Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার বিদ্রোহের পথে তৃণমূলের এমপিরাও!

তৃণমূলের এমপিরা বিদ্রোহের পথে? ২২ জন সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে চাইছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

এবার বিদ্রোহের পথে তৃণমূলের এমপিরাও!
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধায়কদের পর এবার কি বিদ্রোহের পথে তৃণমূলের এমপিরাও? গত দু’দিন ধরে তৃণমূলের সংসদীয় দলের অন্দরে যেভাবে ‘তৎপরতা’ শুরু হয়েছে, তাতে এমনই জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সন্দীপন সাহাদের পথ অনুসরণ করেই ‘জোট’ বাঁধছেন লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে কমপক্ষে ২২ জন তৃণমূল সাংসদ। বিধায়কদের মতোই নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ‘অনাস্থাজ্ঞাপন’ করতে চাইছে সংসদীয় ‘প্রেশার ব্লক’। অন্য কাউকে লোকসভার দলনেতা করতে চাইছেন তাঁরা। বিদ্রোহের এই আবর্তে পদ্মপার্টির ভূমিকাও রয়েছে। আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে তৃণমূলের সংসদীয় দলকে ‘আড়াআড়ি’ ভাগ করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। কারণ, কেন্দ্রের তরফে ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো নানা বিল আনা হচ্ছে। তাই লোকসভা তো বটেই, রাজ্যসভাতেও সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তার জন্য তৃণমূলের মধ্যে ‘বিভাজন’ জরুরি বলেই মনে করছেন পদ্মপার্টির ম্যানেজাররা। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এক মহিলা এবং এক পুরুষ সাংসদকে ‘অনুঘটক’ সাজিয়ে জোড়াফুল শিবিরের অভ্যন্তরে ‘অপারেশন লোটাস’-এর প্রাথমিক পর্ব শুরু করা হয়েছে। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, কোনো অপারেশনের প্রয়োজন হবে না। যেভাবে অভিষেক বিরোধিতার সুর চড়ছে তৃণমূলের অন্দরে, তাতেই স্পষ্ট যে, তাদের সাংসদরা নিজেরাই ‘আলাদা পরিচয়’ বেছে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। 

Advertisement

গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯টি কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিলেন তৃণমূল প্রার্থীরা। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই হাতেগোনা কয়েকজন এমপি বাদে বাকিদের কোনো খোঁজখবর নেই। লোকসভা কেন্দ্রে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এহেন এমপি’রাই এখন নয়া ‘প্রেশার ব্লক’ গঠনে তৎপর। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, দলনেত্রীর দীর্ঘদিনের সঙ্গী কাকলি ঘোষদস্তিদারকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার সংসদীয় দলের চিফ হুইপ করার পরই তৃণমূলের অভ্যন্তরে ফাটল প্রকট হয়ে উঠেছিল।  বিদ্রোহের সুর শোনা যায় বারাসতের সাংসদের গলায়। সমাজমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন কাকলিদেবী। দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্বও বাড়ে। এরপর বিজেপির বদান্যতায় ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা’ জুটলে কাকলিদেবী নিজেকে আরও গুটিয়ে নেন। এরপর কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলে, তাঁর অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক  চর্চা শুরু হয়। তবে কি কাকলিদেবীর নেতৃত্বেই তৃণমূলের সংসদীয় দলে তৈরি হচ্ছে নয়া ‘প্রেশার ব্লক’? এই বিষয়ে বারাসতের সাংসদ বলেন, ‘বিধানসভার বিষয়টা বিধায়করা বলতে পারবেন। সংসদের বিষয়টা সাংসদরা। সংসদে জুলাইয়ের আগে কোনো অধিবেশন নেই। তাছাড়া এমন কোনো প্রস্তাবও আসেনি। এলে বলব!’ 
সূত্রের খবর, দক্ষিণবঙ্গের সাতজন এমপি এবং উত্তরবঙ্গের এক এমপি ইতিমধ্যেই ঘনিষ্ঠ মহলে অভিষেকের প্রতি অনাস্থা জানাতে শুরু করেছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের মতো তাঁরাও বলছেন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বোচ্চ নেত্রী। উত্তরবঙ্গের ওই এমপি’র স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক সংগীতা বসুনিয়া বৃহস্পতিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত-সন্দীপন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁর স্বামী যে এই মুহূর্তে দিল্লিতে নানা ‘রাজনৈতিক আপডেট’ নিয়ে ব্যস্ত, সে কথাও শুনিয়েছেন তিনি। পালাবদলের পর থেকে হুগলির এক সাংসদ প্রকাশ্যেই বিজেপি তথা মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে বেড়াচ্ছেন। তাতে বেশ অস্বস্তিতে ছিল কালীঘাট। সূত্রের খবর, তৃণমূলের সংসদীয় ‘প্রেশার ব্লক’-এ এই সাংসদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা প্রবল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ