নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নির্দিষ্ট একটি প্রকাশনীর বই না কেনায় প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে। পড়ুয়ারা প্রতিবাদ করায় তাঁদের দিকে মধ্যমা উঁচিয়ে অশ্লীল গালিগালাজ করারও অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজে। কলেজের ফার্মাসি বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা ডাঃ চন্দ্রিমা রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এদিন অধ্যক্ষের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অধ্যক্ষ।
Advertisement
গত নভেম্বর মাস থেকে মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের ক্লাস শুরু হয়। অভিযোগ, এই তিন মাসের মধ্যে একদিনও প্রথম বর্ষের ক্লাস করাতে আসেননি চন্দ্রিমা রায়। এমনকী, ভিজিটিং ফিজিশিয়ান হিসেবে গত দেড় বছরে হাসপাতালের ওপিডিতে রোগীও দেখেননি তিনি। পড়ুয়াদের অভিযোগ, ক্লাস শুরুর প্রথম থেকেই একটি নির্দিষ্ট প্রকাশনীর বই কিনতে হবে বলে তাঁদের চাপ দিতেন ওই অধ্যাপিকা। শুধু তাই নয়, প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের মোটা অঙ্কের বেতন দিয়ে তাঁর কাছে টিউশন পড়ার জন্যও চাপ দিতেন তিনি। নির্দিষ্ট বই না কিনলে কিংবা তাঁর কাছে টিউশন না পড়লে পড়ুয়াদের ফেল করিয়ে দেবেন বলেও হুমকি দিতেন এই অধ্যাপিকা। এ নিয়ে সপ্তাহ দুয়েক আগে তাঁর বিরুদ্ধে কলেজের প্রিন্সিপাল, রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যভবনে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র জমা দেন পড়ুয়ারা। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে কলেজে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে ফার্মাসির ক্লাস নিতে আসেন অধ্যাপিকা চন্দ্রিমাদেবী। ক্লাসে ঢোকার পরেই তিনি জানতে চান, কোন কোন পড়ুয়া নতুন বই কিনেছেন? যাঁরা নতুন বই কিনতে পারেননি, তাঁদের ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তখনই প্রতিবাদে সরব হন পড়ুয়ারা। অভিযোগ, এরপর আচমকা মেজাজ হারিয়ে ওই অধ্যাপিকা ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে আঙুলের মধ্যমা প্রদর্শন করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। প্রতিবাদে ওই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের সামনে বিক্ষোভে বসেন পড়ুয়ারা। কলেজে অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে পোস্টারও পড়ে।
ছাত্র সংসদের সভাপতি অরিন্দম ভট্টাচার্য বলেন, ‘কলেজে টিউশন সিন্ডিকেট গজিয়ে উঠছে। ওই অধ্যাপিকার কাছে টিউশন না পড়লে কিংবা নির্দিষ্ট একটি প্রকাশনীর বই না কিনলে পড়ুয়াদের ফেল করানোর হুমকি দিচ্ছেন তিনি। তাঁকে অবিলম্বে এই কলেজ থেকে সরাতে হবে। এই দাবিতেই আমরা বিক্ষোভে নেমেছি।’ প্রথম বর্ষের পড়ুয়া দীপায়ন ভৌমিক, শুভম মালাকার, সৌমিলি বল্লভ, রুমকি বিষয়ীরা বলেন, ‘সবার পক্ষে অনেক টাকা দিয়ে নতুন বই কেনা সম্ভব না। অনেকেই আছেন, যাঁরা লাইব্রেরি কিংবা সিনিয়রদের থেকে বই সংগ্রহ করে পড়াশোনা করেন। কিন্তু ওই অধ্যাপিকা আমাদের সঙ্গে যে ধরনের ব্যবহার করছেন, তাতে ক্লাস করাই দুঃসহ হয়ে উঠেছে।’ চন্দ্রিমাদেবীর বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে অনশনের হুমকি দেন তাঁরা। এদিকে, অভিযুক্ত অধ্যাপিকা বলেন, ‘পড়ুয়ারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ভিত্তিহীন। তাঁদের ভালোর জন্যই আমি নতুন বই কিনতে বলেছিলাম। পড়ুয়াদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া হয়েছে।’
মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মাধবানন্দ সাহা সব দিক খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এদিন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ঠিক কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি।’
ছাত্র সংসদের সভাপতি অরিন্দম ভট্টাচার্য বলেন, ‘কলেজে টিউশন সিন্ডিকেট গজিয়ে উঠছে। ওই অধ্যাপিকার কাছে টিউশন না পড়লে কিংবা নির্দিষ্ট একটি প্রকাশনীর বই না কিনলে পড়ুয়াদের ফেল করানোর হুমকি দিচ্ছেন তিনি। তাঁকে অবিলম্বে এই কলেজ থেকে সরাতে হবে। এই দাবিতেই আমরা বিক্ষোভে নেমেছি।’ প্রথম বর্ষের পড়ুয়া দীপায়ন ভৌমিক, শুভম মালাকার, সৌমিলি বল্লভ, রুমকি বিষয়ীরা বলেন, ‘সবার পক্ষে অনেক টাকা দিয়ে নতুন বই কেনা সম্ভব না। অনেকেই আছেন, যাঁরা লাইব্রেরি কিংবা সিনিয়রদের থেকে বই সংগ্রহ করে পড়াশোনা করেন। কিন্তু ওই অধ্যাপিকা আমাদের সঙ্গে যে ধরনের ব্যবহার করছেন, তাতে ক্লাস করাই দুঃসহ হয়ে উঠেছে।’ চন্দ্রিমাদেবীর বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে অনশনের হুমকি দেন তাঁরা। এদিকে, অভিযুক্ত অধ্যাপিকা বলেন, ‘পড়ুয়ারা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ভিত্তিহীন। তাঁদের ভালোর জন্যই আমি নতুন বই কিনতে বলেছিলাম। পড়ুয়াদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া হয়েছে।’
মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ মাধবানন্দ সাহা সব দিক খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এদিন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ঠিক কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি।’



