নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আক্ষরিক অর্থেই ‘বুলেট’-বিদ্ধ বঙ্গ বিজেপি। পার্টির স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ইন্দ্রজিৎ সিনহা ওরফে বুলেটকে নিয়ে ‘বর্তমান’-এ খবর প্রকাশের পরই গেরুয়া শিবিরের হইচই পড়ে গিয়েছে। কেননা, ২০১৫ সাল থেকে রাজ্যজুড়ে অসংখ্য বিজেপি কর্মী-সমর্থককে হাসাপাতালে ভর্তি করার কাজে ব্রতী ছিলেন এই ‘বুলেট’। অথচ বর্তমানে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও কোনও হাসপাতালে বেড জুটছে না তাঁর। চরম আর্থিক সঙ্কটে ভুগছেন বিজেপির রাজ্য কমিটির প্রাক্তন এই সদস্য। দু’মুঠো পেটের ভাত জোগাতে তারাপীঠ মন্দিরের শ্মশানে ভিক্ষা করতে বাধ্য হয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ। পার্টির শীর্ষ নেতাদের দুয়ারে সাহায্য প্রার্থনা করেও ফিরেছেন খালি হাতে। এই সংবাদ প্রকাশের পরেই বিজেপির ভাবমূর্তি রক্ষায় তৎপর হয়েছেন নেতারা। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সামাজিক মাধ্যমে বুলেটকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ওই কর্মীকে বীরভূম থেকে কলকাতায় আনতে চেয়েছিলেন ‘দাদা’। কিন্তু তার আগেই বিরোধী দলনেতা নিজের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারাপীঠ মন্দিরের সামনে থেকে গাড়িতে তুলে সোমবারই ইন্দ্রজিৎকে বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
Advertisement
সূত্রের দাবি, বুলেটের এই দুরবস্থার করুণ কাহিনি ফাঁস হয়ে যাওয়ার যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়েছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, ইন্দ্রজিতের এই শোচনীয় হালের কথা বহু নেতাই জানতেন। কিন্তু কেউ উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। ‘বর্তমান’-এ এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে সহযোগিতা করার ধুম পড়ে গিয়েছে রাজ্য বিজেপিতে। পার্টির প্রাক্তন এক প্রভাবশালী নেতা ইন্দ্রজিৎ সিনহার বিষয়টি দলের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে বুলেটকে দিল্লির এইমসে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হতে পারে। একইসঙ্গে দলের একটা অংশ বঙ্গ বিজেপির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। তাঁদের বক্তব্য, এই নেতারা ঠান্ডাঘরে বসে স্রেফ মিডিয়ায় লম্বা-চওড়া ভাষণ দেন। রাস্তায়-মাঠে নেমে তাঁরা কর্মী-সমর্থকদের মনের কথা শোনার সময় পান না। বিভিন্ন জেলা থেকে ‘তোলা’র টাকা ভাগ করার কাজেও ব্যস্ত অনেকে। সেই কারণে লক্ষ লক্ষ সক্রিয় পার্টি কর্মী-সমর্থক বসে যাচ্ছেন। কোনও ভোটেই কল্কে পাচ্ছে না বিজেপি। ইন্দ্রজিতের করুণ কাহিনিই বুঝিয়ে দিল দেশের শাসক দলের বঙ্গে কেন এমন করুণ দশা!



