নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনে পরিকাঠামোগত খামতি আছে। তাই এখানে পর্যটক কম আসেন। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি এবং প্রজেক্ট এলিফ্যান্ট স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে এমনই অভিযোগ করলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রকের মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে এদিন তিনি বলেন, অনেক সুযোগ আছে এই জায়গাকে উন্নত করার। কিন্তু হয়নি। তাই পর্যটক খুব বেশি আসেন না। সুন্দরবনের তুলনায় আয়তনে ছোট জঙ্গল এলাকায় এর চেয়ে বেশি লোকজন যায়। এখানেই থামেননি মন্ত্রী। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরেই তুলনা টানেন। ভূপেন্দ্র যাদবের কথায়, রাজস্থানের রনোথম্বর সুন্দরবনের থেকে অনেক ছোট। সেখানে গত পাঁচবছরে ১৮-১৯ লক্ষ পর্যটক গিয়েছেন। কিন্তু সুন্দরবনে এসেছেন সাড়ে নয় থেকে দশ লক্ষ মানুষ। আগামীদিনে এই সুন্দরবনকে তাঁরাই সুন্দর করে তুলবেন বলে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যদিও তাঁর যাবতীয় অভিযোগ ও দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। তাঁর দাবি, সুন্দরবন এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবছর সুন্দরবন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিন্তু কেন্দ্রের তরফে পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনওরকম সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকহাজার মানুষের বাড়ি ভেঙে গিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। অথচ সেখানে বাড়ি তৈরির টাকা দেয়নি কেন্দ্র। তাই বাংলার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজের দপ্তরটা দেখুন। কেন বাংলার মানুষকে ধারাবাহিকভাবে বঞ্চনা করে চলেছেন তাঁরা? পাশাপাশি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সংযোজন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে বাংলায় এসে ভূপেন্দ্র যাদব বিজেপির এজেন্ডা পূরণ করছেন। উনি আগে নিজের দপ্তরের দিকেই নজর দিন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রেনের ধাক্কায় ক্রমাগত হাতির মৃত্যু হচ্ছে। ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতার প্রশ্ন, সেই ব্যাপারে ভূপেন্দ্র যাদবের দপ্তর কেন কোনও পদক্ষেপ করতে পারছে না?



