Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সতর্ক করল বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, জারি বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সতর্ক করল সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বাংলাদেশে বসবাসের বৈধ নথিপত্র না দেখাতে পারলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সতর্ক করল বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, জারি বিজ্ঞপ্তি
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের সতর্ক করল সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। বাংলাদেশে বসবাসের বৈধ নথিপত্র না দেখাতে পারলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। আজ, রবিবার এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
Advertisement
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনেক বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। এমনকী যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করছেন। এই সমস্ত বিদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে তাঁদের বৈধতা প্রমাণ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিটি অস্বীকার করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “অনেক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তবে আমি কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম বলতে চাই না। কিন্তু বেআইনিভাবে কোনও বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না।”  
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। এই আবহে আগামী কাল ঢাকা সফরে যাচ্ছেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রি। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বিদেশ সচিব মহম্মদ জসিমুদ্দিনের সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন। তার আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেক।
প্রসঙ্গত, সংখ্যালঘু নির্যাতনে একাধিকবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পথে নেমেছিলেন হিন্দুরা। সেই আন্দোলনের প্রধান মুখ সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের পরই পরিস্থিতি খারাপ হয়। ‘বৈষম্যবিরোধী’ বাংলাদেশে ফের টার্গেট হন হিন্দুরা। সমাজমাধ্যমে ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে, এই ‘ধুয়ো’ তুলে গত মঙ্গলবার রাতভর তাণ্ডব চলে সিলেটের সুনামগঞ্জে। সেখানকার দোয়ারাবাজার উপজেলায় নির্বিচারে ভাঙচুর করা হয় হিন্দুদের বাড়ি ও দোকান। সঙ্গে চলে লুটপাট। হামলা থেকে রক্ষা পায়নি মন্দিরও। লোকনাথ মন্দিরে ভাঙচুরের পর সেখান থেকে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করা হয়। পুলিস ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এমনকী কতগুলি জায়গায় ভাঙচুর হয়েছে, তা নিয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, চল্লিশেরও বেশি বাড়ি, দোকান ভাঙচুর হয়েছে। কয়েকটি সূত্র আবার জানিয়েছে, সংখ্যাটা একশোর বেশি। প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতেও বাধ্য হয় বহু হিন্দু পরিবার। একের পর এক এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরে চাপের মুখে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই পরিস্থিতিতে গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ‘জাতীয় ঐক্য’ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি বৈঠকে বসেন। সেখানে বিএনপি-জামাত ডাক পেলেও সংখ্যালঘুদের তরফে কোনও সংগঠন ছিল না। ফলে ইউনুস সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ