


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর পাঁচটা দিনের মতোই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বাভাবিক চলছিল বিমান পরিষেবা। আন্তর্জাতিক এবং অন্তর্দেশীয় বিমান আসা-যাওয়া করছিল যথাসময়েই। কিন্তু রাত ৯টা ৩৪ মিনিটের একটি ফোনেই নড়েচড়ে উঠল কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে খবর আসে, হাইজ্যাক করা হয়েছে বিমান! আর ওই ইমারজেন্সি ফোন কলটাই কালঘাম ছুটিয়ে দেয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অফিসারদের। যাত্রীদের কীভাবে নিরাপদে উদ্ধার করা হবে, তা নিয়েই চিন্তা শুরু হয় কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত। যদিও সুরক্ষা বাহিনীর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় হাইজ্যাক হওয়া ওই বিমানের সমস্ত যাত্রীকে অত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। আর ধরাও পড়ে উগ্রপন্থীরা। এভাবেই গোটা ঘটনার মহড়া হল কলকাতা বিমানবন্দরে।
যেহেতু সামনেই দেশের স্বাধীনতা দিবস, তাই এখন থেকেই সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করার দিকে এগিয়েছে দেশের সুরক্ষা বাহিনী। এই তালিকায় রয়েছে বিমানবন্দর। যদি একটি বিমান উগ্রপন্থীরা হাইজ্যাক করে, তাহলে সন্ত্রাসবাদীদের কীভাবে দমন করে যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা যাবে, সেই সংক্রান্ত গোটা ঘটনার মহড়া হল কলকাতা বিমানবন্দরে। শুক্র ও শনিবার দুটি পর্যায়ে এই মহড়া হয়েছে।
বিষয়টি ছিল এরকম—‘এ ৩২০’ বিমান হাইজ্যাক করা হয়েছে, এমন একটি খবর আসে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে। কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিমান হাইজ্যাক করা হয়েছে, এমনটাই বার্তা দেওয়া হয়। বিমানে ছিলেন ক্রু মেম্বারসহ ৭৫ জন। এরপরই এই খবরটি পৌঁছে যায় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে। দ্রুত অ্যালার্ট মেসেজ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন বিভিন্ন শাখার শীর্ষ আধিকারিকরা বৈঠকে বসেন। কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথমেই সিআরপিএফের কুইক রেসপন্স টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারপর সেখানে পৌঁছয় ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের টিম। অন্যদিকে, তখন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা উগ্রপন্থীদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সন্ত্রাসবাদীদের দাবি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। কিন্তু এই আলোচনা ব্যর্থ হয়। সন্ত্রাসবাদীদের দাবি মানতে রাজি হয়নি সরকার পক্ষ। তখন সুকৌশলে পাল্টা ‘কাউন্টার অ্যাটাকের’ দিকে যায় এনএসজি। আর তাতেই ধরা পড়ে যায় উগ্রপন্থীরা। এনএসজি কাউন্টার হাইজ্যাক টাস্ক ফোর্স দুর্দান্তভাবে সফল হয়। রাত সওয়া ২টোয় এই অপারেশন শেষ হয়।
অন্যদিকে, আরও একটি ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসবাদীরা এয়ারপোর্ট অফিসে হানা দেয়। বিমানবন্দরের ১২ জন কর্মীকে উগ্রপন্থীরা আটক করে রাখে। এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর সেখানে পৌঁছে যায় এনএসজি এবং রাজ্য পুলিসের স্পেশাল টাক্স ফোর্স। এয়ারপোর্ট বিল্ডিংয়ের ওই অফিসে সনিপুণভাবে অপারেশন চালিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের বাগে আনা হয়। বিমানবন্দরের ১২ জন কর্মীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় উগ্রপন্থী ধরা পড়ে ছ’জন। সন্ত্রাস-বিরোধী এই মহড়ায় ছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, এনএসজি, সিআরপিএফ, রাজ্য পুলিস এবং এটিসি।