নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জনস্বার্থে রেশন দোকানদারদের দাবি মেনে নিল মোদি সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’ প্রকল্পের চাল-গমের বাইরে এবার রেশন দোকানেও মিলবে সস্তায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। বৃহস্পতিবারই এ ব্যপারে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল কোঅপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (নাফেড)-এর সঙ্গে রেশন দোকানদারদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সঙ্গে মউ চুক্তি হল। তারই ভিত্তিতে নাফেডের জেনারেল ম্যানেজার নীতিন মিশ্র জারি করেছেন বিজ্ঞপ্তি।
সেটি হাতে রেখে ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, মূল্যবৃদ্ধির মোকাবিলায় বহুদিন ধরে আমরা রেশন দোকান থেকে ডাল, ডালিয়া, সয়াবিন, ড্রাইফ্রুটসের মতো নাফেডের ১১৭ রকম সামগ্রী বিক্রির দাবি জানিয়েছি। তাতে কেন্দ্র রাজি হয়েছে। রেশন দোকানকেই ‘নাফেড ফেয়ার প্রাইস পয়েন্ট’ নামে ব্যবহার করা হবে। বাজারদরের চেয়ে সস্তায় রেশন দোকানেই মিলবে উল্লেখিত সামগ্রী। প্রাথমিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি শুরু হবে। পরে ধীরে ধীরে গোটা দেশ।
অন্যদিকে, কোনোভাবেই প্রকৃত রেশন গ্রাহককে খাদ্যশস্য থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে সংসদ থেকে মন্ত্রকের নীতি, সর্বত্র বলা হলেও পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য দপ্তর তা সঠিকভাবে পালন করছে না বলেই অভিযোগ। চারটি উপায়ে গ্রাহকের রেশন কার্ডের নাম্বার মিলিয়ে রেশন দেওয়া যায়। বুড়ো আঙুলের ছাপ অথবা চোখের মণি কিংবা মোবাইলে ওটিপি, নাহলে ম্যানুয়ালি কার্ড নাম্বার লিখে নিয়ে রেশন দেওয়া যায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ওটিপি ব্যবস্থা মানতে চাইছে না নতুন সরকার। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিব সঞ্জীব চোপড়ার কাছে অভিযোগ করেন বিশ্বম্ভরবাবু। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, এ ব্যাপারে রাজ্যের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। আর যাইহোক কোনোভাবেই গরিববের রেশন আটকানো যাবে না।
অন্যদিকে, রেশন দোকানে সঠিক পরিমাণ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের চাল-গম পৌঁছচ্ছে কিনা, মান ঠিক আছে কিনা, কবে তা বস্তাবন্দি হয়েছে, কবে কোন গুদাম থেকে কোন রেশন দোকানে গিয়েছে, তার যাবতীয় নজরদারি চলবে কিউআর কোডে। এবার থেকে কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে খাদ্যশস্যের বস্তায় থাকবে কিউআর কোড। সঙ্গে একদিকে লেখা থাকবে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের লোগো। পরিমাণে গরমিল আটকাতেই কেন্দ্রের এই উদ্যোগ।