Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিউ ফরাক্কা স্টেশনে পাঁচ লক্ষ টাকার জালনোট সহ ধৃত যুবক

নিউ ফরাক্কা স্টেশনে পাঁচ লক্ষ টাকার জালনোট সহ ধৃত যুবক
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: কথায় আছে ‘চোরের মন পুলিস পুলিস’। বাস্তবেও সেটাই ঘটে গেল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ ফরাক্কা স্টেশনে রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিল জিআরপি। পুলিস দেখে ঘাবড়ে যায় এক জালনোট কারবারি। পুলিস দেখেই দৌড় দেয় সে। সন্দেহ হওয়ায় তার পিছু ধাওয়া করে পুলিস। বেশ কিছুটা ছুটে গিয়ে ওই জালনোট কারবারিকে ধরে ফেলে তারা। তাকে আটক করে তল্লাশি চালাতেই ব্যাগ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়। তারপরেই পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতের নাম গোপন রেখেছে পুলিস। তার বাড়ি মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায়। জালনোটগুলি সে হাতবদল করতে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জেরায় স্বীকার করেছে, দাবি পুলিসের। বুধবার তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ধৃতের ৫ দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। জালনোট চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস।
Advertisement
জিআরপির ডিএসপি(শিলিগুড়ি) পারিজাত সরকার বলেন, রুটিন তল্লাশির চালানোর সময় এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পুলিসের সন্দেহ হয়। তাকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাগ থেকে চার লক্ষ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ ফরাক্কা স্টেশনে সাধারণ যাত্রী সেজে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল বছর ৩২-র এক যুবক। তার সঙ্গে ছোট একটি হাতব্যাগ ছিল। স্টেশনে রুটিন তল্লাশি শুরু করে জিআরপি। পুলিস দেখে ওই যুবক স্টেশনের অন্যত্র সরে যায়। পুলিস অন্য যাত্রীদের ব্যাগে তল্লাশি শুরু করলে ওই যাত্রী ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। তার ছুটে পালানোয় পুলিসের সন্দেহ বাড়িয়ে তোলে। পিছু ধাওয়া করে স্টেশন চত্বরেই যুবককে ধরে ফেলে পুলিস। তার ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার বাণ্ডিল পাওয়া যায়। সবই ভারতীয় জাল নোট। ধৃত যুবক জালনোটগুলি দিল্লিতে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। তারজন্য সে ট্রেন ধরতে আসে। যদিও তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় পুলিস। আগেও একাধিক জাল নোটের কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ব্যাপকহারে জালনোট ঢোকায় চিন্তা বাড়ছে গোয়েন্দাদের। 
আরও জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানের তৈরি এই জালনোট লাগাতার ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডের এজেন্টরা এই কারবারে সক্রিয়। সাধারণত দু’টি করিডর দিয়ে পাকিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণে নোট এদেশে ঢুকছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের। পাকিস্তানের লাহোর থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে জলপথে বাংলাদেশ ঢুকছে। পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে নেপাল হয়ে বাংলাদেশ হয়ে এদেশে ঢুকছে। সেই নোট বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মালদহ ও মুর্শিদাবাদ দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে। মূলত মালদহের বৈষ্ণবনগর হয়েই অধিকাংশ নোটগুলি আসছে। এদিনের নোটগুলি মালদহ থেকে আনা হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। জালনোটগুলি এতটাই আসলের মতো দেখতে যে খালি চোখে তা সহজে বুঝতে পারা যাচ্ছে না। মেশিনে পরীক্ষা করলেই তা বোঝা যাচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ