Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির ঘটনায়   চম্পাহাটি থেকে গ্রেপ্তার আরও এক

অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির ঘটনায়   চম্পাহাটি থেকে গ্রেপ্তার আরও এক
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: বৈধ আর্মসের মালিক জানেন না তাঁর লাইসেন্স ব্যবহার করে গুলি পাচার হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। আবার লাইসেন্স পাওয়া ব্যক্তি যে আগ্নেয়াস্ত্র কেনেননি, সেই তথ্য জোগাড় করে নথি জালিয়াতির মাধ্যমে কেনা হচ্ছিল বিভিন্ন বন্দুক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থেকে কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পেয়েছে বেঙ্গল এসটিএফ। এই ঘটনায় রবিবার রাতে চম্পাহাটি থেকে শান্তনু সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। অভিযুক্ত লালবাজার সংলগ্ন ওই দোকানের কর্মী ছিল। সে দোনলা বন্দুক বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ। এসটিএফ তদন্তে নেমে জেনেছে, দোকানের কর্মী জয়ন্ত ও শান্তনু বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন মারফত খোঁজখবর করত, ওই এলাকায় আর্মসের লাইসেন্স কার কার রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাইত গুলির প্রয়োজন আছে কি না। তাঁদের বলা হতো, দরকার লাগলে তারা সাহায্য করতে রাজি। কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলে লাইসেন্সের কপি নিয়ে গুলি তুলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দিত। একইসঙ্গে তাঁর লাইসেন্সের ফটোকপি রেখে দিত। সেটি দিয়ে দুই অভিযুক্ত পরে গুলি তুলে নিত। সেটা জানতেই পারতেন না বৈধ আর্মসের মালিক। এমনকী লাইসেন্সধারী অনেকে এই দোকান সহ বিভিন্ন দোকানের আর্মারিতে বন্দুক জমা রাখেন মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে। লাইসেন্সের নথি জমা থাকে দোকানে। অভিযুক্তরা দোকানে জমা থাকা নথির সাহায্যে গুলি ইস্যু করত আসল মালিকের নামে। খাতায় কলমে আসল মালিকের নামই রেজিস্টারে তোলা হতো। বাস্তবে এই গুলি চড়া দামে চলে যেত অবৈধ কারবারিদের হাতে। দিনের পর দিন এই কারবার চালিয়ে গিয়েছে অভিযুক্তরা। যাঁদের নামে লাইসেন্স, তাঁরা এর বিন্দুবিসর্গও জানতে পারেননি। 
Advertisement
বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে বাইরে গেল, তার তদন্ত করতে গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। জেলায় আর্মসের লাইসেন্স ইস্যু করা হয় ডিএমদের তরফে। আর কমিশনারেট এলাকায় সেটা পুলিস কমিশনার করে থাকেন। আর্মস কিনলে তার তথ্য থানা ও কমিশনারেটে জমা করতে হয়। অভিযুক্ত শান্তনু খোঁজখবর করে জানত, কারা আর্মস কেনেননি। এরপর তাঁদের লাইসেন্সের নথি জোগাড় করে সেটির জাল কপি তৈরি করত। সেটি জমা করে আর্মস কিনত। অভিযোগ, এই কায়দায় বিভিন্ন দোকান থেকে একাধিক বন্দুক কিনে দুষ্কৃতীদের হাতে দিয়েছে অভিযুক্ত শান্তনু। 
তদন্তে উঠে এসেছে শান্তনুর চালচলন ইদানীং বদলে গিয়েছিল। সামান্য একজন বন্দুকের দোকানের কর্মী ৫০ লক্ষ টাকা খরচ করে বাড়ি তৈরি করেছে। বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির টাকা এই কাজে সে ব্যবহার করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ