নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশনের উপর যাত্রী চাপ কমাতে শালিমারকে টার্মিনাল স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। এটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন হলেও এখানে প্রয়োজনের তুলনায় প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা অনেক কম। ফলে অতিরিক্ত ট্রেন চালানো কিংবা সময় মেনে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে শালিমারে একাধিক সমস্যা রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং পরিষেবা বাড়াতে আরও দু’টি প্ল্যাটফর্ম দ্রুত চালু হতে চলেছে শালিমার স্টেশনে। উৎসব মরশুমে হাওড়া থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে এবার বাড়তি সুবিধা মিলবে বলে মনে করছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে শালিমার স্টেশনের ১, ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ঝাড়খণ্ড, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, সেকেন্দ্রাবাদ, মুম্বই, পুরী, বিশাখাপত্তনম, পাটনা সহ একাধিক রুটের মোট ২৮টি ট্রেন ছাড়ে। এছাড়াও উৎসব মরশুমে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অসম, নাগপুর, চেন্নাই সেন্ট্রাল সহ কিছু রুট মিলিয়ে আরও সাতটি স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। এক সময় হাওড়া ও কলকাতার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্যই শালিমারকে টার্মিনাল স্টেশন হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব রেলে প্রতি বছর যাত্রী চাপ ক্রমে বাড়তে থাকায় যাত্রী পরিবহণেও শালিমার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে শালিমার স্টেশনে ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বরে এই দুই প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন চলাচল শুরু করবে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্ম আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। ১২ মিটার দীর্ঘ জোড়া ফুট ওভারব্রিজের মাধ্যমে ১, ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এবং নতুন ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মকে যুক্ত করা হবে। থাকছে এসকেলেটর পরিষেবাও।
শালিমার স্টেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট এরিয়া ম্যানেজার জয়নাথ শর্মা বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে শালিমার থেকে ট্রেন না ছাড়া পর্যন্ত আপ লাইনের ট্রেনকে দীর্ঘক্ষণ সাঁতরাগাছি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এতে অনেকটা সময় নষ্ট হয়। এবার থেকে সেই সমস্যা মিটবে।’ টাইম টেবিল মেনে ট্রেন চালানো সম্ভব হলে স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী দিনে নিত্য যাতায়াত করা ট্রেনের সংখ্যাও বাড়বে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ। তা হলে হাওড়া স্টেশনের উপর চাপ আরও কমবে। উৎসব মরশুমে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়ও সামাল দেওয়া যাবে। যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বুধবার শালিমার স্টেশনে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে একটি প্রদর্শনী করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রেলের পদস্থ আধিকারিকরা।