নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যোগ দিবসের জন্য সুন্দরবন থেকে সাড়ে চারশোর বেশি বোট নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতার বাবুঘাটে। সেই অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে বড়ো ধরনের বিপত্তির মুখে পড়তে হল মাঝি ও বোটের মালিকদের। নদীর উথালপাতাল ঢেউয়ের ঝাপটায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক নৌকা। কোনোটির নীচের অংশের পাটাতনে ফাটল ধরেছে, কোনোটির শৌচালয় ভেঙে গিয়েছে। কয়েকটি বোটের প্রপেলার পর্যন্ত খারাপ হয়ে যায়। সেই বোটগুলি দড়ি বেঁধে টেনে আনে অন্য বোট। আজ, বুধবার থেকে আবার পর্যটকদের নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হবে।
তাই মঙ্গলবার গোসাবা ও বাসন্তী পৌঁছাতেই ক্ষতিগ্রস্ত বোটগুলি মেরামত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন মালিকরা। এদিকে, যোগ দিবসের জন্য বিপুল সংখ্যক বোট বাবুঘাটে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে তাদের সেভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেই দাবি বোট মালিক ও কর্মীদের। স্রেফ আলো দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল নদীর পাড়ে।
জানা গিয়েছে, ২১ তারিখ যোগ দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর ওই দিন বিকালেই বেশিরভাগ নৌকা ফেরার জন্য রওনা দেয়। কিন্তু যেভাবে নদীতে ঢেউয়ের দাপট বাড়ছিল, তাতে নৌকা নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হয় কর্মীদের। পূর্ব মেদিনীপুরের কুঁকড়াহাটিতে অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়। কারণ, একটা সময় জোয়ারের কারণে প্রবল ঢেউ লঞ্চ ও বোটকে ধাক্কা মেরে দিক পরিবর্তন করে দিচ্ছিল। ভাটা পড়তেই আবার যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু ঘোড়ামারা দ্বীপের অদূরে বারোতলার কাছে আসতেই উথালপাতাল ঢেউয়ে নৌকাগুলি উলটে যাওয়ার উপক্রম হয়। এক বোট মালিক বলেন, ‘প্রাণের ভয় নিয়ে আমরা এই পথ পেরিয়েছি। কী যে বিপদ ছিল, বলে বোঝানোর নয়। বোট যেভাবে দুলছিল, তাতে যেকোনো সময় সেটি উলটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। অনবরত ঢেউয়ের ঝাপটায় মনে হচ্ছিল, নীচের পাটাতন ভেঙে যাবে। পরে দেখা গেল, কোথাও ফাটল ধরেছে তো কোথাও ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। আবার টাকা খরচ করে সব ঠিক করতে হবে।
সুন্দরবন ট্যুরিস্ট বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রসুল সর্দার বলেন, ‘প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে আমাদের ফিরতে হয়েছে। এত ঢেউ হবে, ভাবতে পারিনি আমরা। অনেক বোটের ক্ষতি হয়েছে। যে অনুষ্ঠানে আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে আমাদের কোনো কাজ ছিল না। যাতায়াত করতেই চলে গেল প্রায় পাঁচদিন।’