Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাথায় নথি ভর্তি ট্রাঙ্ক, গলায় দলিল ঝুলিয়ে শুনানিতে বৃদ্ধ ,‘আমি মূর্খ, কোনটা লাগবে জানি না’ তোলপাড় ঘাটাল

মাথায় বিশাল লোহার ট্রাঙ্ক। গলায়, কাঁধে ঝুলছে নানা নথিপত্র। ট্রাঙ্কের ওজনে কোমর বেঁকে গিয়েছে।

মাথায় নথি ভর্তি ট্রাঙ্ক, গলায় দলিল ঝুলিয়ে শুনানিতে বৃদ্ধ ,‘আমি  মূর্খ, কোনটা লাগবে জানি না’  তোলপাড় ঘাটাল
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কাজলকান্তি কর্মকার ,ঘাটাল: মাথায় বিশাল লোহার ট্রাঙ্ক। গলায়, কাঁধে ঝুলছে নানা নথিপত্র। ট্রাঙ্কের ওজনে কোমর বেঁকে গিয়েছে। ৭১ বছরের বৃদ্ধ শেখ জাফর আলিকে এইভাবে ঢুকতে দেখে বিস্মিত ঘাটাল বিডিও অফিসের কর্মীরা। তখনও তাঁরা গুছিয়ে বসতে পারেননি। তার মধ্যেই সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধের এই নাটকীয় প্রবেশে চোখ কপালে তাঁদের।

Advertisement

১৮৭ নম্বর অর্থাৎ বলরামগড় হাই মাদ্রাসার বুথের বিএলও শেখ ইসলাম আলির সূত্রে জানা গেল, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে জাফর আলির নাম নথিভুক্ত ছিল ‘জাফর আলি শেখ’ হিসেবে। ২০২৫ সালে তা হয়েছে ‘শেখ জাফর আলি’। নামের এই আগে-পিছে হওয়ার গেরোয় তাঁকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই সমন পেতেই দুশ্চিন্তায় ঘুম ওড়ে বৃদ্ধের। কোনো কাগজ ফেলে গেলে ফের কী বিপদ হয়, সেই আশঙ্কায় বাড়ির যাবতীয় পুরনো দলিল, পর্চা আর নথিপত্র একটি লোহার ট্রাঙ্ক ভরে নিয়ে এসেছেন তিনি। বৃদ্ধ বলেন, আমি  মূর্খ, কোনটা লাগবে জানি না। কিছুটা রাগে এবং কিছুটা সঠিক নথি বেছে নিতে না পারার জন্যই সমস্ত কিছু নিয়ে শুনানিতে যাই।

বাড়ি থেকে বিডিও অফিসের দূরত্ব প্রায় দু’ কিলোমিটার। কিন্তু বয়সের ভার বা নথির ওজন, কোনও কিছুই বাধা হতে পারেনি জাফরের জেদের কাছে। মাথায় লোহার ট্রাঙ্ক চাপিয়ে আর গলার দু’পাশে ফাইলের মালা ঝুলিয়ে যখন তিনি অফিসের বারান্দায় পা রাখলেন, তখন উপস্থিত লোকজন হাসবেন না কাঁদবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। অনেকেই ভেবেছিলেন কোনও ভারী মালপত্র নিয়ে কুলি আসছে বুঝি। কিন্তু বৃদ্ধ সটান হাজির হন শুনানি কক্ষে।জাফর আলির সরল স্বীকারোক্তি— আমি অশিক্ষিত মানুষ। বড় বড় ইংরেজি শব্দের প্যাঁচ বুঝি না। কোনদিন কোন নথির অভাবে নামটা বাদ চলে যাবে, সেই ভয়েই বাড়ির সব কাগজ নিয়ে চলে এসেছি। সাহেবদের যা দরকার, ওরাই বেছে নিক। তাঁর এই কাণ্ড দেখে বিডিও অফিসের আধিকারিকরা যেমন তাজ্জব বনে গিয়েছেন, তেমনই সাধারণ মানুষও হাসি চাপতে পারেননি।

ঘাটাল ব্লক তৃণমূল সভাপতি দিলীপ মাজি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে নথি নিয়ে মানুষের মনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটারদের অযথা হেনস্তা না করে প্রক্রিয়া সহজ করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। তবে দুপুরের দিকে যখন জাফর আলি তাঁর খালি ট্রাঙ্ক মাথায় নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালেন, তখন অন্তত তাঁর মুখে এক চিলতে হাসি ছিল। ভোটার তালিকার জট কাটুক বা না কাটুক, তাঁর এই কাণ্ড যে ঘাটালের মানুষ অনেকদিন মনে রাখবে, তা বলাই বাহুল্য।

 ট্র্যাঙ্ক নিয়ে শেখ জাফর আলি। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ