


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের দিন বোমা ফাটলে বা সাধারণ মানুষকে বোমার ভয় দেখানো হলে সংশ্লিষ্ট থানার ইনসপেক্টর বা ওসি সহ তদারকির দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ইতিমধ্যে বিস্ফোরক উদ্ধার, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার জন্য রাজ্যের সমস্ত থানার কাছে নির্দেশ গিয়েছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণ রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে কমিশনের তরফে সমস্ত জেলার এসপি, কমিশনারেটের কমিশনার সহ শীর্ষ পুলিশকর্তাদের কাছে বারবার নির্দেশ গিয়েছে, জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে হিস্ট্রি শিটার, ট্রাবল মঙ্গার তথা দাগি অপরাধীদের জেলে ভরার ফরমান এসেছে। তারপরেও জেলার থানাগুলির এনিয়ে কোনও হেলদোল নেই বলে খবর পৌঁছেছে কমিশনের কাছে। এরপরই কমিশন রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের জানিয়ে দেয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে কড়া পদক্ষেপ করতেই হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা তারা বরদাস্ত করবে না। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন সমস্ত জেলায়। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও বিস্ফোরক উদ্ধারে জোর দিতে হবে। বিস্ফোরক উদ্ধারে ব্যর্থ হলে তা দিয়েই বোমা তৈরি করে নির্বাচনের দিন ব্যবহার করা হবে ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য। বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটপর্ব বাঞ্চাল করতে পারে দুষ্কৃতীরা। ভোটে একটিও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটুক, চায় না নির্বাচন কমিশন। যে কোনো ধরনের বিস্ফোরণ বা বোমা নিয়ে ভয় দেখানোর বিষয়টি কমিশন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবে। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা আইসি এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা অফিসারদের বিভাগীয় শাস্তি অর্থাৎ ‘সাসপেন্ড’ করবে কমিশন। এমনকি, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চললে বা তা দিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো হলে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাবল মঙ্গার, দাগি অপরাধী, জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত পাকড়াও করতে হবে। সাসপেনশনের ভয় থাকায় থানার ওসি, আইসিরা এই নির্দেশ পেয়েই নড়েচড়ে বসেছেন বলে খবর।
এদিকে, ভোটে বিভিন্ন জেলায় ডিউটি করতে যেতে হয় পুলিশকর্মীদের। রাজ্য পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, কোনো জেলায় পুলিশকর্মীর সংখ্যায় ঘাটতি যেন না হয়। ডিউটিতে যাওয়া প্রতিটি পুলিশকর্মীকে রাখতে হবে লাঠি, ঢাল ও অনুমোদিত সার্ভিস রিভালভার। পুলিশ বাহিনীর যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।