নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দাদুর বিরুদ্ধে নাতনিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল থানায়। জলঘোলা হতেই বেপাত্তা হয়ে যান তিনি। কিন্তু একদিন পর রেললাইনে উদ্ধার হল বৃদ্ধের দেহ। অনুমান, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনাটি বারাসতের বনমালীপুর এলাকার। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম নিরঞ্জন সাহা (৬৫)। বাড়ি বারাসত পুরসভার ২৯ নং ওয়ার্ডে।
জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ নিরঞ্জন সাহার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন না। কেবল দাদু ও তার এক নাবালিকা নাতনি ছিল। সেই সময় নাবালিকাকে একা পেয়ে নিরঞ্জন তার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তার গোপনাঙ্গে হাত দেওয়ার পাশাপাশি শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। রাতেই বারাসত মহিলা থানায় শ্বশুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার মা। তারপর থেকেই এলাকা থেকে বেপাত্তা হয়ে যায় অভিযুক্ত দাদু। ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তদন্তকারী অফিসার সালমা বেগম টিম নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশিও শুরু করে। কিন্তু তার হদিস মেলেনি। পুলিস সকাল থেকে শুরু করে খোঁজাখুঁজি। বৃহস্পতিবার ১০টা নাগাদ পুলিসের কাছে খবর আসে, বারাসতের বনমালীপুর এলাকায় বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন এক বৃদ্ধ। পুলিস ও পরিবারের লোকজন গিয়ে দেহ শনাক্ত করে। পরে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায় বারাসত জিআরপি। যদিও এনিয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পেশায় হকার নিরঞ্জন। সম্ভবত অনুশোচনা ও অপমানের ভয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি।