সংবাদদাতা, কান্দি: নবমীতে দেবীর ভোগে দিতে হয় পান্তা ভাতের সঙ্গে তিন প্রকার ছাতু, কলাই বাটা, নয় ভাজা, বাড়ির পুকুরের মাছ। ১০০ বছর পরেও এই রীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি কান্দি ব্লকের বহড়ার প্রাচীন ত্রিবেদী বাড়ির পুজোয়। আবার দেবীর ভোগে চাটনি বা যে সকল তরিতরকারি দেওয়া হয় সেটাও একদিনের সঙ্গে অন্যদিন আলাদা হতে হবে। শুধু ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রে নয়। দেবীর পুজোও দিনে দুইবার করে হয়। ষষ্ঠীর পুজো সকালের পর সন্ধ্যাতেও হয়। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতেও একই ধারা বজায় থাকে। প্রথম থেকেই দেবীর পুজোয় এই রীতি চলে আসছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে দেবীর ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রে এমন রীতি কার্যত এলাকার অন্যান্য পুজোগুলিতে দেখা যায় না। এখানে সপ্তমীতে দেবীর ভোগে দেওয়া হয় সাদা ভাতের সঙ্গে অড়হরের ডাল, চচ্চড়ি, সবজির ঝোল ও বাড়ির পুকুরের মাছ সঙ্গে পাঁচ ভাজা। অষ্টমীতে খিচুরির সঙ্গে ছোলার ডাল, নারকেল দিয়ে চাল কুমড়োর তরকারি, ফুলকপির ডালনা, পুকুরের মাছের সঙ্গে সাত ভাজা। নবমীতে সাদা ভাতের সঙ্গে মুগের ডাল, পাঁচ তরকারি, সবজির ঝোল, বাড়ির পুকুরের মাছ, মিষ্টি কুমড়োর তরকারি, এঁচড়ের ডালনার সঙ্গে নয় ভাজা। একই সঙ্গে মুগের ডালের মালপোয়াও দেওয়া হয়। তবে এদিন দেবীর ভোগে গরম ভাতের বদলে দেওয়া হয় পান্তা ভাত। পরিবারের সদস্য রত্না ত্রিবেদী বলেন, শুধু পান্তা ভাত বললেই হবে না। পান্তা ভাতের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নুন, সর্ষের তেল, কাঁচা লঙ্কার সঙ্গে যব, ছোলা ও কলাইয়ের ছাতু মেশানো হয়। সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কলাই বাটাও দেওয়া হয়। এই ভোগ এদিনের নিমন্ত্রিতদেরও দেওয়া হয়। পরিবারের আর এক সদস্য বিপ্লব ত্রিবেদী বলেন, দেবীর ভোগে প্রতিদিন চাটনি দেওয়া হয়। কোনোদিন আমড়ার চাটনি, কোনোদিন টমেটো, জলপাই দিয়ে কোনোদিন আবার তেঁতুল দিয়ে চাটনি করা হয়। পরিবারের অপর সদস্য টোটন ত্রিবেদী জানান, পুজো প্রচলনের পর থেকেই এই রীতি চলে আসছে। প্রতিদিন দেবীর জন্য পাঁচ সের একপোয়া আতপ চালের ভোগ রান্না করা হয়।



