


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মনোনীত রাষ্ট্রপতি তানিয়া পাল সোমবার নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছে। মোট ভোটার ৩৫৬। ভোট পড়েছে ৩০৮টি। কারণ অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারেনি ৪৮ জন। ভোটে জিতেছে ১৯ সদস্য। নির্বাচিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য দপ্তরের মন্ত্রী।
লোকসভা কিংবা বিধানসভা নয়। তবুও ভোটের উত্তেজনায় খামতি ছিল না দত্তপুকুর আদর্শ প্রাইমারি স্কুলের শিশু সংসদ নির্বাচনে। বৃহস্পতিবার দেখা গিয়েছে, ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, প্রিসাইডিং অফিসার সবই রয়েছে। অন্য নির্বাচনের ঢঙেই হয়েছে শিশু সংসদের ভোট। তবে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল না। কারণ অশান্তির কোনো ভয় ছিল না। প্রাইমারির তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়ারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকেই এই স্কুলে শিশু সংসদ নির্বাচন হচ্ছে।
চলতি বছর ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ৩ মার্চ। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল ৬ মার্চ। এরপর তিনটি শ্রেণিতে গিয়ে প্রার্থীরা ভোটের প্রচারও চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ ঘিরে স্কুলে সাজ সাজ রব। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত ভোটপর্ব চলেছে। স্কুলে তৈরি হয়েছিল তিনটি বুথ। প্রতিটি বুথের সামনেই ভোটারদের লম্বা লাইন। ক্যাম্প অফিস থেকে দেওয়া বিলি হয়েছে ভোটের স্লিপ। বুথের বাইরে পড়ুয়ারা হাসি-ঠাট্টা করেছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। তবে ভোটকক্ষের ভিতরে কিন্তু গম্ভীর পরিবেশ। ভোট গ্রহণের দায়িত্ব ছিল স্কুল শিক্ষিকা রিমা দাস ও চণ্ডী দাস মণ্ডলের উপর। প্রিসাইডিং অফিসারের ভূমিকা সামলায় পঞ্চম শ্রেণির তানিয়া পাল, সোহম পাল ও ঈশান শর্মা। ভোটাররা একে একে ঘরে ঢুকে নিজেদের নাম বলেছে। খাতায় সই করেছে। তার সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তারপর দেওয়া হয়েছে ব্যালট পেপার। ব্যালটে ২৪ প্রার্থীর নাম ও ছবি ছাপা রয়েছে। কোনও প্রতীক নেই। ছবিই হল প্রতীক। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে ‘টিক’ চিহ্ন দিয়ে ব্যালট বাক্সে ফেলেছে। ভোটগ্রহণ শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশ। প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে ১৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ভোটারদের কথায়, এখানে ছাপ্পা বা রিগিংয়ের কোনও অভিযোগ ওঠেনি। সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে পঞ্চম শ্রেণির সৃঞ্জয় দত্ত। ৮৭টি ভোট পেয়ে সে শিশু সংসদের প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী হয়েছে বুলেট মণ্ডল। খাদ্যমন্ত্রী তৃষা দেবনাথ। স্বাস্থ্যের দায়িত্ব পেয়েছে অঙ্কিতা পাল। ক্রীড়ামন্ত্রী ইয়াসমিন সরকার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন দে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য এই নির্বাচন। নির্বাচনের পরিবেশ কেমন সেটাও ওরা এখান থেকে কাছ থেকে দেখল।’ নির্বাচিত মন্ত্রীরা আগামী একবছর স্কুলের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব সামলাবে। এক্ষেত্রে ক্রীড়া শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে খেলাধুলোর দায়িত্ব নেবে ক্রীড়ামন্ত্রী। একইভাবে পড়াশোনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন শিক্ষামন্ত্রী।