Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর মনোনীত আধিকারিকরা! স্বাধিকারের প্রশ্ন তুলে বিতর্ক

পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময় মন্তব্য করেছিলেন, সরকার টাকা দেয়, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর সরকারি নজরদারি থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর মনোনীত আধিকারিকরা! স্বাধিকারের প্রশ্ন তুলে বিতর্ক
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময় মন্তব্য করেছিলেন, সরকার টাকা দেয়, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর সরকারি নজরদারি থাকবে। তার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। শুক্রবার বিজেপি-শাসিত সরকারের শিক্ষাদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ফের সেই বিতর্কই দানা বাঁধছে। সরাসরি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সদস্য করে পাঠানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট এবং এগজিকিউটিভ কাউন্সিলে (ইসি)। এদিন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১৪টি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তর মনোনীত আধিকারিকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা চারবছর কোর্ট এবং ইসি সদস্য থাকবেন। তবে, এই বিজ্ঞপ্তির নীচে যুক্ত একাধিক নির্দেশ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ দেখছে শিক্ষামহল। যেমন—কলকাতার বাইরে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে কোর্ট বা ইসির বৈঠক শনিবার করতে হবে। অন্য কাজের দিনে বৈঠক ডাকতে হলে তা করতে হবে দিনের শেষে। অর্থাৎ প্রথার পরিবর্তন হতে চলেছে। তবে, মূল বিতর্কের জায়গা হল—বৈঠকের আলোচ্য সূচি শিক্ষাসচিব এবং উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীকে আগাম জানাতে বলা হয়েছে। এমনকি, তাঁদের সঙ্গে আগাম আলোচনা করেই বৈঠকে যেতে হবে আধিকারিকদের। আরও নির্দেশ—বৈঠকের মিনিটস প্রকাশের আগেই আলোচিত বিষয়সমূহ নোট আকারে শিক্ষাসচিবের মাধ্যমে মন্ত্রীকে পাঠাতে হবে। এতে অবাক নেতৃস্থানীয় প্রবীণ অধ্যাপক কেশব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘কিছু পলিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আলোচনা হত ঠিকই কিন্তু আগেভাগে গোটা এজেন্ডা জানাতে হবে বা বৈঠকের পরেই নোট হিসাবে আলোচিত বিষয়সমূহ পাঠাতে হবে, এমন কখনো দেখিনি।’ অন্যদিকে, ওয়েবকুটার সাধারণ সম্পাদক নিলয় সাহা বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীনতা-উত্তর যুগে শিক্ষাবিদরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি, গত ১৫ বছরেও শাসক-ঘনিষ্ঠ শিক্ষাবিদরাই দপ্তরের মনোনীত সদস্য হিসাবে এসেছেন। সরাসরি আধিকারিকদের বসিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর সরকার তার মুঠি কঠোর করতে চাইছে। এতে শিক্ষার উন্নতি হবে না।’

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ