


আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসার দিন। এই বিশেষ দিনেই সাত পাকে বাঁধা পড়ছেন টেলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলি। এই বিশেষ দিনটিই কেন বেছে নিলেন তাঁরা? খোলসা করলেন রণজয়। বললেন, ‘আমরা খুব ভেবেচিন্তে দিনটি ঠিক করেছি, তা নয়। লগ্ন খোঁজা চলছিল। আমাদের পরিবার সন্ধ্যার দিকে লগ্ন চেয়েছিল। ফলে বাংলা তারিখ অনুযায়ী ওই দিনটি নির্বাচন করা হয়। পরে ইংরেজি ক্যালেন্ডার দেখে মেলানোর সময় দেখা গেল, এই দিনটা পড়েছে।’
কথায় বলে, বিয়ে লাখ টাকার কথা। রণজয় ও শ্যামৌপ্তির দুই পরিবারের মধ্যেও বহু কথাবার্তা হয়েছে বিয়ে নিয়ে। যাবতীয় আলাপ-আলোচনা, পরিকল্পনার পর আজ সেই দিন। কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউতে বসবে বিয়ের আসর। লগ্ন সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ। একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা পুরো বিষয়টির আয়োজন করছে। আর সাজসজ্জা? বিয়ের দিনের সাজ নিয়ে প্রত্যেকের স্বপ্ন থাকে। অভিনেতা জুটিও আলাদা নন। বিশেষ দিনে বাঙালি সাজে সাজবেন তাঁরা। অনুশ্রী মালহোত্রার ডিজাইনে সাজছেন দু’জনে। শ্যামৌপ্তির পরনে থাকবে লাল শাড়ি, সোনার গয়না। তবে বেনারসি পরবেন না তিনি। কেন? খোলসা করলেন নায়িকা, ‘আমার কাছে সাজগোজের ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেটা পরব সেটা যেন ক্যারি করতে পারি, এটা মাথায় রাখি। আর বিয়ের দিন তো খুবই স্পেশাল, তাই ভারী কিছু পরব না যাতে তা আমাকে ছাপিয়ে না যায়। তাই খুব সামান্য সাজব, যতটুকুতে আমি স্বচ্ছন্দ্য।’ নায়িকা জানালেন, হালকা মেকআপ করবেন তিনি। হেসে বললেন, ‘বিয়ে মানেই অনেক মেকআপ করতে হবে, এমন নয়। আমি যদি অন্তর থেকে আনন্দে থাকি, আমাকে এমনিই ভালো লাগবে।’ অন্যদিকে, বাঙালি ধুতি আর পাঞ্জাবিতে সাজবেন রণজয়। শ্যামৌপ্তির সাজের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর পোশাক ডিজাইন করা হয়েছে। রিলের অনস্ক্রিন জুটি এবার রিয়েল লাইফে। কেমন লাগছে তাঁদের? ‘আমরা ছোটোবেলায় কোনো জুটিকে পর্দায় দেখলে ভাবতাম, এঁদের যদি বিয়ে হতো...। দর্শকও বোধহয় আমাদের দেখে সেটাই ভেবেছিলেন’, হাসলেন শ্যামৌপ্তি।
বিয়ে মানেই জমিয়ে ভূরিভোজ। রণজয় ও শ্যামৌপ্তির বিয়েতেও থাকছে এলাহি আয়োজন। বাঙালি মেনু থাকছে অনুষ্ঠানে। সাদা ভাত, মাংস, মাছ, মিষ্টি থাকবে পাতে। অভিনেতা বললেন, ‘ছয় বা সাতের দশকে যেমন ভাবে বিয়ে হতো তেমনভাবেই যতটা সম্ভব আয়োজন করছি।’ বিয়ের মণ্ডপসজ্জাতেও থাকছে বাঙালিয়ানার স্পর্শ। তৈরি করা হয়েছে একটি সেলফি জোন। পুরনো দিনের জানলা, কলকাতার স্ট্রিটলাইট, বেঞ্চ দিয়ে সেজে উঠেছে জায়গাটা। সঙ্গে থাকছে নানা ফুল। অতিথি তালিকায় কে কে থাকছেন? শ্যামৌপ্তি বললেন, ‘যেহেতু বিয়ে এবং রিসেপশনের একটিই অনুষ্ঠান হচ্ছে সেজন্য আমার এবং ওর তরফে সকলে আসবেন। ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী, সিনিয়র, যাঁরা আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যাঁদের সঙ্গে আমরা কাজ করেছি, তাঁরা সকলেই আমন্ত্রিত।’ জানা গেল, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ রয়েছেন অতিথি তালিকায়।
বিয়ের অনুষ্ঠানে বর্তমানে মেহেন্দি, সংগীতের মতো অনুষ্ঠান ট্রেন্ডিং। তবে সেই ট্রেন্ডে গা ভাসাতে নারাজ রণজয় ও শ্যামৌপ্তি। কেন? অভিনেত্রী বললেন, ‘এই নিয়মগুলির সঙ্গে আমরা কানেক্ট করতে পারি না। সেজন্যই ওগুলি থাকছে না। আমি আলতা পরব বলে ঠিক করেছি। হাতে, পায়ে আলতা পরলে বাঙালি মেয়েদের অপূর্ব লাগে।’
‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন তাঁরা। সেখান থেকেই পরিচয়। যদিও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি। এমনকী ধারাবাহিক শুরুর প্রথম দিকে কথাও নাকি বলতেন না। কথা শুরু হল ‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকের শেষের দিকে। তাহলে সম্পর্কের সূত্রপাত কবে থেকে? রণজয় বললেন, ‘একটি মিউজিক ভিডিও শ্যুটের জন্য লাদাখে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই শুরু।’ সেই সম্পর্ক গতি পেয়েছে নিজের ছন্দে। বিয়ের পর তাহলে কি ফের লাদাখেই যাবেন? নাকি পরিকল্পনা অন্য কোথাও? হেসে যুগল জানালেন, এখনই তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তাহলে কি শীঘ্রই ধারাবাহিকে ফিরছেন? তাঁরা বললেন, ‘কাজের কথা তো চলতেই থাকে। ভালো চরিত্র পেলে অবশ্যই ফিরব।’ জুটিতেই কি ফিরবেন? রণজয় হেসে বলেন, ‘তাহলে তো প্রযোজক বা পরিচালক আমাকেই হতে হবে।’ শ্যামৌপ্তির জবাব, ‘আমার কাছে ভালো চরিত্র আর গল্প ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। জুটিতেই ফিরতে হবে এমন চাহিদা নেই।’
বর ও কনে একই পেশায়। তবে রণজয় বয়সে ও ইন্ডাস্ট্রিতে সিনিয়র। শ্যামৌপ্তিকে টিপস দেন? অভিনেতার জবাব, ‘আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকে কাজ নিয়ে। ও কিছু জিজ্ঞেস করলে নিশ্চয়ই বলি।’
শান্তনু দত্ত