নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: খুঁটিপুজোয় তো অবশ্যই, তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকত পুজো উদ্বোধনেও। কিন্তু পালাবদলের পর বদলে গিয়েছে চেনা ছবি! এবার খুঁটিপুজোয় নিজের ওয়ার্ডেই ডাক পেলেন না বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ব্লকের মহিলা এবং সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে রবিবার আড়ম্বরের সঙ্গে খুঁটিপুজো সারল সল্টলেকে এ কে ব্লক অ্যাসোসিয়েশন। প্রতিবার অভিনব থিমে নজর কাড়ে এই পুজো কমিটি। এবারও অবশ্য তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ‘অন্য কথা, অন্নের কথা’ থিমে সেজে উঠবে তাদের এবারের মণ্ডপ। থিমের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ট্যাগলাইন—‘অন্ন ঘ্রাণের অঙ্গীকার’। মণ্ডপে ঢুকলেই মিলবে গরম ভাতের সুবাস।
সল্টলেকে এ কে ব্লক অ্যাসোসিয়েশন বিধাননগর পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কৃষ্ণা চক্রবর্তী ছিলেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র। প্রতি বছর তাঁকে খুঁটিপুজো এবং পুজোর উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হত। গতবারও এসেছিলেন। উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধনেও। রাজ্যে পালাবদলের পর মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। পুরবোর্ডও ভেঙে গিয়েছে। প্রশাসক বসিয়েছে সরকার। এই আবহে রবিবার ছিল সল্টলেক এ কে ব্লক অ্যাসোসিয়েশনের খুঁটিপুজো। ব্লকের নাগরিকরাই এই পুজো আয়োজন করেন। তাঁদের কথায়, মেয়র হিসাবেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হত। এই পুজোয় কোনো রাজনৈতিক নেতা কখনও দায়িত্ব পাননি। ব্লকের আবাসিকরাই দায়িত্ব সামলেছেন বরাবর। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে না।’
সল্টলেকের বড়ো পুজো মানেই এ কে ব্লক। ২০২৪ সালে এই মণ্ডপে ঢুকেই বৃষ্টির আনন্দে ভিজেছিলেন হাজার হাজার দর্শনার্থী। ‘বারিবিন্দু’ থিম মন কেড়ে নিয়েছিল সকলের। গতবার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ঋত্বিক ঘটকের থিমে সেজে উঠেছিল মণ্ডপ। এবার ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’র ভাবনাতেই সাজিয়ে তোলা হবে মণ্ডপ।
এ কে ব্লক অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্ণধার রাজা বণিক বলেন, ‘আমাদের কমিটিতে কোনোদিনই রাজনৈতিক নেতারা ছিলেন না। ব্লকের মানুষই বরাবর পুজো করে আসছেন। অন্য কথা, অন্নের কথা থিম অনেকটা অন্নপূর্ণা যোজনার সঙ্গে মিলে গিয়েছে। তবে অন্নপূর্ণার কাছে ঈশ্বরী পাটনির সেই প্রার্থনার ভাবনাতেই সেজে উঠবে মণ্ডপ। অন্য স্বাদ পাবেন দর্শনার্থীরা।’