নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাণ্ডবলীলা চলল নার্সিংহোমে। ভাঙচুর করা হয় চিকিৎসার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। লুটপাট করা হয়েছে ক্যাশ কাউন্টারে রাখা টাকা। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বাঁকড়ার সলপ ব্রিজের কাছে একটি নার্সিংহোমে। শতাধিক দুষ্কৃতী হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ডোমজুড় থানার পুলিস।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ মুন্সিরডাঙা শেখপাড়া এলাকা থেকে পেটে-বুকে যন্ত্রণা নিয়ে বছর আটত্রিশের এক বধূকে ওই নার্সিংহোমে নিয়ে আসে পরিবারের লোকজন। পরিবারের কাছে বধূর শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট না থাকায় পরের দিন ভর্তি করানোর কথা জানায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। এরপর রোগীর পরিবার জোরাজুরি করলে তাঁকে ভর্তি নেয় নার্সিংহোম। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়।
নার্সিংহোমের দাবি, কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে ব্যথা উপশমের ইঞ্জেকশন দেন। কিন্তু চিকিৎসা শুরু হওয়ার দশ মিনিটের মধ্যেই আচমকা হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয় রোগীর। অভিযোগ, এরপরেই নার্সিংহোমের ভিতরে ঝামেলা শুরু করেন রোগীর পরিবারের লোকেরা। রাত বারোটা নাগাদ প্রায় শ’দুয়েক দুষ্কৃতী এসে নার্সিংহোমের বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে নার্সিংহোমের দুই কর্মীকেও মারধর করা হয়।
আধঘণ্টা পর দুষ্কৃতী দল নার্সিংহোমের ভিতরে ঢুকে পড়ে। চেয়ার, টেবিল, সিলিং ভাঙচুর করা হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এক্স রে মেশিন। স্বাস্থ্যসাথী কাউন্টারের কাগজপত্র ছিড়ে ফেলে দুষ্কৃতীরা। এমনকী ক্যাশ কাউন্টারে রাখা প্রায় ৫০ হাজার টাকাও লুট করা হয় বলে অভিযোগ নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের। নার্সিংহোমের মালিক ডাঃ শেখ আয়ুব হোসেন বলেন, রোগীর ব্লাড প্রেসার অনেক কম ছিল। হার্ট রেট খুব দ্রুত ছিল। আচমকাই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুষ্কৃতীরা হাসপাতালে তাণ্ডব চালায়। থানায় খবর দেওয়ার অনেক পরে পুলিস আসে।