নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মূল কলকাতার সঙ্গে বেহালা, ঠাকুরপুকুর, জোকার বিভিন্ন রাস্তার সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। কিন্তু, বছরের বেশিরভাগ সময় সেই মতিলাল গুপ্ত রোডের অবস্থা বেহাল থাকে বলে অভিযোগ। বারে বারে প্যাচওয়ার্ক হয়। কিন্তু বর্ষা এলেই ফের রাস্তার ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যায় রাস্তা। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গত কয়েক বছর ধরেই এই রাস্তায় ভূগর্ভস্থ নিকাশিনালা তৈরির কাজ চলেছে। এখনও বিভিন্ন জায়গায় অলিগলিতে নর্দমা সংস্কার হয়নি। এই কারণে রাস্তাটি সার্বিকভাবে সংস্কার করা যায়নি।
টালিগঞ্জে ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের করুণাময়ী ঘাট রোড, রাজা রামমোহন রায় রোড রয়েছে এই রাস্তার একদিকে। অন্যদিকে সোদপুর রোড ও কালীতলা অঞ্চলকে যুক্ত করেছে মতিলাল গুপ্ত রোড। পরে সোজা গিয়ে মিশেছে বড়িশায় জেমস লং সরণিতে। কিন্তু গোটা রাস্তা না হলেও বহু জায়গায় অবস্থা শোচনীয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছর পুজোর আগে প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছিল। তারপর এই রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ফের গর্ত তৈরি হয়েছে। গোটা রাস্তাই অসমান, ঢেউ খেলানো। গাড়ি চালাতে গিয়ে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা হয় চালকদের। এই পথে অটো রুট রয়েছে। ঝাঁকুনির ঠেলায় প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা হয় অটোর যাত্রীদের। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ব্যানার টাঙিয়ে জানিয়েছে, ‘এই রাস্তায় ভারী যান চালাচল বন্ধ!’
অটোচালক সুরেশ সাউ বলেন, বারে বারে জোড়াতাপ্পি দেওয়া হয়। শেষ কবে এই রাস্তা ভালো ছিল, মনে পড়ছে না। কয়েক মাস আগেও একবার প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির জলে সব ধুয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা অনিন্দ্য গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বাম আমলেও এই রাস্তার হাল ভালো ছিল না। তৃণমূলের আমলে প্রথম দিকে ঠিকঠাক থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে কেইআইআইপি প্রকল্পের কাজে রাস্তার নীচে বড়ো বড়ো পাইপলাইন বসেছে। সেই থেকেই রাস্তার অবস্থা খারাপ। বছর বছর পুজোর আগে প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছিল। তারপর বর্ষা আসতেই আবার যে কে সেই অবস্থা!
এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওখানে নিকাশি পাইপলাইন বসানোর কাজ হয়ে গেলেও অলিগলি বা বাড়ি বাড়ি কানেকশন দেওয়ার কাজ এখনও বাকি রয়েছে। যেখানে যেখানে ওই কাজ হয়েছে, সেখানে রাস্তা মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সার্বিক সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, গত বছর দুর্গাপুজোর আগে এবং চলতি বছর ভোটের আগে মতিলাল গুপ্ত রোডে প্যাচওয়ার্ক করা হয়েছিল। কিন্তু কবে এই রাস্তা ফের মসৃণ হবে, চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আসবে, সেই উত্তর কেউ জানে না।