সংবাদদাতা, বজবজ: বজবজ পুর এলাকাজুড়ে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছে। অভিযোগ, দলের দুর্দিনে আক্রমণের শিকার হওয়া কর্মী ও প্রাক্তন পদাধিকারীদের পাশে না থেকে তোলাবাজ সুবিধাভোগী তৃণমূলের সঙ্গে নেতাদের একাংশের দহরম মহরম বাড়ছে। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বিজয় মিছিল করা, মাছ ভাতের উৎসবের আয়োজন চলছে। বজবজ যে সব মন্দির কমিটির মোটা অঙ্কের তহবিল রয়েছে, সেগুলির দখল নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এছাড়াও বেআইনি তেল কাটা থেকে তোলাবাজদের মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু হয়েছে। দলের একাংশের নেতাদের এই অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে বিজেপির বড়ো অংশ।
রবিবার বজবজে বড়োসড়ো মিছিল হয়। সেই মিছিল থেকে নাম না করে অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের সমালোচনা ও নিন্দা করা হয়। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে জানানোর কথা বলেন প্রতিবাদকারীরা। তাঁদের ভিতর অন্যতম বজবজ পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক সময়ের বিজেপির বুথ সভাপতি মিতা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের সময় দলের দুর্দিনে এখানে দল করেছি। এজন্য তখন লুৎফর হোসেন ও তার দলবল আমার বাড়ি ও অটো রিকশ ভেঙে দেয়। বাচ্চাদের জামায় চুমকি বসানোর স্বনির্ভর ব্যবসা ছিল। তাও নষ্ট করে দেওয়া হয়। সস্তানদের নিয়ে পথে বসতে হয়েছিল। এরপর মিথ্যা কেসে জেলে যেতে হয়। কিন্তু তারপরও বিজেপি ছেড়ে চলে যায়নি। তাঁর অভিযোগ, বজবজে পরিকল্পনা করে বিজেপিকে হারানো হয়েছে। এর পিছনে দলের ভিতরের একটি অংশের খেলা রয়েছে। তিনি বলেন, দলের এই পরাজয় নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা বা অনুশোচনা নেই। এতদিন বিজেপি করার জন্য যাঁরা আক্রান্ত হল, রুটিরুজি হারাল তাঁদের দিকে দলের কেউ ফিরে তাকাচ্ছে না। উলটে দেখা যাচ্ছে, দলের একটি অংশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অত্যাচারি তৃণমূলীদের গৈরিকীকরণ করতে। কোথাও তাঁদের নিয়ে বিজয় মিছিল হচ্ছে। এমন হবে ভাবিনি।