Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অমরাবতী মাঠ অধিগ্রহণের উদ্যোগ পানিহাটিতে,   সোসাইটিকে নোটিস,  মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে খুশির হাওয়া

অমরাবতী মাঠ অধিগ্রহণের উদ্যোগ পানিহাটিতে,   সোসাইটিকে নোটিস,  মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে খুশির হাওয়া
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাকপুর: রক্ষা পাবে পানিহাটির ঐতিহাসিক অমরাবতী মাঠ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সোসাইটির ওই মাঠ অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার বারাকপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ বারিক সোসাইটিকে নোটিস পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, কীভাবে ল্যান্ড সিলিং বহির্ভূতভাবে এই বিপুল জমি রাখা হয়েছে, সাতদিনের মধ্যে তা জানাতে হবে। কেন ওই জমি ভেস্ট ঘোষণা করা হবে না, তা তথ্য দিয়ে বাখ্যা দিতে হবে। পাশাপাশি নৈহাটিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাংসদ পার্থ ভৌমিক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অধিগ্রহণের পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে পানিহাটি জুড়ে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে। বামেরাও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটির ফুসফুস অমরাবতী মাঠ। শহরের মাঝে প্রায় ৮৫ বিঘা এই জমির মালিক সোসাইটি ফর দ্য প্রটেকশন অব চিলড্রেন ইন ইন্ডিয়া। আশির দশকে একবার এই মাঠ বিক্রির গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। সেবার পুরসভা নোটিস দিয়ে মাঠ বিক্রি রুখতে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছিল। ১৯৮৪ সালে ওই জমিকে খাস জমিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাম সরকার। এমনকী মাঠে স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস কমপ্লেক্স করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আদালতের দারস্থ হয়েছিল। ২০০১ সালে সরকার পক্ষ পরাজিত হয়। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ওই জমি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতেই থাকবে। তবে বাণিজ্যিক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে ওই জমির কোনও অংশ ব্যবহৃত হলে সরকার আবার পদক্ষেপ নিতে পারবে।
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে এই মাঠ বিক্রির গুঞ্জন তীব্র হয়। পুরসভাও বোর্ড মিটিং করে সোসাইটিকে মাঠের উন্নয়নে ছাড়পত্র দেয়। অভিযোগ ছিল, মাঠের একাংশে বহুতল ও নার্সিংহোমের জন্য জমি বেসরকারি সংস্থাকে লিজে দিয়ে বিপুল অর্থ আয় হবে। সেই টাকার কিছুটা অংশ ব্যয় করে সুইমিং পুল, কমিউনিটি সেন্টার সহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। এনিয়ে শহরে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। এছাড়া মাঠের মধ্যে থাকা কিছু জলাজমিও ভরাট হয়েছে। সব জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দারস্থ হন পানিহাটিবাসী। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আসতেই মঙ্গলবার তিনি নিজে সাংসদ পার্থ ভৌমিককে ফোন করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরে ফোন করে মাঠ বিক্রির চেষ্টা বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দেন। এদিন পার্থবাবু সাংবাদিক সম্মেলনে মাঠ অধিগ্রহণের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ঘোষণা করার পাশপাশি ভূমি সংস্কার দপ্তর সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করে ও প্রশাসনের তরফে সংস্থাকে নোটিস দেওয়া হয়। 
এদিন পার্থবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী খেলার মাঠকে প্রোমোটারি করার বিরুদ্ধে। ওই জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। সিপিএমের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে দুলাল চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
যদিও এদিন সোসাইটির সম্পাদক সৌভিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, মাঠ উন্নয়নের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছিল। কারও সঙ্গে চুক্তি হয়নি। প্রশাসনকে সমস্ত তথ্য দেওয়া হবে। এই মাঠের উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে একসময় সওয়াল করা বিধায়ক নির্মল ঘোষ এদিন বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ