ওবিসি ক্রিমি লেয়ার: কেন্দ্রের দু’বছর সময় চাওয়ার আরজি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: শুধুমাত্র বাবা-মায়ের আয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘ক্রিমি লেয়ার’ হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে না। শুক্রবার গত ১১ মার্চের রায়ই পুনর্বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। রায় কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রের তরফে দু’বছর সময় চাওয়া হয়েছিল। এদিন সেই আরজি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। তাঁদের বক্তব্য, রায় বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার ক্ষেত্রে কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। আট সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি কার্যকর করতে হবে। উল্লেখ্য, ১১ মার্চের রায়ে সরকারকে ছ’মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর আরও দু’মাস কেটে গিয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রকে আরও আট সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত।

Advertisement

সংরক্ষণের সুবিধা ও ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর মর্যাদা নির্ধারণ নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। গত ১১ মার্চ যাবতীয় বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, শুধুমাত্র পিতা-মাতার আয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘ক্রিমি লেয়ার’ হিসাবে চিহ্নিত করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বাবা-মায়ের সামাজিক অবস্থান ও চাকরিতে তাঁদের পদমর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। ওবিসি-ক্রিমি লেয়ার নির্ধারণে বার্ষিক আয়ের সীমা ৮ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে গ্রুপ এ এবং গ্রুপ বি সরকারি কর্মচারীদের সন্তানরা ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। কারণ তাঁদের চাকরির পদমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান অনেকটাই বড়ো। এই রায় বাস্তবায়নের জন্য ছ’মাস সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, দেশজুড়ে এই নীতি নির্ধারণ করতে অন্তত দু’বছর সময় প্রয়োজন। তড়িঘড়ি রায়টি কার্যকর হলে ক্যাডার বণ্টন সহ একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। যাঁরা মামলার পক্ষ নন, তাঁরাও বিপাকে পড়বেন। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, রায়টি অতীতের কোনো নিয়োগে প্রভাব ফেলবে না। এটি মামলাকারী প্রার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য। তাই সময় চাওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। আট সপ্তাহের মধ্যে রায় কার্যকর করতে হবে।