সংবাদদাতা, মালদহ: চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে মুখ তেতো হয়েছে আমজনতার। এবার দাম একলাফে প্রায় সাড়ে তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের ঝাঁঝে চোখে জল মধ্যবিত্তের। ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম রবিবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকায়। ফলে সপ্তাহান্তের ছুটির দিনে রসিয়ে মাছ-মাংস খাওয়ার মানসিকতা নিয়ে বাজারে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে স্তম্ভিত হয়েছেন মালদহের মধ্যবিত্তরা। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনেককেই। পেঁয়াজের দাম এক ধাক্কায় প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অনেকেই।
গত কয়েক মাস যাবতই স্থির ছিল পেঁয়াজের দাম। ২০ থেকে কখনো ২২ টাকা প্রতি কেজি হলেও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে যায়নি এই নিত্য প্রয়োজনীয় আনাজের দাম। কিন্তু গত তিনদিনে সেই দামই তিন থেকে সাড়ে তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরো ব্যবসায়ীরা। ইংলিশবাজারের ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র পুর বাজারে রবিবার পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি দরে। খুচরো পেঁয়াজ বিক্রেতারা জানান, শনিবারে ৭০ টাকা প্রতি কেজিতে পৌঁছে গিয়েছিল এই মূল্য। রবিবার সামান্য কমেছে। তাঁরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের দাম রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। গত চারদিনে ৫০ টাকার নীচে নামেনি পেঁয়াজের দর। পুরাতন মালদহ সহ জেলার অন্যান্য ব্লকের বাজারগুলিতেও প্রায় একই হাল। ছুটির দিনে বাজারে মাংস কেনার পরে পেঁয়াজ কিনতে এসে দাম শুনে আক্কেল গুড়ুম হয়ে যায় বেসরকারি সংস্থার কর্মী সুখেন রায়ের। পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকা শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত দেড় কেজি পেঁয়াজ কিনতে এসে হাফকেজি কিনেই বাড়ি ফেরেন। পেঁয়াজের চড়া দামের কারণে অনেক ঝালমুড়ি, চপের দোকান থেকেও উধাও হয়ে গিয়েছে পেঁয়াজ।
কেন আচমকা চড়া হল পেঁয়াজের দাম? পিছনে কোনো কালোবাজারি চক্র কাজ করছে কিনা সেই উত্তর নেই কারোর কাছেই। খুচরো ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা পাইকারি বাজারে শুনেছেন জোগানের স্বল্পতার কথা। বিষয়টি জানা ছিল না বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, দ্রুত বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া হবে।