Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

এবার বড়ো নোট ভাঙাতে হাইব্রিড এটিএম, মিলবে ১০-২০-৫০ টাকা

বাসে-অটোয় নিত্য ঝামেলা বাধছে। মুদির দোকানেও ক্রেতা-বিক্রেতার বচসা পৌঁছে যাচ্ছে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে। তবে দরাদরি নয়, এ সমস্যা খুচরো নিয়ে। ১০, ২০ টাকার নোট বাজার থেকে প্রায় অদৃশ্য।

এবার বড়ো নোট ভাঙাতে হাইব্রিড এটিএম, মিলবে ১০-২০-৫০ টাকা
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: বাসে-অটোয় নিত্য ঝামেলা বাধছে। মুদির দোকানেও ক্রেতা-বিক্রেতার বচসা পৌঁছে যাচ্ছে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে। তবে দরাদরি নয়, এ সমস্যা খুচরো নিয়ে। ১০, ২০ টাকার নোট বাজার থেকে প্রায় অদৃশ্য। যদিও বা ছেঁড়া-ফাটা নোট পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলি লেনদেনের মতো অবস্থায় নেই। এটিএম থেকে মূলত ৫০০ টাকার নোটই মেলে। এক্ষেত্রে বাজারে খুচরোর সংকট মোকাবিলায় এবার  নোট ভাঙানোর এটিএম আনার কথা ভাবছে সরকার। যার পোশাকি নাম ‘হাইব্রিড এটিএম’। নোট বাতিলের এক দশক পর সরকারের অন্দরে এমনই চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ এই এটিএমে মিলবে ১০-২০-৫০ টাকার নোট।

Advertisement

এখন এটিএম থেকে কেবল নির্দিষ্ট অঙ্কের নদগই পাওয়া যায়। সূত্রের খবর, ‘হাইব্রিড এটিএম’ থেকে মিলবে ভাঙানিও। মেশিনে ৫০০ বা ১০০ টাকা দিয়ে চাহিদা মতো ১০, ২০ বা ৫০ টাকার খুচরো মিলবে নোট বা কয়েনে। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘মুম্বইতে ইতিমধ্যে খুচরো দেওয়ার পাইলট প্রোজেক্ট পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। অনুমতি মিললেই সারাদেশে তা কার্যকর হবে।’ সাধারণ এটিএমের মতোই  ‘হাইব্রিড এটিএম’  বসানো হবে জনবহুল এলাকায়। বিশেষত, বাসস্ট্যান্ড, বাজার এলাকা, হাসপাতাল এবং সরকারি অফিসগুলিকে বাছা হবে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বাজারে খুচরোর চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ ব্যাংককেও আরও বেশি ছোট অঙ্কের নোট ছাপানোর জন্য অনুরোধ করতে পারে কেন্দ্র।

ভারতে এখন ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে দৈনন্দিন কেনাকাটা বা ছোটোখাটো লেনদেনে খুচরোর ব্যবহার এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে যেখানে ইউপিআই ভালোভাবে কাজ করে না বা অনেকের স্মার্টফোন নেই। সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিশেষজ্ঞ মহলের। ইন্ডিয়া রেটিংস অ্যান্ড রিসার্চের মুখ্য অর্থনীতিবিদ দেবেন্দ্র পন্থ বলেন, ‘প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যবসায়ীদের এখনও নগদে কারবার করতে হয়। সেখানে নগদ পৌঁছে দিতেই হবে। জীবনধারণ সহজ করার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই।’ অন্যদিকে, ব্যাংকিং মহলের এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ‘খুচরোর পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে কেবল হাইব্রিড এটিএম এই সমস্যা মেটাতে পারবে না। সমান্তরালভাবে নোট ছাপানো, সেগুলিকে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা এবং ছোটো নোট যাতে বারবার ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ বিবেক আইয়ার আবার মনে করেন, ‘নির্বাচিত কিছু এলাকাতেই হাইব্রিড এটিএম বসাতে হবে। নাহলে তা ব্যাংকগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়বে।’ তাঁর পরামর্শ, যে সমস্ত জায়গায় এখনো ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা যথাযথভাবে গড়ে ওঠেনি, সেখানেই এগুলি চালু করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট এবং খুচরোর ব্যবহারে ভারসাম্য আসবে।

সম্পর্কিত সংবাদ