সংবাদদাতা, বজবজ: কোমর থেকে দু’টি পা অসাড় বাটানগরের নুঙ্গির গুমসাউ পাড়ার সুশান্ত সাউয়ের। এমন ভয়ঙ্কর প্রতিবন্ধকতার জন্য দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তির সাহায্য ছাড়া জীবনযুদ্ধে নিজেকে টিঁকিয়ে রাখা একপ্রকার অসম্ভব। কিন্তু ‘সুশান্ত সাউ’ একেবারে উল্টে পথে হেঁটেছেন। দেখিয়েছেন, দু’টি পা এবং কোমর অকেজো থাকলেও মনের জোরে আর পাঁচজন সুস্থ ও সবলের মতো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে বেঁচে থাকা যায়। তাই কারও করুণা পেতে নিজের এই অসহয়তা নিয়ে কাঁদুনি গাইতে যাননি কখনও। এই প্রতিবন্ধকতা সঙ্গে নিয়েই দাঁতে দাঁত চেপে বছরের পর বছর রীতিমতো লড়াই চালিয়েছেন। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট এবং যন্ত্রণা হলেও শেষে ক্রাচ নিয়ে উঠে দাঁড়নোর অভ্যাস রপ্ত করেন। প্রতিদিন নুঙ্গি থেকে ভিড় ট্রেনে উঠে বালিগঞ্জ সেখান থেকে ফের ট্রেন বদল করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে গিয়েছেন। একইভাবে ফিরেছেন। যাদবপুর থেকে প্রিন্টিংয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রির পর কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করেন। ধীরে ধীরে ছোটখাট প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করে হাত পাকান। এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। মহেশতলার বাটার নুঙ্গি স্টেশনের অটো স্ট্যান্ডের কাছে দোকান কিনেছেন। সেখানে চলে প্রিন্টিংয়ের যাবতীয় কাজ। টানা ২২ বছর ধরে সুশান্ত সাউ মাথা উঁচু করে ব্যবসা করছেন। এখনও ব্যাঙ্কে যাওয়া থেকে শুরু করে প্রিন্টিংয়ের কাজের যাবতীয় কাঁচামাল কিনতে শিয়ালদহ, বড়বাজার যান একা। তিনি বলেন, ক্রাচের উপর ভরসা করে দৌড়ই। মাঝে মধ্যে একটু ভারসাম্য হারিয়ে যায়। তা নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই। কারণ এই অসম লড়াই করতে করতে শরীর পোক্ত হয়ে গিয়েছে। একটা কথা তিনি বারবার স্মরণ করেছেন, তা হল তাঁর মা যমুনা সাউ পাশে না থাকলে তিনি হারিয়ে যেতেন। কি করে এমন হল? সুশান্তবাবুর কথায়, ১৯৮৩ সালের কথা। তখন বয়স দশ। ক্লাস থ্রিতে পড়ি। সুস্থ ও সবল চেহারা। ফুটবল খেলি। ফরোয়ার্ডে খেলতাম। সাঁতার কাটতাম দু’বেলা। এই সময় পাড়ার একটি ফুটবল ম্যাচে উঁচুতে থাকা একটি বলের দখল নিয়ে লড়াইয়ে বিরুদ্ধ পক্ষের খেলোয়াড় কনুই দিয়ে পিঠে জোরে আঘাত করে। এরপর পিঠে যন্ত্রণা শুরু হয়। ভয়ে বাড়িতে কয়েকদিন বলতে পারিনি। শেষে যন্ত্রণা এতটাই বেড়ে গেল যে, বলতে বাধ্য হলাম। মা বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। পিঠের অপারেশন হল। তাতে কিছুই হল না। কোমর থেকে দু’টি পা অসাড় হয়ে গেল। এরপর বহু জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু কিছুই হয়নি। শুরুতে ভুল অপারেশেন হয়েছিল। তার খেসারত দিতে হল।



