নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বুধবার ভোটের সময় প্রায় সব কেন্দ্রের প্রার্থীরা এক বুথ থেকে আরেক বুথে দৌড়লেন। কোথায় কেমন ভোট হচ্ছে খোঁজ নিলেন। এদিক থেকে ব্যতিক্রম রইলেন ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজের পার্টি অফিসের অ্যান্টি চেম্বারে বসে গোটা ভোট পরিচালনা করলেন। সারাদিন তাঁকে একবারের জন্যও বাইরে বেরোতে দেখা যায়নি। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঠিক মুখে বুথে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন তিনি। আর দিনভর ফলতার রাস্তায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি, সিআরপিএফের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং নবনিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। গোটা কেন্দ্রের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেও অশান্তির কোনো প্রমাণ বা ঘটনা খুঁজেই বের করতে পারেননি তাঁরা। দাবি তৃণমূলের।
উলটে একটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের ব্যাপক লাঠিচার্জ করার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। এসবের মধ্যেই অবশ্য এই কেন্দ্রে বিতর্ক পিছু ছাড়ল না। অভিযোগ, দুটি বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রার্থীর নামের পাশে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল! এনিয়ে সরব হয়েছে পদ্মপার্টি। তারা ওই দুটি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তবে একই কাণ্ড মহেশতলার তিনটি বুথে হয়েছে। সেগুলি হল—২৬ ও ২৩৪ নম্বর বুথ। আর ৮৮ নম্বর বুথের ইভিএমে বিজেপির নামের উপর ছড়ানো হয়েছিল আতর! এদিকে, তৃণমূলের আরও দাবি, উদ্ধারে সঘোষিত ‘সিংহম’কে আসরে নামানো হলেও ২৮০টি বুথের মধ্যে মাত্র একটিতে এজেন্ট দিতে পেরেছে বিজেপি।
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই ফলতা। ভোটের দুদিন আগে থেকেই সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কমিশনের নিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের ওই পুলিশ পর্যবেক্ষক তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভোটাররা যাতে নির্ভয় ভোট দিতে পারেন তার জন্য আনা হয় বাড়তি বাহিনীও। এমনকি সিআরপিএফের ডিজি ও আইজি পদমর্যাদার অফিসারদেরকেও ছুটতে হয় ডায়মন্ডহারবার। বুধবার সকালে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়। ডায়মন্ডহারবার রেল স্টেশনের কাছে একটি স্কুলে খোলা হয় অস্থায়ী ক্যাম্প। ফলতা, ডায়মন্ডহারবার, মগরাহাট পূর্ব ও মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রে দফায় দফায় টহল দিয়েছে বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষক। কিন্তু কোথাও কোনো অশান্তি বা গোলমালের প্রমাণ মেলেনি। কিছু না পেয়ে মাঝেমধ্যেই তৃণমূলের ক্যাম্পে গিয়ে কর্মীদের শাসিয়ে এসেছে বাহিনী। বাইরে যখন জওয়ান এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকের দাপাদাপি চলছে, তখন একেবারে খোশমেজাজে মেঘের আড়াল থেকে তৃণমূল প্রার্থী তাঁর কেন্দ্রের ভোটের হাল হকিকত জানলেন এবং ভোট পরিচালনা করলেন একা হাতেই।
দুপুরের পর জাহাঙ্গিরের পার্টি অফিসের বাইরেটা শুনশান হয়ে যায়। যেন হাল ছেড়ে দিয়েছে বাহিনী ও পর্যবেক্ষক। সন্ধ্যার দিকে ভোট দিয়ে বেরোনোর সময় তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘ফলতার মানুষ ভোট দিয়েছেন উৎসবের মেজাজে। কিন্তু যেভাবে পুলিশ পর্যবেক্ষক ও বাহিনী মানুষজনকে ভয় দেখিয়েছেন, মহিলাদের উপর লাঠিচার্জ করেছেন, সেটা গণদেবতা ভালোভাবে নেয়নি। তাই তাঁদের উচিতশিক্ষা দিতে তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছেন সকলে।’