


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, বৃহস্পতিবার শুরু হবে ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া। বাবা-মা বা আত্মীয়ের নামে গলদ থেকে বয়সের অস্বাভাবিক পার্থক্য—এরকম একাধিক কারণ দেখিয়ে রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে ৪২ লক্ষ ভোটারকে ইতিমধ্যে ছাড় দিয়েছে তারা। বাকি ৯৪ লক্ষের কাছে গিয়েছে শুনানির নোটিশ। কিন্তু শুনানিতে ডাক পাওয়া এই ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে ধন্দে আধিকারিকরাই। বিষয়টি নিয়ে কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় এবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন এইআরও-দের একাংশ। চিঠিতে তাঁরা জানতে চেয়েছেন, ‘সন্দেহজনক’ ভোটারদের ক্ষেত্রে কোন নথি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে?
‘সন্দেহজনক’ চিহ্নিত ভোটারদের সিংহভাগের ক্ষেত্রেই ইনিউমারেশন ফর্মে উল্লিখিত বাবা-মা বা আত্মীয়ের নামে গলদ ধরা পড়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে বাবা বা মায়ের সঙ্গে ভোটারের বয়সের ফারাক ১৫ বছর। এছাড়াও ছ’জন বা তার বেশি ভোটার একজন ব্যক্তিকেই বাবা বা আত্নীয় হিসেবে দেখিয়েছেন, এমন ভোটারদেরও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। শুনানির নোটিস পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) মারফত এই ভোটারদের কাছে নথি চেয়ে পাঠিয়েছিল কমিশন। জানা গিয়েছে, নথি জমা দেওয়ার পর অন্তত ৪২ লক্ষ ভোটার আর সন্দেহ তেকে মুক্ত হয়েছেন। বাকি ৯৪ লক্ষ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের শুনানি যাঁরা করবেন, তাঁরাই এখন ধন্দে। কারণ, এসব ভোটারের কোন নথি গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়েই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। কারণ, এনিয়ে কমিশনের কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। পঞ্চায়েত দপ্তরে কর্মরত অ্যাসিস্ট্যান্ট পোগ্রাম অফিসাররা এইআরও হিসাবে কাজ করছেন। তাঁদের সংগঠন ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট পোগ্রাম অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরকে সিইও-কে পাঠানো চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, কোনও লিখিত নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে না। হোয়াটসঅ্যাপে ও মৌখিকভাবে যাবতীয় নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কমিশন নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের জারি করা ফ্যামিলি রেজিস্টার সংক্রান্ত নথি থাকলেও সন্দেহজনক ভোটারদের ক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। চিঠিতে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, কমিশন জানিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিক সহ রাজ্যের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের শুনানিতে আসতে হবে না। কমিশন তাঁদের জন্য পোর্টাল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করতে চলেছে বলে খবর। শুনানির নোটিস পাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা পোর্টালে ‘লগ ইন’ করে নথি আপলোড করলেই হবে। অথবা, বিএলও’র হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নথি পাঠালেও তা গৃহীত হবে। পরে প্রাপ্ত নথি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম তোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।