Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেস্তরাঁয় অপরিচ্ছন্ন কিচেন, বাসি ও নষ্ট মাছ মাংস, হানা দিয়ে অবাক আধিকারিকরা

ইংলিশবাজার শহরজুড়ে ছোটো-বড়ো নানা মাপের রেস্তরাঁ। সন্ধ্যা নামতেই সেসব রেস্তরাঁর সামনে খাদ্যরসিকদের লম্বা লাইন

রেস্তরাঁয় অপরিচ্ছন্ন কিচেন, বাসি ও নষ্ট মাছ মাংস, হানা দিয়ে অবাক আধিকারিকরা
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: ইংলিশবাজার শহরজুড়ে ছোটো-বড়ো নানা মাপের রেস্তরাঁ। সন্ধ্যা নামতেই সেসব রেস্তরাঁর সামনে খাদ্যরসিকদের লম্বা লাইন। অনেকে আবার লাইন এড়াতে ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে ওই রেস্তরাঁগুলি থেকে বাড়িতেই আনিয়ে নেন সুস্বাদু বিভিন্ন পদ। কিন্তু কতটা স্বাস্থ্য সম্মত খাবার তৈরি করছে ওই রেস্তরাঁগুলি? যে কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা টাটকা তো? জেলা প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার যে তথ্য সামনে এল, তা কিন্তু উদ্বেগজনক খাদ্যরসিকদের পক্ষে।

Advertisement

এদিন মালদহ শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে দেখা গিয়েছে, সঞ্চিত রাখা মাছ, মাংস সহ বিভিন্ন সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে রাখা রয়েছে ফ্রিজে। কোথাও দু’ থেকে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। খাবার অর্ডার করার সময় রেস্তরাঁর অন্দরমহলের হাল হকিকত জানা থাকে না প্রায় কোনো ক্রেতারই। কিন্তু এদিন পর্দাফাঁস হয়েছে অনেকখানি। ঝলঝলিয়া এলাকার স্টেশন রোডে থাকা বাঙালি খাবার পরিবেশনের জন্য পরিচিত একটি রেস্তরাঁয় অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবারের কাঁচামাল মিলেছে বলে অভিযোগ। খাবারে বিপজ্জনক রং মেশানোরও অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। একই অভিযোগ অন্যান্য কিছু তথাকথিত জনপ্রিয় রেস্তরাঁর ক্ষেত্রেও। কিছু রেস্তরাঁয় আবার পরিচ্ছন্নতার দফারফা বলে জানা গিয়েছে। মালদহ শহরের কেজে সান্যাল রোডে ইংলিশবাজার থানার কাছে থাকা আরেকটি জনপ্রিয় রেস্তরাঁয় খাবার তৈরির পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিযানকারীরা।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) অনিরুদ্ধ নন্দী বলেন, এদিনের অভিযানে যা সামনে এসেছে অনেক ক্ষেত্রেই তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্টেশন রোডের রেস্তরাঁটির খাবারের নমুনা তো আমরা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠাচ্ছি। অন্য রেস্তরাঁগুলিকেও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এমন আচমকা অভিযান চলতে থাকবে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর পুরো বিষয়টির ওপরে নজর রাখছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এরপর বিষয়টিতে যুক্ত করা হবে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরকেও। চড়া দাম নিয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি খাবার বিক্রি করে মোটা মুনাফা করার প্রবণতা বন্ধ করতে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ স্থানীয় আধিকারিকরা।  রেস্তরাঁতে অভিযান।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ