Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এবার নিউটাউনে জৈন মন্দির, উদ্যোগী মমতা

নিউটাউনে তৈরি হতে চলেছে নতুন জৈন মন্দির। বুধবার ভবানীপুরে একটি অনুষ্ঠানে মন্দির তৈরির জন্য জমি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার নিউটাউনে জৈন মন্দির, উদ্যোগী মমতা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউটাউনে তৈরি হতে চলেছে নতুন জৈন মন্দির। বুধবার ভবানীপুরে একটি অনুষ্ঠানে মন্দির তৈরির জন্য জমি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর কাছে একটি নতুন মন্দিরের অনুরোধ করেন। তাঁদের অনুরোধ মেনে নিউটাউনে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মমতা।

Advertisement

এদিন ভবানীপুরের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে জৈন ‘মানস্তম্ভ’ এবং সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেটের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে জৈন মন্দিরে পুজো দেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাস করেন ভার্চুয়াল মাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে বলেন, ‘আমার ভবানীপুর মিনি ভারত। বিভিন্ন জায়গার, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন জাতির মানুষের বসবাস। কোথাও কোনো ঝামেলা-ঝগড়া নেই। কারও কখনো সমস্যা হলে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করি।’ জৈন মন্দিরের অনুরোধ আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মন্দির তো সরকার বানাতে পারে না। আপনারা নিউটাউনে জমি চাইছেন। আগে একটা ট্রাস্ট তৈরি করুন। জমির ব্যবস্থা হয়ে যাবে।’ 
এদিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যের ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার পড়ুয়াকে সবুজসাথীর সাইকেল দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত এর আগে রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ৪৮ লক্ষ সাইকেল দিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি দমকলের জন্য ১০০ আধুনিক বাইক, অত্যাধুনিক ল্যাডার, টালিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০০ এসি ও ২০টি নন এসি সিএনজি বাসেরও উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ২০ জনকে মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। এছাড়া নির্মাণকর্মীদের জন্য শিলিগুড়িতে হস্টেল ও প্রশিক্ষণ শিবির এবং নিউটাউনে সংখ্যালঘু সংস্কৃতি উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এর পাশাপাশি ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জে নতুন থানা শুরুর সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সবমিলিয়ে ৩৯০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ১৪৬টি বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। আর ৪৫৫ কোটি টাকা খরচে ৭০টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মমতা।
অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, তথ্য সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার, কলকাতা পুরসভার কমিশনার সুমিত গুপ্তা, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অসীম বসু, তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। অনুষ্ঠানে ছিলেন জৈন, শিখ, মুসলমান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে এদিন ভিড় ছিল নজরকাড়া। বিভিন্ন রাস্তায় মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমিয়েছিলেন। জনতার সঙ্গে নমস্কার এবং প্রতি নমস্কারে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরে অনুষ্ঠান শেষ করে এসএসকেএম সংলগ্ন গুরুদ্বারে আসেন তিনি। সেখানে নতুন যে তোরণ তৈরি হয়েছে সেই গেটটি দেখেন। তারপর শিখ সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নতুন তোরণ পেয়ে এদিন শিখরা তাঁকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ