সংবাদদাতা, মানকর: মানকরের কবিরাজ বাড়ির কালীপুজো ৩০০ বছরের বেশি প্রাচীন। এই কালী আনন্দময়ী নামে পরিচিত। কালীপুজোর দিন দেবীকে প্রায় ১৮ কেজি চালের নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়।
কবিরাজ পরিবারের সদস্য রাজবল্লভ গুপ্ত ছিলেন বর্ধমানের রাজা উদয়চাঁদের কবিরাজ। কথিত আছে, একসময় রাজার মেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজবল্লভ চিকিৎসা করে মেয়েকে সুস্থ করে তোলেন। রাজা খুশি হয়ে মানকরে তাঁদের বেশ কিছু জমি প্রদান করেন। রাজবৈদ্য হিসাবে নিযুক্ত হন রাজবল্লভ গুপ্ত। তারপরে মানকরে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। শুরু করেন আনন্দময়ী কালীর পুজো। পরিবারের সদস্যরা জানান, আনন্দময়ীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে সুদূর কাশী থেকে মায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তি নিয়ে এসেছিলেন তিনি। মূর্তির বিশেষত্ব হল এখানে শিব শায়িত রয়েছেন। শিবের নাভির উপরেই দেবী পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত। এই মূর্তি বিরল। এখানে মূর্তির উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট। এক সময় দুষ্কৃতীরা এই মূর্তির ওপর আঘাত করেছিল। তাই দাঁইহাটের শিল্পী নবীন ভাস্কর মূর্তি পুনঃনির্মাণ করেন। আনন্দময়ী মন্দিরের দুই পাশে শ্বেতপাথরের দুটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন পরিবারের সুরজিৎ গুপ্ত, অভিজিৎ গুপ্তরা। তাঁরা জানান, প্রতিবছর পুজোর আগে মায়ের অঙ্গরাগ হয়। অর্থাৎ মাকে রঙ করা হয়। এই সময় কবিরাজ বাড়ির লোকেরা মন্দিরে ঢোকেন না। এখানে পুজো সন্ধ্যার মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয়। সারা বছর দেবীর পুজো হয় মন্দিরে। পাশাপাশি, দুর্গাপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমীর দিন, মাঘ মাসে রটন্তী পুজোর দিন ও চৈত্র মাসে ফলহারিণী পুজো হয় এখানে।
কবিরাজ পরিবার সূত্রে জানা যায়, কালীপুজোর দিন ১৯ সের চালের নৈবেদ্য দেবীকে নিবেদন করা হয়। পরের দিন দেওয়া হয় ৫ সের চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। পুজোর দিন মায়ের ভোগে লুচি এবং বিভিন্ন রকমের মিষ্টি দেওয়া হয়। একসময় দেবী পুজোর পর ব্রাহ্মণ ভোজনের রীতি ছিল। বর্তমানে ব্রাহ্মণরা প্রসাদ বাড়িতে নিয়ে চলে যান। স্থানীয়দের বিশ্বাস আনন্দময়ীর পুকুরে রাতে নামা নিষিদ্ধ। স্থানীয়রা সেটি পালন করেন। কবিরাজ বাড়িতে রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পদধূলি দিয়েছেন। প্রাচীন এই পুজো দেখতে উৎসুক থাকেন এলাকার বাসিন্দারা।



