Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

নির্ভেজাল বন্ধুত্ব ছিল জাকির হুসেনের স্মৃতিচারণায় পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়

নির্ভেজাল বন্ধুত্ব ছিল
জাকির হুসেনের স্মৃতিচারণায় পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
জাকির ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ ১৯৭৪ সালে। কলকাতায় অনুষ্ঠান করতে এসেছিলেন। তারপর আমেরিকায় যখনই যেতাম যোগাযোগ হতো। ওঁর পরিবারের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক ছিল। উস্তাদ আল্লারাখা আমায় ছেলের মতো ভালোবাসতেন। জাকির ভাইয়ের সঙ্গে নির্ভেজাল বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। ওঁর মধ্যে কোনওরকম অহংকার ছিল না। একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। আমার জীবনে সবথেকে প্রিয় পাঁচ বন্ধুর মধ্যে জাকির হুসেন ছিলেন অন্যতম। 
Advertisement
কয়েক মাস আগে গুরু পূর্ণিমার অনুষ্ঠানের কথা খুব মনে পড়ছে। আমার পুত্র অনুব্রতর তবলাটা খুব একটা ভালো বলছিল না। তখন জাকিরভাই ওঁর এক ছাত্রকে বলে গ্রিনরুম থেকে নিজের তবলা আনিয়ে দিয়েছিলেন। এভাবেই সবসময় শিল্পীদের পাশে থাকতেন। এই আন্তরিকতা খুব কম শিল্পীর মধ্যে দেখেছি। 
গত বছর আল্লারাখা খাঁ সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকীতে মুম্বইয়ে ছিলাম। আব্বাজি যে বাড়িতে ক্লাস নিতেন সেখানে বৈঠকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সুরেশ ওয়াডকারের গানের সঙ্গে আমি ও জাকির ভাই একসঙ্গে বাজিয়েছিলাম। সেই স্মৃতি সত্যিই ভোলার নয়।‌
দেশের মধ্যে তবলাকে জনপ্রিয় করেছেন পণ্ডিত কিষেন মহারাজ, পণ্ডিত শামতা প্রসাদ প্রমুখ। তবে জাকির ভাই এই বাদ্যযন্ত্রকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। পাশ্চাত্য সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। এই সৃজনশীলতার মাধ্যমেই তবলাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন উস্তাদ জাকির হুসেন। অনেকেই রেওয়াজ করে ভালো তবলা বাজায়। তবে জাকির ভাইয়ের বাজনার মধ্যে একটা অদ্ভুত নান্দনিকতা চিরকাল ছিল। সেটা আর অন্য কারও মধ্যে দেখিনি। যেই শিল্পীর সঙ্গে বাজাতে বসতেন তাঁর মতো করে‌ নিজেকে তৈরি করে নিতেন। এই সহজাত প্রতিভা তবলার জগতে সত্যিই বিরল। বাজনার মাধ্যমে সম্মোহিত করতে পারতেন জাকির ভাই।
সম্পর্কিত সংবাদ