


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ এনে শেষমেশ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পদচ্যূত করতে ‘মোশন ফর রিম্যুভালে’র প্রস্তাব সংক্রান্ত নোটিস দিল বিরোধীরা। লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপল কুমার সিংয়ের হাতে মঙ্গলবার ওই নোটিস দেওয়া হয়েছে। ন’ পাতার চিঠিতে চারটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে স্পিকারকে পদচ্যূত করার প্রক্রিয়া শুরুর অনুরোধ করেছে বিরোধীরা। এদিন ওম বিড়লা সংসদে এলেও সভায় আসেনি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাই বিষয়টির ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সভায় আসবেন না। স্পিকারকে পদচ্যূত করতে কমপক্ষে ১৪ দিন আগে ‘মোশন ফর রিম্যুভালে’র নোটিস জমা দিতে হয়। কমপক্ষে দুজন সাংসদকে স্বাক্ষর করতেই হয়। মে ১১৭ জন সাংসদ সই করেছেন। প্রস্তাবে প্রিয়াঙ্কা সই করলেও স্বাক্ষর নেই বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর।
সই করেননি তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সাংসদই। তাঁরা স্পিকারকে তাঁর ‘কৃতকর্মে’র ব্যাখ্যা দিতে সময় দেওয়ার পক্ষে। একইসঙ্গে স্পিকারের পরিবর্তে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করার বিষটিতেই জোর দিতে চায় তৃণমূল। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এ ব্যাপারে সক্রিয় হবে তারা। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস রাজি না হলেও প্রস্তাবে সই করার জন্য তাদের সঙ্গে ১০৩ জন সাংসদ আছেন বলেই তৃণমূলের দাবি।
তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কংগ্রেসকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, আগে সম্মিলিতভাবে বিরোধীরা একটি চিঠি স্পিকারকে দিক। জবাব দেওয়ার জন্য দুদিন সময়ও দেওয়া হোক। সেটি না এলে মোশন ফর রিম্যুভালের প্রস্তাব আনা হোক। আমরাও সই করব। তিনি আরও বলেন, আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করার উদ্যোগ নিতে। সেই মতো আমরা সক্রিয় হয়েছি।
রাহুল গান্ধীকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বিক্ষোভ দেখানোয় আট সাংসদকে সাসপেন্ড। বিজেপির নিশিকান্ত দুবে প্রাক্তন দুই প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করলেও স্পিকার বাধা দেননি। এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় বিরোধী দলের মহিলা সাংসদদের একাংশ প্রধানমন্ত্রীর আসন পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেটি নাকি কোনও অঘটন ঘটানোর উদ্দেশ্যে। এমনই মন্তব্য স্পিকারের। এই চারটি বিষয় সামনে রেখেই ওম বিড়লাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেই আঙুল তুলেছে বিরোধীরা। যদিও পালটা সরব হয়েছেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। ৪ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা যে প্রধানমন্ত্রীর আসনের দিকে গিয়েছিলেন, তা প্রমাণে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছেন। তবে কংগ্রেসের উপ-মুখ্যসচেতক মানিক্কম টেগরের প্রশ্ন, তখন তো নরেন্দ্র মোদি ছিলেনই না। তাহলে তাঁকে মারার অভিযোগ উঠছে কী করে? তাছাড়া লোকসভা মুলতুবি হওয়ার পরের ছবি সংসদীয় মন্ত্রী কী করে প্রকাশ করেন? এটা অনৈতিক।
এই প্রথম নয়। সংবিধানের ৯৪ (সি) অনুচ্ছেদ সামনে রেখে এর আগেও তিনবার লোকসভার স্পিকারকে পদচ্যূত করার উদ্যোগ হয়েছিল। আনা হয়েছিল মোশন। ১৯৫৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন স্পিকার গণেশ বাসুদেব মভলঙ্করের বিরুদ্ধে। সই করেছিলেন ২১ জন। ১৯৬৬ সালের ২৪ নভেম্বর সর্দার হুকুম সিং। সই করেছিলেন ২৩ জন। তৃতীয়বার ১৯৮৭ সালের ১৫ এপ্রিল বলরাম জাখরের বিরুদ্ধে। কিন্তু কোনওবারই সফল হয়নি। ভোটাভুটিতে বিরোধীরা হেরে যায়।