, ন্যায়বাণ, ত্যাগ, তিতিক্ষার মূর্ত প্রতীক। তিনি প্রদেয় অপাত্রে দেন না। তাঁর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাকে তিনি রাজ ঐশ্বর্যও দান করেন। তাঁর মনোবৃত্তি কঠোর, কর্মের একাগ্রতা ও পরিশ্রম ক্ষমতা তুলনাহীন। ষড়রিপুর তামসিক প্রভাবকে তিনি কালভৈরবরূপে সংহার করেন।
প্রকৃতি ও স্বরূপগতভাবে শনিদেবের দুটি নয়ন কোটরগত। তিনি কৃশ, দীর্ঘাঙ্গ, শিরা-সার দেহ। বাত ও বায়ু প্রকৃতি যুক্ত। অলস, খলস্বভাব, মূর্খ। স্থূল দন্ত ও নখ বিশিষ্ট। আবার তিনি আচার-শিষ্ঠাচারী ত্যাগী, কান্তিহীন, উপেক্ষাপ্রিয়, বৃদ্ধভাবাপন্ন। দারিদ্র, ভিক্ষুক, আবর্জনাময় স্থান, শীত ঋতুতে তাঁর প্রভাব বেশি। তিনি নির্জনে বাস করতে ভালোবাসেন। শনিদেব বিধর্মী। ইন্দ্রনীলমণি, কয়লা তাঁর প্রিয়। তাঁর উদান বায়ু যা অস্থি সন্ধিগত বাত ও হিক্কার সৃষ্টি করে। তাঁর কৃপায় অদ্বৈতজ্ঞান ও সন্ন্যাস লাভ হয়।
রাহু: রাহু লোকশ্রুতিতে ছায়া ও জ্যোতিষে চন্দ্রপাত। মহর্ষি পরাশর, বেদব্যাস, জৈমিনি রাহু ও কেতুকে গ্রহের আসন দিয়েছেন। রাহুর ভোগবাসনা উৎকট-তাঁর বাসনা অসীম, কোনও কিছুতেই আশ মেটে না। আরও আরও চাই। অতৃপ্ত দৈহিক ক্ষুধা ভোগের চরমে পৌঁছেও শান্তি পায় না। রাহুর পথ কখনও সোজা হয় না, সব সময় সে বক্রপথেই যায়। রাহু ইন্দ্রিয় নির্ভর। ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে কামনা বাসনার দিগন্তহীন সমুদ্রে বিপরীত নিয়মে সাঁতরে চলেছে। শাস্ত্রকারদের কথায় রাহু চণ্ডাল গ্রহ। শঠতা, চালবাজি তার ধর্ম। এসবের মধ্য দিয়ে রাতারাতি কুবেরের ঐশ্বর্য দিলেও তা ক্ষণস্থায়ী। পরক্ষণে পথের ভিখারীও হয়ে যায়। তবে স্বকীয় দুঃখের মধ্যেও তার আক্ষেপ থাকে না। সে স্থির ভাবে আর সুযোগের অপেক্ষা করে।
কেতু: কেতু গ্রহ রহস্যপূর্ণ। রাহুর মতোই কেতুরও বক্রগতি। সরল, অতিচারী, গতি বা বাল্য, বৃদ্ধ কোনও অবস্থা হয় না। কেতুর কোনও দৃষ্টি নেই, চক্ষুহীন। জৈমিনি প্রমুখের মতে কেতু মুক্তিকারক গ্রহ। বহিঃপ্রকাশহীন অভাবনীয় আত্মশক্তির আধার কেতু। তন্ত্রমন্ত্রগুপ্তবিদ্যা, আধ্যাত্মিক ক্ষেত্র। সর্বোচ্চ পর্যায়ের গণিত শাস্ত্র প্রভৃতি ক্ষেত্রে কেতুর জ্ঞান, দক্ষতা ও শক্তি অতুলনীয়। ক্রোধিত কেতুর মধ্যে প্রলয়ঙ্কর অগ্নিতেজ কাজ করেন। তাঁর ন্যায্য অধিকারে আঘাতকারীকে বিষধর সাপের মতো দংশন করে যমলোকে পাঠিয়ে দেন। কেতু রহস্যময় বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে। তিনি ত্যাগী। তাঁর তপস্যা, তিতিক্ষা, ব্রহ্মজ্ঞান, দর্শনে পারদর্শী। শত্রুর কাছে তিনি সাক্ষাৎ কাল।
নানান সমস্যায় গ্রহের ভূমিকা:
আমাদের জীবনে সাফল্য-ব্যর্থতা, সুখ-দুঃখের আসা-যাওয়া লেগেই থাকে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে মানুষের এইসব ঘটনা-অবস্থা বা ফলপ্রাপ্তি হয় গ্রহের অলঙ্ঘনীয় প্রভাবে। মানুষ তার জীবনে সুখ-দুঃখের মধ্য দিয়ে গ্রহপ্রদত্ত ফলাদি ভোগ করে। গ্রহের ফল গ্রহের অবস্থাদি অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বর্ষিত হয়। আলোচ্য প্রবন্ধে  কোন গ্রহের প্রভাবে মানুষের জীবনে চলার পথে কী কী সমস্যা হয় তা বর্ণনা করা হল।
রবি: সম্মান, প্রতিপত্তি, প্রতিষ্ঠা পরিপূর্ণতার পথে বাধা বা অপ্রাপ্তি; অপযশ বা অপ্রত্যাশিত অপমান, চরম গ্লানিকর অপমানের সম্ভাবনা, উচ্চপদস্থ সরকারি বা বেসরকারি কর্মীদের সব ধরনের নিরাপত্তার অভাব, অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক বা রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া; জনখ্যাতিতে বাধা; দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, দুরারোগ্য ক্ষত বা সুস্বাস্থ্যের অভাব প্রভৃতি সমস্যা মানুষ কুপিত রবির প্রভাবে পেয়ে থাকে। মস্তিষ্কের রোগও রবির দান।
চন্দ্র: চন্দ্রের জন্যও মানুষের অনেক সমস্যা হয়। লেখাপড়ায় পড়ুয়াদের মন না বসা, প্রেম-প্রণয়ে নিত্য মতান্তর-অশান্তি, হঠাৎ হঠাৎ রাগ বা ঝগড়ুটে মনোভাব, প্রচণ্ড মাথার যন্ত্রণা, সব ধরনের স্ত্রীরোগ, অসাড়ে প্রস্রাবের সমস্যা; অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক বা রাজনৈতিক উন্নতিতে বাধা, পতি-পত্নীর কলহ ও পারস্পরিক সন্দেহ প্রবণতা; কর্মস্থলে সদা অশান্তি; চেষ্টা সত্ত্বেও ব্যয়বৃদ্ধি আটকাতে না পারা; রাজনৈতিক নেতৃত্বপ্রদান বা বিশেষ উচ্চপদ প্রাপ্তিতে বাধা, শ্লেষ্মা-হাঁপানির সমস্যা, বাবার সঙ্গে মেয়ে ও মার সঙ্গে ছেলের সুসম্পর্কের অভাব, সদা মানসিক অশান্তিতে ভোগ-শান্তির অভাব প্রভৃতি।
মঙ্গল: মঙ্গলের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যা হল— বিদ্যাবুদ্ধি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিরামহীন প্রবল বাধা, প্রতিযোগিতা ক্ষেত্রে অযোগ্যতা বা অসফলতা; প্রবল স্বজন বিরোধ, মানসিক দুর্বলতা, নৈরাশ্যভাব, বাজে মনোভাব পোষণ, বারে বারে সন্তানহানি, একগুঁয়েমি মনোভাব, সৎসঙ্গের অভাব, কফ-পিত্তের আধিক্য বৃদ্ধি, ঘনঘন ঝামেলা ঝঞ্ঝাটে ফাঁসা, মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা-রক্তপাত হওয়া, দেহে আঘাত প্রভৃতি।
বুধ: আত্মীয়দের সঙ্গে অশান্তি, সম্পর্কহানি, সন্তানদের মধ্যে কলহ-প্রতিক্ষেত্রে মতের অমিল, অংশীদারি ব্যবসায় অংশীদারের সঙ্গে সবসময় অশান্তি, শিক্ষাক্ষেত্রে পরিশ্রম করেও উচ্চাশা পূরণে বাধা, বিদ্যা থাকলেও উপস্থিত বুদ্ধির অভাব, টেকনিক্যাল লাইনে উন্নতিতে বাধা, প্রবল ভ্রাতৃবিরোধ, পুত্রসন্তান প্রাপ্তিতে বাধা, প্রতিভা ও গুণের সমাদর না পাওয়া, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, হিসাবরক্ষকদের কর্মোন্নতিতে বাধা ও মনোমতো সাফল্য না পাওয়া, স্নায়ু সমস্যায় বিব্রতবোধ, কর্মস্থলের পরিবেশগত সমস্যা বৈরিতা বিপত্তি, শিল্পজাত দ্রব্যের ব্যবসায় গতিমন্থরতা, বাধা, বাক্যে জড়তা, বালকসুলভ চপলতার অস্বাভাবিকতায় ব্যক্তি প্রকাশে বাধা, বদগুণ অনুকরণপ্রিয়তা প্রভৃতি সমস্যা অশুভ বুধের প্রভাবে হয়ে থাকে।
বৃহস্পতি: অনেক প্রচেষ্টার পরও ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়ে চলা, একের পর এক আর্থিক বিপত্তিতে  বিপর্যয়, অর্থাগমের সুন্দর সম্ভাবনা কিন্তু প্রাপ্তিতে বাধা, কর্মস্থলে মনোমতো উন্নতি আটকে থাকা, পারিবারিক ক্ষেত্রে স্বার্থত্যাগের পরও শান্তি রক্ষা না হওয়া, ক্রমহ্রাসমান মেধা, কুপথে দ্রুত আকর্ষিত হওয়া, আকস্মিক প্রচুর অর্থ ক্ষতি ও বিপর্যয়, ব্যবসায় বারে বারে ব্যর্থতা, আর্থিক প্রগতি আশানুরূপ না হওয়া-বিঘ্ন, অর্থ সমস্যা ক্রমাগত লেগেই আছে; তা থেকে উদ্ধার পাওয়া যাচ্ছে না, দেহের রূপ লাবণ্য কমে রুক্ষতা বৃদ্ধি, স্বধর্ম পালনে অমনোযোগ, নাস্তিকতা, ক্রমশ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠা, বিনয়ী নম্রভাব উধাও হয়ে যাওয়া, উচ্চতর শিক্ষায় জ্ঞান লাভে বাধা প্রভৃতি সমস্যাগুলি অশুভ বৃহস্পতির দান।
শুক্র: সাহিত্য জীবনে ক্রমাগত ব্যর্থতা, পর্যাপ্ত প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও শিল্পীর অভিলাষ পূরণে অসফলতা, গবেষণাধর্মী কর্মে লক্ষ্যে পৌঁছতে বাধা— সাফল্যের অভাব, সবসময় না পাওয়ার বেদনা, অবসাদ; স্নায়ুশক্তির সঠিক উদ্দীপনায় বাধা, প্রবল ব্যর্থতায় তীব্র হতাশা, পতি-পত্নীর জীবনে পারস্পরিক অশান্তি, অতৃপ্তি, শরীরে অকাল বার্ধক্য, কামশক্তি কমে যাওয়া, বিদ্যা-বুদ্ধি ও বৃত্তির উন্নতি ও প্রয়োগে বাধা-ব্যর্থতা, পাকস্থলীর ক্ষতে কষ্টভোগ, ভাইয়ের সঙ্গে শত্রুতা প্রভৃতি সমস্যা কুপিত শুক্রের সঙ্গে অবৈধ প্রণয় ও অপযশ, কামভোগের আতিশয্য বৃদ্ধি, যৌনভোগের দুর্বলতা— নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন প্রভৃতিও বিরুদ্ধ শুক্রের প্রদত্ত।
শনি: শনিদেবের প্রভাবে মানুষের জীবনের ভোগান্তি যেন একটু বেশি কঠিন হয়ে থাকে। অর্থ ও কর্মে বিপত্তি— প্রায় শেষের অবস্থা, মাঝেমধ্যে পায়ে আঘাত, স্নায়বিক সমস্যা, খামখেয়ালি চিন্তাভাবনা ও তার অপপ্রয়োগে  ব্যর্থতা ও হতাশা, দাম্পত্য ক্ষেত্রে পারস্পরিক সন্দেহ, সবদিকেই ব্যর্থতা ও প্রতিকূলতা, রাজকর্মচারী বা পুলিসের দ্বারা বিনা দোষে দোষী হয়ে অযথা হয়রানি বা আইনি ঝামেলা, অন্যায্যভাবে ঘুষের জন্য জোর খাটানো— ভয় দেখানো, জীবনের একাধিক ক্ষেত্রে আশাভঙ্গের বেদনা, পক্ষাঘাতে পঙ্গুত্ব, আধ্যাত্মিক উন্নতিতে বাধা— ঈশ্বর বিমুখতা- বিশ্বাসহীনতা, আর্থিক দৈন, দারিদ্রতার  অতলে ডুবে যাওয়া, গৃহে দাস-দাসীর বা তাদের থেকে প্রাপ্ত পরিষেবার অভাব বা ছেড়ে চলে যাওয়া, মিশ্রনাশ, ন্যূনতম বেশভূষার দিকে দৃষ্টিপাতের অভাব বা জীর্ণ ময়লা পোশাক পরে থাকার প্রবণতা, ধ্বংসাত্মক কাজের প্রবণতা, সামাজিক বা পারিবারিক ক্ষেত্রে অপমান ও একাকী হয়ে যাওয়া, মৃত্যুতুল্য পীড়া ও ক্লেশভোগ প্রভৃতি।
রাহু: রাহুর ধ্বংস ক্ষমতা সাংঘাতিক। নানাভাবে নানাদিকে মানুষের জীবনে রাহু সমস্যা তৈরি করেন। ঘটনার আকস্মিকতা ও প্রাবল্যে মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়। মানসিক হিংসা প্রবৃত্তি ও উন্মত্ততা, গুন্ডামি-ভণ্ডামি-দাদাগিরি- মারামারি- খুনখারাপির অস্বাভাবিক প্রবণতা। নাশকতামূলক কাজে এগনোর দুঃসাহস- ভাবনা- প্ররোচনা, অপঘাত মৃত্যু, রাজনৈতিক দাঙ্গাবাজি, পুলিসি ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট, অপবাদ, অপমান, প্রিয়জনের সঙ্গে তুমুল বিরোধ, ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে যাওয়া, ঘন ঘন দুর্ঘটনা-রক্তপাত, জুয়াচুরি-বলপূর্বক অর্থ রোজগার, মদে আসক্তি, যতই ভোগ করুক তৃপ্তি না পাওয়া, তীব্র ব্যভিচারী দোষ, অপ্রয়োজনীয় অপ্রত্যাশিত ও কারণহীন অর্থ খরচ, বিদ্যা, কর্মে প্রবল বাধা প্রভৃতি।
কেতু: একাধিকবার সম্মানহানি, মনের মধ্যে পথ দুর্ঘটনার ভয়, উচ্চস্থান থেকে পড়ে আঘাতপ্রাপ্তি, জরায়ুর রোগ, পতিতালয়ে যাওয়া-থাকা,  বন্ধু শত্রু হয়ে যাওয়া ও শত্রুতা, জ্ঞানী সম্মানিত ব্যক্তির নৈতিক ও চারিত্রিক অবনতি, পারিবারিক, আর্থিক বা শারীরিক অপ্রত্যাশিত হঠাৎ বিপর্যয়, ঘরে-বাইরে বিশ্বাসঘাতকতা বা বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কা তৈরি, অতি বড় আস্থাভাজনের দ্বারা ঠকার বা হানির আশঙ্কা, গুপ্ত শত্রুতায় ক্ষতি, বিদ্যায় অপ্রত্যাশিত সু বা কু ফুলের আশঙ্কা, সাপের কামড়ের ভয় প্রভৃতি সমস্যা কেতুর দান।
কোন বারে কী খাবেন:
জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় মতে বিরুদ্ধ গ্রহ দ্বারা ক্লিষ্ট মানুষের উপকারের জন্য অনেকগুলি পথের সন্ধান পাওয়া যায়। সঠিকভাবে তা প্রয়োগ ও পালন হলে গ্রহপীড়িত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়। এর ব্যতিক্রমও আছে। তবে তার সংখ্যাটা অতি নগণ্য। তবে এ কথাও সত্য যে সম্পূর্ণ প্রতিকার বা সমস্যার সমাধান হয় না। ভালো ফল  ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ পেলেও ২০ ভাগ অপূর্ণ থাকে। আর যেখানে সাফল্যের ভাগ কম সেখানে ৫০ ভাগ শুভ ফল হতে পারে। একদমই কাজ হয় না নিতান্তই কম— লাখে দশ জন কি না সন্দেহ।
প্রতিকূল গ্রহের প্রতিকারের অনেক পথের একটি হল জপ-ধ্যান-প্রার্থনা-স্তোত্র পাঠ— সঙ্গে বার পালন ও নির্দেশিত খাদ্যগ্রহণ ও বর্জন। এই প্রতিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ। ঠিকভাবে পালন করতে পারলে শুভ ফল লাভ অসম্ভব নয়।
রবিবার: বারটির অধিপতি গ্রহ রবি। এদিনটি তাঁরই নামে এবং তাঁরই প্রভাব এদিন বেশি। এই বারটি পালনে রবির প্রসন্নতা সম্ভব। কীভাবে বারটি পালন করবেন?
শুদ্ধাচারে থাকতে হবে। মনে সাত্ত্বিকভাব রাখাই শ্রেয়। সাধ্যমতো ইষ্টমন্ত্র জপ/রামনাম জপ, প্রণাম করে রবির যে কোনও স্তব পাঠ করতে হবে। কুচিন্তা পরিত্যাগ করতে হবে। নিরামিষ খাদ্য আনন্দ সহকারে গ্রহণ করতে হবে। নিম ও পোড়া খাদ্য খাওয়া চলবে না। পরমান্ন খাওয়া এদিন শুভ। অন্যান্য খাদ্যের মধ্যে অন্ন, পাতিলেবুর শরবত, গমের আটার রুটি, বিভিন্ন ফল— পেয়ারা, বেদানা, আপেল, আম, কলা, পাকা পেঁপে, ডাব, আখের রস বা গুড়; আনাজের মধ্যে টম্যাটো, গাজর, লাল শাক, পটল, ঝিঙে, বেগুন, চালকুমড়ো খাওয়া যেতে পারে। এদিন তৈল মর্দন, মৈথুনাদি ক্রিয়া বর্জনীয়।
সোমবার: চন্দ্রদেব বারটির অধিপতি। ইষ্টের বা শিবনাম জপ, চন্দ্রের স্তবপাঠ, প্রণাম, প্রসন্নতা প্রার্থনা। সাত্ত্বিকভাব বজায় রাখা। এদিন একটু গাওয়া ঘি এবং দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন ও গোরুর দুধ খাদ্যরূপে গ্রহণে চন্দ্রদেব প্রসন্ন হন। পাতিলেবু মিশ্রিত আখের গুড়ের শরবত বা আখের রসে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান, পাতিলেবু দিয়ে মিছরির শরবত পান করতে পারেন। সব্জির মধ্যে পালং ও পুঁই শাক (সাদা), বেগুন, বরবটি, রাঙালু, ঢ্যাঁড়শ, পটল। ভেজানো কাঠবাদাম, বাদাম, ছোলা। ফলের মধ্যে কলা, শাঁকালু, পানিফল, কলা, তরমুজ।
মঙ্গলবার: বারটির অধিপতি দেবসেনাপতি মঙ্গল। এদিন ভগবান শিব/নৃসিংহদেবের নাম বা ইষ্টনাম জপ। মঙ্গলের স্তব পাঠ, প্রণাম প্রার্থনা বিশেষ শুভ। এদিন একটু মুসুর ডাল এবং যে কোনও তেতো মঙ্গলের প্রীতির জন্য গ্রহণ করা বিধেয়। বিভিন্ন টাটকা সতেজ শাক, আলু, পটল, বিনস, গাজর, তালমিছরির শরবত, বিভিন্ন বাদাম। যে কোনও টক ফল, দুধ, দই ছানা, আমের চাটনি, শুকনো ফল, যেমন— কিসমিস, খেজুর প্রভৃতি খাদ্য হিতকর।
বুধবার: বালক গ্রহ বুধ এই বারের অধিপতি। এদিন শুদ্ধাচারে থাকতে হয়। সার্বিক উন্নতির সুচিন্তায় শুভ। শ্রীগণেশের স্মরণ-মনন-প্রণাম, বুদ্ধদেবকে প্রণাম, ইষ্টের জপ এবং বুধের স্তোত্র পাঠ-প্রণাম- প্রার্থনা। এদিন দই গ্রহণ বুধের প্রসন্নতা বৃদ্ধি করে। টক জাতীয় ফল বুধের প্রিয়। বিশেষ করে আমলকী ও পাতিলেবু। পাকা পেঁপে, কলা, পেয়ারা, কমলা লেবু, মুসাম্বি লেবু, আম, আনারস। সব ধরনের বাদাম— কাজু- পেস্তা- আমন্ড, আখরোট, কিসমিস গাজর, কুমড়ো, পটল, টমেটো, পালং ও নটেশাক। সুস্বাদু ও সুগন্ধি খাদ্য বুধের পছন্দ।
বৃহস্পতিবার: দেবগুরু বৃহস্পতি এই বারের অধিপতি। শুদ্ধ চিত্ত ও সাত্ত্বিকভাবে এদিন থাকতে হয়। ইষ্টের জপ, তারামাকে প্রণাম, বৃহস্পতির স্তব স্তুতি-প্রণাম প্রার্থনা বিশেষ হিতকর— একটুকরো নারকেল বা শাঁসযুক্ত ডাবের জল এবং ঘৃত মিশ্রিত সুগন্ধি চালের অন্ন এদিন বিশেষরূপে গ্রহণীয়। সহজপাচ্য যে কোনও খাবার খাওয়া যায়। আলু, পটল, পেঁপে, সজনে ডাঁটা-ফুল ও পাতা, দই, ছানা, শসা, কলা, মুসাম্বি, কমলালেবু, টাটকা শাক-সব্জি খাওয়া বিশেষ ফলদায়ী।
শুক্রবার: শুক্রাচার্য বারটির অধিপতি। তাঁর নামেই বারটি। সুচিন্তা, সুকর্ম শুভকর। ইষ্টের জপ, শিব নাম জপ। শুক্রের প্রীতি কামনায় শুক্রের স্তব পাঠ, প্রণাম প্রার্থনা করতে হবে। ক্ষীর বা রাবড়ি জাতীয় মিষ্টান্ন ও ঘৃত মিশ্রিত পোলাও গ্রহণে শুক্রের প্রীতি লাভ হয়। সতেজ সব্জি চালকুমড়ো, আলু, বেগুন ঝিঙে, ভেজানো ছোলা বাদাম, মুসাম্বি ও কমলালেবু, কলা,  দুধ, টক দই, ছানা, নারকেল, অড়হর ডাল, সয়াবিন প্রভৃতি নিরামিষ খাদ্যগ্রহণ শুভ।
শনিবার: শনিদেবের নামেই দিনটি, অধীশ্বরও তিনি। তাঁর প্রভাব এদিন বেশি। সততা, নির্লোভী ও ধার্মিক ভাবে দিনটি কাটাতে হয়। শ্রীমৎ দক্ষিণাকালী ও হনুমানজির স্মরণ মনন জপ এবং শনিদেবের প্রসন্নতা কামনা করে তাঁর স্তব পাঠ। স্মরণ মনন ও প্রার্থনা। বেগুনপোড়া বা যে কোনও পোড়া খাদ্য এদিন গ্রহণ করলে শনিদেব তার ওপর প্রসন্ন হন। আমলকী, পাতিলেবু প্রভৃতি টক খাদ্য, মৌরি, মিছরি বা কচি ডাবের কষা জল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পটল, আলু, পালং শাক প্রভৃতি টাটকা যে কোনও সব্জি। আঙুর, পেয়ারা, বাতাবিলেবু, মুসাম্বি ও কমলালেবু শসা প্রভৃতি খাদ্য এদিনের পালনে গ্রহণীয়।
রাহুর পালন শনিবার। খাদ্যগ্রহণও ওই দিনের মতোই। ওই দিন সংযম পালন, নামজপ, রাহুর স্তব পাঠ, প্রণাম ও প্রার্থনা বিশেষ শুভ।
কেতুর পালন: মঙ্গলবার দিনের অনুরূপ। আহারও তাই। শুধুমাত্র কেতুর স্তব পাঠ— প্রণাম প্রার্থনা করতে হবে।
যিনি অক্ষম, যাঁর কোনও সামর্থ্য নেই তিনি সর্ব জগৎ সংসারের নাথ শ্রীজগন্নাথ মহাপ্রভুরূপী শ্রীহরির নাম জপ প্রণাম ও প্রার্থনা করুন। সব শাস্ত্রই বলেছেন তাঁর প্রসন্নতায় জগতের কল্যাণ— ‘তস্মিন তুষ্টে জগৎ তুষ্ট, প্রীণিতে প্রীণিতং জগৎ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ