


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২০২১ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফলাফল হয়েছিল ৩০-১। অর্থাৎ, জেলার ৩১টি আসনের মধ্যে একটি বাদে সবক’টিতেই জয় পেয়েছিল তৃণমূল। একমাত্র ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র হাতছাড়া হয়েছিল তাদের। ‘ভাইজান’-এর দল আইএসএফ প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমেই রাজ্যের এই একটি মাত্র আসনে বাজিমাত করেছিল। এহেন ভাঙড় কেন্দ্রে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের তরফে কাকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। কয়েকদিন আগে ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করায় যাবতীয় জল্পনা আরও জোরদার হয়। তাঁর আইএসএফে যোগদান নিয়ে এখন চর্চা চলছে। এই অবস্থায় ভাঙড় পুনুরুদ্ধারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা রাখলেন ক্যানিং পূর্বের বর্তমান বিধায়ক শওকত মোল্লার উপর। ক্যানিং পূর্ব ছেড়ে এবার ভাঙড় থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়বেন শওকত। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে এই বিধানসভায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষক হিসাবে কাজ করছেন তিনি। নিজের বিধানসভার কাজকর্মের পাশাপাশি ভাঙড়ের জমি পুনুরুদ্ধারে মাটি কামড়ে পড়েছিলেন শওকত। ফলে এই বিধানসভায় এবার আইএসএফের সঙ্গে তৃণমূলের জোর টক্করের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০২১ সালের এই কেন্দ্রে হারের পর থেকেই জমি পুনরুদ্ধারে তৎপর হয়েছিল শাসক দল। নানা হিসাব কষা চলছিল। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে রক্তক্ষয়ী একাধিক ঘটনার পরও জমি হারাচ্ছিল তৃণমূল। এই অবস্থায় শওকতকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এক সময়ে যাঁরা আরাবুল ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই শওকতের দিকে চলে আসেন। শেষমেশ ভাঙড়ে শওকতের বিরুদ্ধে নৌশাদ সিদ্দিকি দাঁড়াবেন, নাকি অন্য কেউ, জানা যাবে এক-দু’দিনের মধ্যেই। এদিকে, ক্যানিং পূর্ব থেকে সরিয়ে শওকতকে ভাঙড়ে প্রার্থী করায় তাঁর অনুগামীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।