নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কলকাতা বিমানবন্দর এলাকায় এক ঝামেলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে ফুচু। তিনি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ডান হাত হিসাবে পরিচিত। সেই দেবাশিসবাবু সহ তৃণমূলের চার নেতার নামে এবার নাগেরবাজার থানায় নতুন করে অস্ত্র আইন, মারধর, ডাকাতি সহ মোট ন’টি ধায়ায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ জানিয়েছেন দমদমের সিপিএম নেতা সুশান্ত দেব। এনিয়ে দমদমজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝামেলার ঘটনায় এনএসসিবিআই থানার পুলিশ তাঁকে হেপাজতে নিয়েছে। তাঁকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে নাগেরবাজার থানার পুলিশও।
দমদমের রাজনীতিতে গত ১৫ বছরে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখেছে শহরবাসী। মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর হাত মাথায় থাকায় দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১ থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর প্রভাব ছিল প্রশ্নাতীত। গত পুরসভা ভোটে দল তাঁকে টিকিট না দিলেও মন্ত্রীর বদান্যতায় নির্দল হিসাবে লড়ে তিনি জয়লাভ করেন। তাঁর একের পর এক বেআইনি নির্মাণ নিয়ে তৎকালীন শাসকদল ও প্রশাসন কার্যত চোখ বন্ধ করেছিল। এখনও দমদম রোডে মন্ত্রীর নামকরণ করা দেবাশিসবাবুর অনুষ্ঠানবাড়ি ‘নোলক’ আজও মাথা তুলে রয়েছে। কোনো বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই ওই ববন তৈরি করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর এলাকায় এক ঝামেলা ও মারপিটের ঘটনায় দেবাশিসবাবুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। যদিও তাঁর দাবি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ওই ঘটনায় এখন তিনি পুলিশ হেপাজতে রয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁর নামে নতুন করে একটি মামলা হয়। দমদমের সিপিএম নেতা ও সিটুর রাজ্য কমিটির সদস্য সুশান্ত দেব নাগেরবাজার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে তিনি বলেছেন, সমাজমাধ্যমে তৃণমূল বিরোধী একটি পোস্ট শেয়ার করায় ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। দমদম রোডের ক্লাব টাউনে তাঁর ফ্ল্যাটে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। সেই সময় ঘরে তাঁর নাবালিকা মেয়ে ছিল। সুশান্তবাবু বলেন, মেয়ের সামনে ওরা দরজায় লাথি মারে, আমাকে মারধর করে। আমার মাথা ও চোখে বন্দুকের বাট দিয়ে মারা হয়। এমনকি, গলা থেকে সোনার চেন পর্যন্ত ছিনিয়ে নিয়েছিল
ওরা। আমাকে এক মাস কলকাতার মেডিকেল কলেজে ভরতি থাকতে হয়েছিল।
দেবাশিস ছাড়াও প্রদীপ গুহ, দেবব্রত গুহ, তারক পাল সহ মোট ছ’-সাতজন ছিল ওই দলে। আমি সবার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। সেই সময় ব্রাত্য বসুর নির্দেশে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ করেনি। সুবিচার চেয়ে নতুন করে পুলিশকে জানিয়েছি। আমি দোষীদের কঠোর সাজা চাই। যদিও অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠদের দাবি, সরকার পরিকল্পিতভাবে দেবাশিসবাবুকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে চাইছে।