


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মেনে বেঞ্চমার্ক সমীক্ষা চালিয়ে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় নতুন জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি এবং উপ-শ্রেণিকরনের সুপারিশ করেছিল ওয়েস্টবেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস। যা মেনে ১১৩টি বাতিল হওয়া অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে ৭৬টিকে তালিকাভুক্ত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য। সেই সঙ্গে রাজ্যের ওবিসি তালিকায় থাকা মোট ১৪০টি জনগোষ্ঠীর উপ-শ্রেণিকরনের বিজ্ঞপ্তিও জারি করে রাজ্য। গত ২ জুন যার ছাড়পত্রও দেয় রাজ্য মন্ত্রিসভা। আর এর জেরে কেটেছে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত সমস্ত জটিলতা। এই বিষয়টি মঙ্গলবার বিধানসভায় পেশ করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পর থেকেই, ধর্মের ভিত্তিতে এই অন্তর্ভুক্তিকরন এবং উপ-শ্রেণিকরনের কাজ করা হয়েছে বলে মিথ্যাচার চলেছে বিভিন্ন মহলে। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভায় এই কাজ সংক্রান্ত আদালতের অর্ডার, কমিশনের সুপারিশের কাগজ, রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির কপি সহ সমস্ত নথি বিধানসভায় পেশ করে এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন বাংলার অগ্নিকন্যা। এদিন তিনি বলেন, একেবারে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত প্রচার চালিয়ে এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বেঞ্চমার্ক সমীক্ষা চালিয়েছে কমিশন। যার সুপারিশই হল, এই অন্তর্ভুক্তি করণ এবংউপ-শ্রেণিকরনের ভিত্তি। ধর্মের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। আশা করি, আজকের পরে আর কোনও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালিয়ে মানুষে মানুষে ভাগাভাগির চেষ্টা করা হবে না। সেই সঙ্গে এর ফলে আটকে থাকা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি থেকে শুরু করে নিয়োগ প্রক্রিয়া মসৃণ ভাবে চালানো যাবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। কারণ, তাঁর কথা অনুযায়ী, জটিলতা কেটে যাওয়ায় দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা মানুষ এবার অনগ্রসর শ্রেণি শংসাপত্র বা ওবিসি সার্টিফিকেট পেতে শুরু করবেন।
এদিন কমিশনের ২০২৪-২৫ পূর্ণাঙ্গ এবং ২০২৫-২৬ সালের অন্তর্বর্তী রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হয়। তাতে কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ব্যুরো অব অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্সকে দিয়ে সমীক্ষা ও পরবর্তীতে কত তারিখে এই সংক্রান্ত কোন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বেশি অনগ্রসর শ্রেণিকে ওবিসি-‘এ’ এবং অপেক্ষাকৃত কম অনগ্রসরকে ওবিসি-‘বি’ তে উপ-শ্রেণিকরনের সমস্ত তথ্যও। এছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, সমীক্ষা চালিয়ে বাতিল হয়ে যাওয়া ১১৩টি সহ মোট ১১৭টি শ্রেণির মধ্যে ৭৬টিকে অন্তর্ভুক্তির সুপরিশ করে কমিশন। এদের মধ্যে ২৭মে ৫১টি শ্রেণি এবং ৩ জুন ২৫টি শ্রেণিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য। উপ-শ্রেণিকরনে এই ৭৬টির মধ্যে ওবিসি-‘এ’ ৩৫টি এবং ওবিসি-‘বি’ ৪১টি। সেই সঙ্গে ২০১০-র আগের তালিকাভুক্ত হওয়া ৬৪টি জনগোষ্ঠীকে উপ-শ্রেণিকরন করে ১৪টিকে ওবিসি-‘এ’ এবং ৫০ টিকে ওবিসি-‘বি’তে রাখা হয়েছে। বর্তমানে কমিশন আরও ৫০টির সমীক্ষা চালাচ্ছে। যার কাজ সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট করে দেওয়া তিন মাসের সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে বলেও আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। তবে বাম আমলে কোনও সমীক্ষা ছাড়াই শ্রেণি অন্তর্ভুক্তির কাজ হতো বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থাপনের পর অধিবেশনের বিরতি হয়। এরপর অভিযোগের ঝুড়ি নিয়ে আসরে নামে বিরোধী বিজেপি। তোষণের অভিযোগ তুলে ওঠে জয় শ্রীরাম স্লোগান। পাল্টা জয় জগন্নাথ স্লোগানে অধিবেশন কক্ষ মুখরিত করে শাসকপক্ষ।
অন্যদিকে,মাহিষ্যদের ওবিসি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠছে। পশ্চিমবঙ্গ মাহিষ্য সমাজের পক্ষে দিব্যেন্দু বাগ বলেন, ‘আমরা রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ। অধিকাংশই পিছিয়ে পড়া অংশের। এরই পাশাপাশি মুসলিমদের মুন্সি এবং খানচৌধুরীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানাচ্ছি।’