নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ওদের জীবনের ‘অভিধান’-এ দশভুজাকে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ‘দেখা’র সুযোগ নেই। কিন্তু ‘ছুঁয়ে দেখা’র অধিকার তো আছে। আছে কানে শোনা। সেই ছুঁয়ে দেখা আর কানে শোনাকে আশ্রয় করেই এবার ঠাকুর দেখল হুগলির ব্রেইল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দৃষ্টিহীনদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা শিক্ষাদপ্তর। উত্তরপাড়ার মাখলা লুই ব্রেইল স্কুলের ধৃতিমান, অনুষ্কা, বৈশালী, রুদ্রনীলদের নিয়ে এদিন চণ্ডীতলার পটুয়াপাড়া ঘুরে দেখানো হয়। বলা ভালো ছুঁইয়ে দেখানো হয়। নিয়ে যাওয়া স্থানীয় একটি ক্লাবের পুজো মণ্ডপেও। ধৃতিমান, অনুষ্কারা এই প্রথম ছুঁয়ে দেখল দশভুজাকে। স্পর্শ করল বাঙালির উমাকে। তৈরি হল এক অনুভবের বলয়। সামাজিক জীবন থেকে শিক্ষার জন্যও যা ছিল অপরিহার্য।
হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায়, জেলা জনশিক্ষা অধিকর্তা সুদীপ্তা মজুমদার এদিন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ওই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন। সুবীরবাবু বলেন, ওদের শিক্ষার আলো দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাঙালির মহাপার্বণের আলো থেকে বঞ্চিত ছিল ওরা। স্পর্শের মাধ্যমে দশভুজা ও তাঁর উৎসবকে নিয়ে আমরা আলোকিত করার চেষ্টা করেছি। বলা যায়, নিজেরাই আলোকিত হয়েছি। খুশির সীমা ছিল না বৈশালী, সগুনদের। ছুঁয়ে দেখার এক অভাবিত আনন্দ তাদের অন্ধকার চোখে ধরা না দিলেও মুখমণ্ডলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ওরা কলকলিয়ে বলছিল, মণ্ডপ দেখেছি, দুর্গার দশহাত, অসুরের মুখ ছুঁয়ে দেখেছি। সিংহের কেশর দেখেছি। আরও কিছু অনর্গল শব্দস্রোত। প্রায় নির্বাক হয়ে শুনছিলেন সুদীপ্তা। জেলা জনশিক্ষা অধিকর্তা বলেন, এই আনন্দের কোনও পরিধি হয় না। আমরা নিজেরা প্রতিবার মণ্ডপে ঘুরি। কিন্তু এমন আনন্দ বহুকাল পাইনি। যা পেলাম মহালয়ার প্রাক্কালে। এদিন সকালেই শুরু হয়েছিল যাত্রা। প্রথমে চণ্ডীতলার পটুয়াপাড়া, তারপর নবজাগরণ সংঘের থিম প্রতিমা ‘দর্শন’। সঙ্গে ছিল ছোট্ট চলমান ভোজের আসর। কিন্তু সেসবকে ছাপিয়ে গিয়েছে চোখভরা অন্ধকার নিয়ে বেঁচে থাকা শিশুদের আনন্দাশ্রু। - নিজস্ব চিত্র