প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বার্ধক্য ভাতা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করার ঘোষণা আগেই করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কিন্তু কতজন পাচ্ছেন এই বর্ধিত ভাতা? এবং কবেই বা ঢুকবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে? সূত্রের খবর, বাংলার ৬০ লক্ষ ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এই সুবিধা পেতে চলেছেন। আগামী সোমবার তাঁদের অ্যাকাউন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ধিত হারে বার্ধক্য ভাতা পাঠানো শুরু করবে রাজ্য। এক থেকে দু’দিনের মধ্যেই সকল উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। ওইদিন বেশ কয়েকজন উপভোক্তাকে একই হারে বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করবে রাজ্য।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৬০ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে ২০ লক্ষ সুবিধা পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রাপ্ত জাতীয় সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের অধীনে। এক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সি উপভোক্তার জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ হল ২০০ টাকা। আর ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য কেন্দ্র দেয় ৫০০ টাকা। বাকি টাকা নিজস্ব কোষাগার থেকে জোগান দিয়ে এতদিন এক হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দিত রাজ্য। এবার সেটাই বেড়ে হচ্ছে দেড় হাজার টাকা। বাকি ৪০ লক্ষ উপভোক্তাকে সমাজ কল্যাণ দপ্তর পরিচালিত রাজ্যের নিজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে ভাতা প্রদান করবে নবান্ন। সেক্ষেত্রে ৪০ লক্ষের জন্য ভাতা দেওয়ার সম্পূর্ণ খরচই বহন করবে রাজ্য। ৭ সেপ্টেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে বর্ধিত হারে বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, সুষ্ঠুভাবে যাতে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা যোজনার মতো কোনো বিশৃঙ্খলা চাইছে না নবান্ন।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি হিসাবে এরাজ্যে বার্ধক্য ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, এক হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দিত পূর্বতন সরকার। তাহলে তো এই ভাতা ২ হাজার টাকা হওয়া উচিত? প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, পর্যায়ক্রমে এই খাতের সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের। এখন ৫০০ টাকা বাড়ানো হল। নতুন অর্থবর্ষ চালু হলেই বার্ধক্য ভাতা ২ হাজার করার ভাবনা রয়েছে।