নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে তিথি ভোজনের নির্দেশ দিল নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তর। বিশেষ দিনে পড়ুয়াদের ভিন্ন স্বাদ ও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশনের একটি উদ্যোগ হল এই তিথি ভোজন। জন্মদিন বা বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো বিশেষ দিনে সামাজিক উদ্যোগে কিংবা কোনো দাতার আর্থিক সাহায্যে এটি পালিত হবে। এই কাজে যাঁরা এগিয়ে আসতে চান, তাঁদের উৎসাহ দিতে হবে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের।
যে পুষ্টিকর খাবার এখন বাচ্চাদের দেওয়া হয়, তার সঙ্গে আপস না করে মাঝে মধ্যে তিথি ভোজনের মাধ্যমে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্প স্কুলের মিড ডে মিলে আগেই চালু হয়েছিল। এবার এই প্রথম অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেও তা শুরু হতে চলেছে। কীভাবে এই প্রকল্প চালানো হবে, সে ব্যাপারে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) দেওয়া হয়েছে জেলাগুলিকে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো সংস্থা, ব্যক্তি বা শুভানুধ্যায়ীকে জোর করে এই কাজে যুক্ত করা যাবে না। স্বেচ্ছায় কেউ রাজি হলে তবেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা যাবে। তাদের কী কী খাবার দেওয়া হবে, তা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেমন প্যাকেট করা বিস্কুট, মরশুমি ফল, সুজি, ছাতু ইত্যাদি। তবে মেয়াদোতীর্ণ খাবার যাতে না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের। রান্না করা খাবার, কাটা ফল, দুধ ইত্যাদি দেওয়া যাবে না। এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করার দায়িত্ব এই কর্মীদের নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে দপ্তর। তাঁরা পাড়া বা গ্রামে ঘুরে সেইসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করবেন, যাঁরা স্বেচ্ছায় এই কাজে সাহায্য করতে রাজি। এরপর অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে তিথি ভোজনের দিনস্থির করবেন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণকে আরও ত্বরান্বিত করা এবং একইসঙ্গে কোনো বিশেষ দিনকে উদযাপন করার মাধ্যমে শিশুমনের বিকাশ ঘটানো।