Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়ায় শুনানিতে ডাকা ৪০ শতাংশ ভোটারের বিরুদ্ধেই ‘অবজেকশন’ অবজার্ভারদের, ৩ লক্ষাধিক নথি পুনর্যাচাই

নদীয়া জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির জন্য জেলায় প্রায় আট লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল।

নদীয়ায় শুনানিতে ডাকা ৪০ শতাংশ ভোটারের বিরুদ্ধেই ‘অবজেকশন’ অবজার্ভারদের, ৩ লক্ষাধিক নথি পুনর্যাচাই
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির জন্য জেলায় প্রায় আট লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারের নথি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভারদের তরফে ইআরও এবং এইআরওদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ‘অবজেকশন’ ওঠা ওই ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Advertisement

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, যে সমস্ত ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি উঠেছে, তাঁদের সিংহভাগই ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসাবে চিহ্নিত। অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় নাম, ঠিকানা, বয়স বা পারিবারিক তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ রয়েছে। জেলায় মোট ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র সংখ্যা ৫ লক্ষ ২০ হাজার জন। সেই নিরিখে ৬০ শতাংশেরও বেশি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটারের নথি পুনর্যাচাই করা হচ্ছে। শনিবার বেলা পর্যন্ত মোট ৩ লক্ষ ২১ হাজার ভোটারের নথি পুনরায় যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে ২ লক্ষ ১২ হাজার ৫৩৪ জন ভোটারের নথি মাইক্রো অবজার্ভাররা যাচাইয়ের জন্য পাঠিয়েছেন। ১ লক্ষ ৮৫৭৯ জন ভোটারের নথি রোল অবজার্ভারের তরফে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে দাবি, যাচাই প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে এগোচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব সহ মোট ১৭টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই নথি যাচাই চলছে। শুধুমাত্র করিমপুর বিধানসভায় প্রায় ১৪ হাজার, তেহট্ট বিধানসভায় ১২ হাজার, পলাশীপাড়া বিধানসভায় ১৮ হাজার এবং রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভায় ২১ হাজার ভোটারের নথি পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় এসেছে। তবে, এই পরিসংখ্যানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এতে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোটারদের উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে।‌ উল্লেখ্য, যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে না। কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, যাঁদের নথি নিয়ে আপত্তি উঠেছে, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ