নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বয়স বছর ৬৫। সল্টলেকে নিজের বাড়িতে একা থাকতেন। প্রতিবেশীরা তাঁকে শেষবার দেখেছিলেন গত মঙ্গলবার। তবে, দুর্গন্ধ বের হতেই দানা বাঁধে সন্দেহের। অবশেষে বন্ধ বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হল বৃদ্ধের মৃতদেহ। বাথরুমের ভিতর তাঁর দেহ পড়েছিল। মিলেছে রক্তের দাগ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দুর্ঘটনাজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু। সজোরে পড়ে গিয়েছে গুরুতর আঘাত পান। তাতে রক্তক্ষরণও হয়। তবে, অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম তাপস রায়। তিনি সল্টলেকের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। তিনি বিবাহবিচ্ছিন্ন ছিলেন। তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ঝাড়খণ্ডে থাকেন। একমাত্র মেয়ে বিবাহিত এবং তিনি দিল্লিতে কর্মরত। সল্টলেকের জিডি ব্লকে নিজের বাড়িতে একা থাকতেন তিনি। প্রতিবেশিদের কথায়, তাপসবাবুর সঙ্গে এলাকার সকলের সম্পর্ক ভালো। তিনি বাইরে গেলে বা আত্মীয়-পরিজনদের বাড়ি গেলে প্রতিবেশীদের জানিয়ে যেতেন। কিন্তু, এ বার কাউকে কিছু জানাননি। অথচ, তাঁকে শেষবার মঙ্গলবার দেখা গিয়েছিল। তারপর তাঁকে আর কেউ দেখেননি। বুধবার রাত থেকে হালকা গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তবে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বাড়ির ভিতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সন্দেহ হওয়ায় এক প্রতিবেশি তাঁর মোবাইলে কয়েকবার ফোনও করেন। কিন্তু, ফোন বেজে যায়। তারপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ভিতর থেকে বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। দরজা ভেঙেই পুলিশকে ভিতরে ঢুকতে হয়। তারপর দেখা যায়, বাথরুমের ভিতর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। দেহে পচনও ধরতে শুরু করেছিল। মঙ্গলবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, দুর্ঘটনাজনিত কারণে এই মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই সঠিক কারণ জানা যাবে। এই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে বৃদ্ধের দেহ। -নিজস্ব চিত্র



