ভোপাল: দিল্লির পর মধ্যপ্রদেশ। শনিবার যন্তর মন্তরে অনশনরত সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভরতি করে পুলিশ। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই ধরনের ঘটনার সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর। সেখানকার প্রতিবাদ আন্দোলন বিজেপি সরকার জোর করে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ। কুপি গ্রামে ১৫ দিন ধরে চলছিল কেন-বেতোয়া আন্দোলন। রবিবার সকালে সেই অনশনকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। অভিযোগ, আন্দোলনের নেতা অমিত ভাটনাগর সহ ১৫১ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। এক অফিসার জানান, নির্মীয়মাণ সেতু ও নদীতে আন্দোলন চলছিল। তাই সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কেন-বেতোয়া ভারতের প্রথম নদী সংযোগ প্রকল্প। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের কেন নদীর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বেতওয়া নদীকে জুড়তে চায় সরকার। বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে সেচ ও পানীয় জল সরবরাহ করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ। তবে ৪০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের জেরে বাস্তুহারা প্রায় ২ হাজার পরিবার। তাদের দাবি, পুনর্বাসন, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে হয়নি। বহু মানুষ প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেই অভিযোগকে সামনে রেখে ৩ জুলাই বারানা নদীর পাড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনে বসেন বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। শুরু হয় অনশন কর্মসূচি। একইসঙ্গে চলছিল ‘জল সত্যাগ্রহ’, ‘চিতা সত্যাগ্রহ’ ও প্রতীকী ‘ফাঁসি সত্যাগ্রহ’। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন অমিত। রবিবার বিক্ষোভস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। ঘটনার নিন্দা করেছে কংগ্রেস। তারা বলেছে, দমনমূলক মনোভাব ছেড়ে সেখানকার আদিবাসীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বিজেপি সরকারের।
আন্দোলনের নেত্রী দিব্যা আহিরওয়ার জানান, ভোর ৫টা নাগাদ ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ বাহিনী। পুলিশকে দেখে নদীতে নেমে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। সেখান থেকেই তাঁদের আটক করে পুলিশ। এবিষয়ে ছাতারপুরের অতিরিক্ত এসপি আদিত্য পাটলে বলেন, ‘কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি। অমিত ভটনগর দীর্ঘদিন ধরে অনশন করছিলেন। ফলে স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। সেকথা মাথায় রেখে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের পান্না, ছতরপুর ও সংলগ্ন জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা সবাই বহিরাগত।