Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

নিউইয়র্কে গোপনে বৈঠক করলেন এলন মাস্ক ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের ইরানের দূত! চর্চা আন্তর্জাতিক মহলে

যুদ্ধ থামাতে চেষ্টা করবেন! নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এমনই দাবি বারবার করেছিলেন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাহলে কী সেই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন তিনি? এমনটাই প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।

নিউইয়র্কে গোপনে বৈঠক করলেন এলন মাস্ক ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের ইরানের দূত! চর্চা আন্তর্জাতিক মহলে
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
নিউইয়র্ক, ১৫ নভেম্বর: যুদ্ধ থামাতে চেষ্টা করবেন! নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এমনই দাবি বারবার করেছিলেন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাহলে কী সেই পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন তিনি? এমনটাই প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ একাধিক বিদেশি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউইয়র্কে গোপনে নাকি বৈঠক করেছেন ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ তথা এক্স কর্তা এলন মাস্ক ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের ইরানের দূত সাঈদ ইরাভানি। সূত্রের খবর, তাঁদের দু’জনের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে তা ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে উত্তেজনা চলছে তা এবারে থামাতে চাইছেন ট্রাম্প। সেই কারণেই নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ইরানের দূতের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন ধনকুবের মাস্ক। একই সঙ্গে এই বৈঠকের মাধ্যমে ইজরায়েলকেও ঘুরিয়ে বার্তাও দিতে চাইছেন ট্রাম্প।
Advertisement
হামাসের সঙ্গে ইজরায়েলের যুদ্ধের সূত্রপাতের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ায় অস্থির পরিস্থিতি। শুরুটা হামাস বনাম ইজরায়েলের মধ্যে হলেও ধীরে ধীরে তাতে জড়িয়ে পড়েছে একাধিক জঙ্গি সংগঠন এবং দেশ। যার মধ্যে যেমন রয়েছে হিজবুল্লা, হুথির মতো জঙ্গি গোষ্ঠী। আবার রয়েছে লেবানন, ইরানের মতো দেশও। তাই মধ্যপ্রাচ্য এখন অশান্ত। ধাক্কা খাচ্ছে বাণিজ্য। সবদিক ভেবেই তাই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দীর্ঘদিনের ঠাণ্ডাযুদ্ধে লাগাম টানতে চাইছেন হবু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ট্রাম্পের নির্দেশেই এই গোপন বৈঠক হয়। একই সঙ্গে ইজরায়েলের পাশেও দাঁড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তেল আবিবে যে বর্বর হামলা চালিয়েছিলে হামাস তার তীব্র নিন্দা আগেই করেছে আমেরিকা। তাই ইজরায়েল যখন গাজায় পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে তখন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে তেল আবিবকেই সাহায্য করেছে আমেরিকা। এমনকী ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানো এবং সেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে না আমেরিকা। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ কমিটি ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এইসব অভিযোগের সঙ্গে ওয়াশিংটন একমত হয়নি। ইজরায়েলের যুদ্ধপদ্ধতি গণহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ওই কমিটির প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে ইজরায়েল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গাজায় খাদ্যাভাব এবং এর কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুকে ইজরায়েল যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই প্রসঙ্গে আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ‘এই অভিযোগের সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি।’ বেদান্ত আরও বলেন, ‘কোনও এলাকায় নির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের সময় সেখানকার নাগরিকদের এলাকা খালি করতে বলা একেবারেই সংগতিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য। আমরা নির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক কোনও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা দেখিনি।’ এখানেই স্পষ্ট যে ট্রাম্প যেমন ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ তিক্ততা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে ব্যবসা বাড়াতে চাইছেন। উল্টোদিকে ইজরায়েলকেও না চটিয়ে নিজেদের বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ